ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লেবাননের সাথে যুদ্ধবিরতির কোনো চুক্তি হবেনা : ইসরায়েলি সেনাপ্রধান Logo ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ ও মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা Logo ৬ বিভাগে প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা Logo ইরান যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ‘আসল খরচ’ হতে পারে ৪০–৫০ বিলিয়ন ডলার Logo প্রথম ভোটযুদ্ধেই বাজিমাত করলেন থালাপতি বিজয় Logo ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না বর্তমান সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo নাহিদ ইসলাম দুর্নীতিতে জড়িত না হলেও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ: রাশেদ খাঁন Logo আবারও বেড়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম Logo বৃষ্টির কারণে ভেস্তে গেল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি Logo ক্লিন ও গ্রিন ঢাকা গড়তে ১২ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

খেলাধুলার উন্নতির দিকে নজর, অবকাঠামোর পরিবর্তে বেশি গুরুত্ব দিতে চান।

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৪৬ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। বুধবার ।। ১৮.০২.২০২৬ ।।

**নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি**

গতকাল বিকালে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন আমিনুল হক। শপথগ্রহণের পর তিনি প্রথমে সচিবালয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তবে পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে মিরপুর পল্লবীতে নিজের বাসায় চলে যান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে কীভাবে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, সে বিষয়ে বিস্তারিত মতামত ব্যক্ত করেন।

**অবকাঠামো নয়, খেলার দিকে মনোযোগ:**
আমিনুল হক জানিয়েছেন, তিনি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে নয়, বরং খেলার মানোন্নয়নে বেশি মনোযোগ দিতে চান। ক্রীড়াঙ্গনে দুর্নীতি যেমন রয়েছে, তেমনি তা দূর করার জন্য তিনি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবেন।

**সাকিব-মাশরাফি প্রসঙ্গে:**
তিনি সাকিব আল হাসান এবং মাশরাফি বিন মুর্তজাকে লিজেন্ডারি ক্রিকেটার হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় মামলা রয়েছে, কিন্তু তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে এবং তারা ক্রিকেটে ফিরবেন।

**বিশ্বকাপ নিয়ে ব্যর্থতা:**
আমিনুল মনে করেন, বাংলাদেশ যদি সঠিকভাবে আলোচনা করত, তবে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা সম্ভব ছিল। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে খেলতে না পারাটা খুবই দুঃখজনক, কিন্তু সাংগঠনিক ব্যর্থতার কারণে এটি ঘটেছে।”

**ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন:**
তিনি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে আগ্রহী। ক্রীড়াঙ্গনে দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চান, যা দেশের খেলাধুলা ও ক্রীড়াবিদদের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

**ক্রীড়াবিদদের পরবর্তী জীবনের জন্য পরিকল্পনা:**
আমিনুল হক সাবেক ক্রীড়াবিদদের জন্য চাকরির সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিতে চান। তার পরিকল্পনা, খেলাধুলায় ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পর সাবেক খেলোয়াড়দের জন্য এমন ব্যবস্থা করা হবে যাতে তারা কষ্ট না করেন এবং একটি সুরক্ষিত ভবিষ্যত নিশ্চিত হয়।

**বিসিবি ও সাংবাদিকদের সম্পর্ক:**
ক্রীড়াঙ্গনে সাংবাদিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চান আমিনুল। তিনি বিসিবির স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের প্রবেশের বিষয়ে সিইওকে নির্দেশনা দেবেন, তবে সাংবাদিকদেরও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

**নির্বাচন বিষয়ে মন্তব্য:**
বিসিবির নির্বাচনের বিষয়েও তিনি মতামত প্রকাশ করেন, “প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের বিষয়টি আমি জানি। এখন আমি দায়িত্বশীল পদে আছি, তাই সবার সঙ্গে আলোচনা করে যা দরকার তা করব।”

**ক্রীড়াঙ্গনকে এক পরিবার হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান:**
ক্রীড়াঙ্গনকে এক পরিবার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি প্রয়াসী। কেউ যদি ক্রীড়াঙ্গনকে নষ্ট করার চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন।

**শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ:**
তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ারও পরিকল্পনা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে আরও নতুন প্রতিভা উঠে আসে।

এইভাবে, আমিনুল হক দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে উন্নত করতে এবং সকল স্তরের খেলাধুলার জন্য একটি সুস্থ ও স্বচ্ছ পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতি তার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেছেন।

ট্যাগস :

খেলাধুলার উন্নতির দিকে নজর, অবকাঠামোর পরিবর্তে বেশি গুরুত্ব দিতে চান।

আপডেট সময় : ০২:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। বুধবার ।। ১৮.০২.২০২৬ ।।

**নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি**

গতকাল বিকালে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন আমিনুল হক। শপথগ্রহণের পর তিনি প্রথমে সচিবালয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তবে পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে মিরপুর পল্লবীতে নিজের বাসায় চলে যান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে কীভাবে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, সে বিষয়ে বিস্তারিত মতামত ব্যক্ত করেন।

**অবকাঠামো নয়, খেলার দিকে মনোযোগ:**
আমিনুল হক জানিয়েছেন, তিনি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে নয়, বরং খেলার মানোন্নয়নে বেশি মনোযোগ দিতে চান। ক্রীড়াঙ্গনে দুর্নীতি যেমন রয়েছে, তেমনি তা দূর করার জন্য তিনি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবেন।

**সাকিব-মাশরাফি প্রসঙ্গে:**
তিনি সাকিব আল হাসান এবং মাশরাফি বিন মুর্তজাকে লিজেন্ডারি ক্রিকেটার হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় মামলা রয়েছে, কিন্তু তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে এবং তারা ক্রিকেটে ফিরবেন।

**বিশ্বকাপ নিয়ে ব্যর্থতা:**
আমিনুল মনে করেন, বাংলাদেশ যদি সঠিকভাবে আলোচনা করত, তবে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা সম্ভব ছিল। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে খেলতে না পারাটা খুবই দুঃখজনক, কিন্তু সাংগঠনিক ব্যর্থতার কারণে এটি ঘটেছে।”

**ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন:**
তিনি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে আগ্রহী। ক্রীড়াঙ্গনে দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চান, যা দেশের খেলাধুলা ও ক্রীড়াবিদদের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

**ক্রীড়াবিদদের পরবর্তী জীবনের জন্য পরিকল্পনা:**
আমিনুল হক সাবেক ক্রীড়াবিদদের জন্য চাকরির সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিতে চান। তার পরিকল্পনা, খেলাধুলায় ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পর সাবেক খেলোয়াড়দের জন্য এমন ব্যবস্থা করা হবে যাতে তারা কষ্ট না করেন এবং একটি সুরক্ষিত ভবিষ্যত নিশ্চিত হয়।

**বিসিবি ও সাংবাদিকদের সম্পর্ক:**
ক্রীড়াঙ্গনে সাংবাদিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চান আমিনুল। তিনি বিসিবির স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের প্রবেশের বিষয়ে সিইওকে নির্দেশনা দেবেন, তবে সাংবাদিকদেরও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

**নির্বাচন বিষয়ে মন্তব্য:**
বিসিবির নির্বাচনের বিষয়েও তিনি মতামত প্রকাশ করেন, “প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের বিষয়টি আমি জানি। এখন আমি দায়িত্বশীল পদে আছি, তাই সবার সঙ্গে আলোচনা করে যা দরকার তা করব।”

**ক্রীড়াঙ্গনকে এক পরিবার হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান:**
ক্রীড়াঙ্গনকে এক পরিবার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি প্রয়াসী। কেউ যদি ক্রীড়াঙ্গনকে নষ্ট করার চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন।

**শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ:**
তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ারও পরিকল্পনা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে আরও নতুন প্রতিভা উঠে আসে।

এইভাবে, আমিনুল হক দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে উন্নত করতে এবং সকল স্তরের খেলাধুলার জন্য একটি সুস্থ ও স্বচ্ছ পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতি তার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেছেন।