বাংলাদেশ কন্ঠ ।। সোমবার ।। ১৬.০২.২০২৬ ।।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এরই মধ্যে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে কে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
দলীয় একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান-এর নামও আলোচনায় রয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি নিয়োগ প্রসঙ্গে আরও পরিষ্কার ধারণা মিলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-এর সম্ভাব্য পদত্যাগের ইঙ্গিত ঘিরেই এই জল্পনা তৈরি হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়ার আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছিলেন। যদিও সাংবিধানিকভাবে তার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বলবৎ রয়েছে, তবুও পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা তিনি জানান। সে সময় বঙ্গভবন ও অন্যান্য দপ্তর থেকে তার ছবি অপসারণের বিষয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় এগিয়ে থাকা ৭৯ বছর বয়সী খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা-১ আসন থেকে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক অতীতে জ্বালানি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে জনমত গঠনে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। দলীয় একাধিক সমাবেশে পূর্বে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী এবং খন্দকার মোশাররফ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি তুলনামূলকভাবে নীরব থাকায় তার মনোনয়ন সম্ভাবনা আরও জোরদার হয়েছে বলে দলীয় পর্যবেক্ষকদের ধারণা। অন্যদিকে নজরুল ইসলাম খানও আলোচনায় থাকলেও, দলের ভেতরে একটি অংশ তাকে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দেখতে আগ্রহী। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তার সাংগঠনিক দক্ষতা প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-এর জানাজায় কেন্দ্রীয় বক্তা হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভা গঠনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। ফলে রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি এখন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরেই কেন্দ্রীভূত। সেখান থেকেই আসতে পারে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে প্রথম আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত।

























