ঢাকা ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশ, বিশ্বকে প্রধানমন্ত্রীর ৫ বার্তা Logo ডিজিটাল ব্যাংক চালুর সম্মতি পেল বিকাশ, রবি ও বাংলালিংকসহ ৪ প্রতিষ্ঠান Logo বেহেশতের টিকিট বিক্রিকারীরা আবার ফ্যাসিস্টদের সাথে হাত মিলিয়েছে Logo ​কুমিল্লায় ব্র্যাকের কর্মশালা অনুষ্ঠিত-প্রবাসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে’ জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা। Logo ভ্যান ছিনতাই করতে চালককে হত্যা, মরদেহে ইট বেঁধে ফেলা হয় নদীতে Logo কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল ব্র্যাকের নারী কর্মীর Logo ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ১৩০ রোগী, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা Logo নতুন প্রজন্মের জন্য নতুন Flagship: helio110 Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগুনে পুড়ে ছাই ১০ ঘর, নিঃস্ব ১৪ পরিবার Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:০৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০২৩ ২৭২ বার পঠিত

কালীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার সবজি, মাছ-মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয়সীমার বাইরে। লাগামহীন ঊর্ধ্বমুখী। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে হাসফাঁস বেড়েছে। কাঁচাবাজার ও মুদি দোকানের দ্রব্যাদি যেন সাধারণ মানুষের হাতের নাগালেই আসছে না।

উপজেলার কালীগঞ্জ বাজার, জামালপুর বাসাইর বাজার, দোলান বাজার, নরুন বাজার, নাগরী বাজার, আওড়াখালি বাজার, সাওরাইদ বাজার, মৈশার বাজারসহ কালীগঞ্জের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছ-মাংস-সবজিসহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়তি থাকায় কেনাকাটায় হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

কালীগঞ্জ বাজারের স্বনামধন্য হোটেল ব্যবসায়ী কাউন্সিলর বাদল হোসেন ভূইয়া প্রতিবেদককে জানান, বেগুন প্রতি কেজি ৮০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ২০০ টাকা, শশা ৪০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০ টাকা, চিচিঙা ৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, গোল আলু পাল্লা ২৯০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সকল পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারনে হোটেলে খাবারের মূল্য বৃদ্ধি না করে পারছিনা।

বক্তারপুর এলাকার স্কুল শিক্ষক কামরুল হাসান মোল্লা প্রতিবেদককে জানান, বক্তারপুর মার্কেটে প্রচুর পরিমানে সবজি ও তরিতরকারী আমদানী হয়। স্থানীয় কৃষকরা এ বাজারে প্রচুর পরিমানে কৃষিজাতপণ্য আনলেও পাইকারদের দৌরাত্বের কারনে খুচরা বিক্রি সম্ভব হয় না। এতে করে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য হতে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ক্রেতাদের অধিক দামে ক্রয় করতে হচ্ছে। এতে করে দ্রব্য সামগ্রী নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে চলে গেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, কালীগঞ্জ পৌর বাজারে দাম বেড়েছে মাছ, মুরগি, ডিম, কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজির। বাজারে আলু প্রতি কেজি ৬০ টাকা, দেশী পেঁয়াজ ১২০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ১০০ টাকা, দেশী আদা ৩৮০ টাকা, দেশী রসুন ২৪০ টাকা, চীনা রসুন ১৬০ টাকা, প্যাকেট আটা ৬৫ টাকা, প্যাকেট ময়দা ৭৫ টাকা, খোলা চিনি ১৩০ টাকা, প্যাকেট চিনি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা দানার মসুর ডাল ১০৫ টাকা ও ছোট দানার মসুর ডাল ১৪০ টাকা কেজি নেওয়া হচ্ছে।

পৌর এলাকার মুরগি ব্যবসায়ী কিরণ জানান, ফারমের মুরগির দামও বেড়েছে। সোনালি মুরগির দাম ৩২০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০ টাকা ও কক বা লেয়ার ৩০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি ডিম এখন ৫৫ টাকা। গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তীত রয়েছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা। আর খাসির মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১শত থেকে ১২শত টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে মাছের দামও চড়া। বড় রুই ও কাতল প্রতি কেজি ৩৮০-৪২০ টাকা, বড় তেলাপিয়া মাছ ২২০ টাকা, বোয়াল ৬০০ টাকা, চাষের শিং মাছ ৩৫০ টাকা, কৈ ৩৫০, পাঙাশ ১৮০-২০০ টাকা, চিংড়ি (ছোট) ৬০০টাকা, চিংড়ি (বড়) ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তুমলিয়া ইউনিয়নের সোম বাজার এলাকার খুচরা মুদি দোকানদার মোঃ এমরান হোসেন প্রতিবেদককে বলেন, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনা ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারনে সকল পণ্যের দাম বাড়লেও এখন তো আর যুদ্ধ নেই। তবে স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত মনিটরিং করলে দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

