দামুড়হুদা বাজারে অর্ধলক্ষ টাকার চিতল মাছ চুরি; দিশেহারা মাছ ব্যবসায়ী !
- আপডেট সময় : ০৭:৪২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ মে ২০২৩ ১৮৩ বার পঠিত

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার প্রানকেন্দ্রে সোনালী ব্যাংক সংলগ্ন স্থানীয় ‘ট’বাজারে মাহাবুব নামের এক মাছ ব্যবসায়ী’র দোকানে বরফ সন্মিলিত কফসেটে রাখা অর্ধলক্ষ টাকার মাছ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা তার দোকান থেকে অর্ধলক্ষ টাকা মূল্যের প্রায় সাড়ে তিন মণ চিতল মাছ চুরি করে নিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন ওই মাছ ব্যবসায়ী। ধারদেনা করে কিনে আনা মাছগুলো চুরি যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে মাছ ব্যবসায়ী মাহাবুব। পুলিশের রাত্রিকালীন ডিউটি থাকা সত্ত্বেও এমন চুরির ঘটনায় অত্র বাজারের অন্যান্য দোকানদাররা ও ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চুরি আতঙ্ক। বাজারে অন্য মাছ ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে জানা যায় এর আগেও বাজারে রেখে যাওয়া কফসেট থেকে দু’একটি ইলিশ মাছ চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনা সুত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রাণকেন্দ্র সদর ইউনিয়নের দামুড়হুদা ‘ট’ বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো:সিরাজুল ইসলামের ছেলে মাছ ব্যবসায়ী মাহাবুবের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ২৯ মে সোমবার রাতের যে কোন সময় তার দোকানের কফসেটে রাখা মাছ গুলো চুরি করেন চোরেরা। পরদিন সকল আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে এ মাছ ব্যবসায়ী তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে দেখেন তার দোকানের কফসেটে রাখা চিতল মাছগুলো চুরি করে নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় তার সহযোগী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক আইডিতে একটি পোষ্ট দেন। সেখানে মাছগুলোর সন্ধান চেয়ে একটি মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে, এবং বলা হয়েছে চুরি যাওয়া মাছগুলোকে যদি কেউ সন্ধান দিতে পারেন তাকে নগদ টাকা পুরুস্কৃত করা হবে।
মাছ ব্যবসায়ী মাহাবুব জানিয়েছেন, ২৯ শে মে সোমবার দামুড়হুদা হোগলডাঙ্গা মরাগাঙ বিল থেকে তিনি ৫০ হাজার টাকা মূল্যের প্রায় ১৩১ কেজি ৫’শ গ্রাম ওজনের চিতল মাছ কিনে নিয়ে আনেন। স্থানীয় বাজার সহ উপজেলার সাপ্তাহিক হাটে বিক্রি করার জন্য। মাছ গুলো আনার দিন তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালাবদ্ধ করে রেখে বাড়ি চলে যান সেদিনের মতো। পরদিন সকালে বাজারে এসে দেখেন তার আনা মাছগুলো সব চুরি করে নিয়ে গেছেন চোরেরা।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন দামুড়হুদা মডেল থানা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে মাত্র ২’শ গজ দূরত্ব স্থানের বাজার থেকে এমন ঘটনা উদ্বেগের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ীর ভাষ্য, মাছ বাজারে আগে এমন বড় চুরির ঘটনা কখনো ঘটেনি। তাদের ধারনা দামুড়হুদা উপজেলা সদরসহ আশপাশের এলাকায় মাদকের সহজলভ্যতার কারণে নেশাখোরেরা এমন ঘটনা ঘটাতেও পারেন। পাশাপাশি অতীতের মতো এলাকাবাসীদের অভিযোগ রয়েছে, মাদকের ব্যাপক প্রসার বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকায় ঘটছে এমন ঘটনা। তাছাড়া সম্প্রতি সময়ে সদর ইউনিয়নে দিনে দুপুরে নাপিতখালি ছাগল চুরি করতে এসেছিলেন নেশার টাকা যোগাতে , এসময় হাতে নাতে স্থানীয়দের হাতে আটক করে চোরকে উত্তমমধ্যম দিয়ে পুলিশে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি গত সপ্তাহে উপজেলার দর্শনা থানা এলাকার কুড়ালগাছি ইউনিয়নের দুইজন কিশোর নেশার অর্থ যোগাতে সাড়াবাড়িয়া গ্রামে মোটরসাইকেল যোগে রাজহাঁস চুরি করে গেলে স্থানীয়দের হাতে আটক হন। পরে আটককৃত দুই কিশোরকে দর্শনা থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন।
এ ঘটনায় দর্শনা থানা পুলিশ জানিয়েছিলেন, আটককৃতরা কিশোর হওরার কারণে সমাজসেবা অফিসারের পরামর্শে তাদেরকে অভিভাবকের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ তুলে বলেন, দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন ও হাউলি, জুড়ানপুর, নতিপোতা, নাটুদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে বেড়েছে মাদকের ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসা। আইনশৃংখলা বাহিনীর অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরা হলেও রাঘববোয়ালরা থেকেই যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে।
দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, এবিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। এ বিষয়ে কিছু জানিনা। অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
























