আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন
- আপডেট সময় : ০৬:৫৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ২৭ বার পঠিত

২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নির্ধারিত জেলাগুলো হলো ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর ও গাজীপুর।
সোমবার (২২ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২ থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচি পালন করছে। এসব কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জানমালের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগরসহ নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ হিসেবে সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে রাজধানী ঢাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ এবং নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে রাজধানীর ২০০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ তল্লাশিচৌকি বসানো হবে। পাশাপাশি ঢাকার সব প্রবেশপথে কঠোর চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, যাতে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরে ২০২৫ সালের ১০ মে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১১ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে কোনো সংগঠনের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয় এবং সেই আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের আমলে গত ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন পায়। ফলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান বহাল থাকায় আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও কার্যকর রয়েছে।























