শীত আসতেই বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে করোনা, তবে কি এটি মৌসুমি ভাইরাস!
- আপডেট সময় : ০৪:০৩:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯০ বার পঠিত

আয়েশা আক্তার :
সম্প্রতি চিনা নিউমোনিয়ার কারনে বিশ্বজুড়ে শিশুদের জন্য আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতেও বহু শিশু চিনা নিউমোনিয়া জাতীয় উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে করোনাভাইরাস। শীত পড়তেই গোটা বিশ্বজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এই মারণ ভাইরাস। সিঙ্গাপুরে তো হাসপাতালের আইসিইউয়ে কোভিড রোগীর সংখ্যা রীতিমতো ভয় ধরাচ্ছে। গড়ে প্রতিদিন ৩ হাজারের বেশি জন কোভিড আক্রান্ত হচ্ছে। অন্যান্য দেশেও কম-বেশি কোভিড রোগীর হার ঊর্ধ্বগামী।
বিশ্বজুড়ে চার সপ্তাহে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫২ শতাংশ; এমনকি নতুন করে সাড়ে আট লাখেরও বেশি মানুষ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তের পাশাপাশি বেড়েছে মৃত্যুরহারও-এমনটিই জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
মূলত, শীত আসার পরপরই করোনার নতুন করে জাগ্রত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মৌসুম পরিবর্তনের কারনেই যে করোনার সংক্রমণ নির্ভর করে তা নিশ্চিত করে এখনো কিছু বলতে পারেনি গবেষকরা। গরমে যে করোনাভাইরাস ছড়ায় না তা ইতোমধ্যে ভুল প্রমাণিত হলেও এবছর গরমে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশ কমে এসেছিলো। তবে এরই মধ্যে আশঙ্কা করা হচ্ছিলো শীতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ফের বেড়ে যেতে পারে। দেশে শীত পুরোপুরি শুরু না হলেও করোনা সংক্রমণ আবারও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
করোনার গতিপ্রকৃতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিলো জাতিসংঘের একটি বিশেষজ্ঞ দল। যেখানে দলটি এমন কিছু লক্ষণের সন্ধান পায় যাতে দেখা গেছে, করোনা একটি মৌসুমি রোগে রূপ নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গবেষণাগারে পরীক্ষায় দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে এই ভাইরাস ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়া এবং অতিবেগুনি রশ্মির কম বিকিরণে দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকে। তাঁরা আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে, বায়ুর খারাপ মান করোনায় মৃত্যুর হার বাড়ায়। তবে বায়ুর মান সার্স-কোভ-২ এর বায়ুবাহিত সংক্রমণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে না।
জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার গঠিত ১৬ সদস্যের ওই বিশেষজ্ঞ দল এ অভিমত দিয়েছে যে শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসজনিত সংক্রমণ প্রায়ই মৌসুম ভেদে ঘটে থাকে। বিশেষত, সাধারণ সর্দি-কাশি বা ইনফ্লুয়েঞ্জার পিক সময় শরৎ থেকে শীতকাল এবং ঠান্ডাজনিত করোনাভাইরাসের উপযোগী পরিবেশ হলো নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া।
এক বিবৃতিতে বিশেষজ্ঞ দলটি বলেছে, ভাইরাসের এমন গতিপ্রকৃতিতে এটা খুব জোরালভাবেই বলা যায়, করোনাভাইরাস যদি অনেক বছর ধরে চলতে থাকে, তবে তা একটি জোরালো মৌসুমি রোগে রূপ নেবে।
বিশেষজ্ঞদের এই গবেষণা অনুযায়ী এবছর শীত আসার সাথে সাথেই বিশ্বজুড়ে ফের করোনার জেঁকে বসার খবর পাওয়া যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা বিশ্বে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ৭৭ কোটি ২০ লাখ মানুষ। প্রাণ হারিয়েছেন ৭০ লাখেরও বেশি।
বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে সম্প্রতি করোনাভাইরাসের জেএন.১ ধরনটিকে পৃথক ‘ভ্যারিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, জেএন.১’র কারণে এই মুহূর্তে অতিরিক্ত কোনো বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি না থাকলেও করোনার নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট আগের যেকোনো ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে বেশি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রয়েছে। কারণ এই ভ্যারিয়েন্টটিতে অন্য ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে একটি স্পাইক প্রোটিন অতিরিক্ত রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, নতুন জেএন.১ ভ্যারিয়েন্টটি বিএ.২৮৬ ভ্যারিয়েন্ট থেকে উৎপত্তি হয়েছে। বিএ.২৮৬ ভ্যারিয়েন্ট থেকে নতুন জেএন.১ ভ্যারিয়েন্ট অনেক বেশি দ্রুততার সাথে বিস্তৃত হচ্ছে।
বাংলাদেশে অবশ্য নতুন করে সংক্রমণ বাড়ার কোনো তথ্য নেই, আগের মতোই রয়েছে। শনিবার ৩৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে পাঁচজনকে করোনায় আক্রান্ত পাওয়া গেছে। পরীক্ষার চেয়ে দেশে শনাক্তের হার ১.৩৬ শতাংশ। একই সময়ে কারো মৃত্যু হয়নি।

