আপডেট সময় : ০৬:০৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০২৩

কালীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার সবজি, মাছ-মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয়সীমার বাইরে। লাগামহীন ঊর্ধ্বমুখী। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে হাসফাঁস বেড়েছে। কাঁচাবাজার ও মুদি দোকানের দ্রব্যাদি যেন সাধারণ মানুষের হাতের নাগালেই আসছে না।

উপজেলার কালীগঞ্জ বাজার, জামালপুর বাসাইর বাজার, দোলান বাজার, নরুন বাজার, নাগরী বাজার, আওড়াখালি বাজার, সাওরাইদ বাজার, মৈশার বাজারসহ কালীগঞ্জের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছ-মাংস-সবজিসহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়তি থাকায় কেনাকাটায় হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

কালীগঞ্জ বাজারের স্বনামধন্য হোটেল ব্যবসায়ী কাউন্সিলর বাদল হোসেন ভূইয়া প্রতিবেদককে জানান, বেগুন প্রতি কেজি ৮০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ২০০ টাকা, শশা ৪০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০ টাকা, চিচিঙা ৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, কাকরোল ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, গোল আলু পাল্লা ২৯০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সকল পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির কারনে হোটেলে খাবারের মূল্য বৃদ্ধি না করে পারছিনা।

বক্তারপুর এলাকার স্কুল শিক্ষক কামরুল হাসান মোল্লা প্রতিবেদককে জানান, বক্তারপুর মার্কেটে প্রচুর পরিমানে সবজি ও তরিতরকারী আমদানী হয়। স্থানীয় কৃষকরা এ বাজারে প্রচুর পরিমানে কৃষিজাতপণ্য আনলেও পাইকারদের দৌরাত্বের কারনে খুচরা বিক্রি সম্ভব হয় না। এতে করে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য হতে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ক্রেতাদের অধিক দামে ক্রয় করতে হচ্ছে। এতে করে দ্রব্য সামগ্রী নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে চলে গেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, কালীগঞ্জ পৌর বাজারে দাম বেড়েছে মাছ, মুরগি, ডিম, কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজির। বাজারে আলু প্রতি কেজি ৬০ টাকা, দেশী পেঁয়াজ ১২০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ১০০ টাকা, দেশী আদা ৩৮০ টাকা, দেশী রসুন ২৪০ টাকা, চীনা রসুন ১৬০ টাকা, প্যাকেট আটা ৬৫ টাকা, প্যাকেট ময়দা ৭৫ টাকা, খোলা চিনি ১৩০ টাকা, প্যাকেট চিনি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা দানার মসুর ডাল ১০৫ টাকা ও ছোট দানার মসুর ডাল ১৪০ টাকা কেজি নেওয়া হচ্ছে।

পৌর এলাকার মুরগি ব্যবসায়ী কিরণ জানান, ফারমের মুরগির দামও বেড়েছে। সোনালি মুরগির দাম ৩২০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০ টাকা ও কক বা লেয়ার ৩০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি ডিম এখন ৫৫ টাকা। গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তীত রয়েছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা। আর খাসির মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১শত থেকে ১২শত টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে মাছের দামও চড়া। বড় রুই ও কাতল প্রতি কেজি ৩৮০-৪২০ টাকা, বড় তেলাপিয়া মাছ ২২০ টাকা, বোয়াল ৬০০ টাকা, চাষের শিং মাছ ৩৫০ টাকা, কৈ ৩৫০, পাঙাশ ১৮০-২০০ টাকা, চিংড়ি (ছোট) ৬০০টাকা, চিংড়ি (বড়) ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তুমলিয়া ইউনিয়নের সোম বাজার এলাকার খুচরা মুদি দোকানদার মোঃ এমরান হোসেন প্রতিবেদককে বলেন, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনা ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারনে সকল পণ্যের দাম বাড়লেও এখন তো আর যুদ্ধ নেই। তবে স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত মনিটরিং করলে দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব।