ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী Logo ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, চাপে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা Logo হেলিও স্মার্টফোনের নতুন সেনসেশন, হেলিও ৪৬ Logo গাজীপুরে জিয়াউর রহমান গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন Logo গাজীপুরে বহুতল ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধায় বিদায় নিলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশিদ Logo সাবেক এমপি হারুন আল রশিদের মৃত্যুতে সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শোক  Logo বেনজীরকে ফেরাতে সব নথি পাঠানো হয়েছে, দ্রুত প্রত্যর্পণের আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর Logo একটি কোম্পানির মাধ্যমে সকল রুটে গণপরিবহন পরিচালনা করা হবে : সড়ক পরিবহন মন্ত্রী Logo বটতলায় জমজমাট ফাইনাল: চ্যাম্পিয়ান ভাতকাঠি একতা ফাউন্ডেশন।

সাংবাদিক নাদিম হত্যার মূল কারন

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৪৩:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জুন ২০২৩ ২০৫ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:

গত ১৪ জুন রাত ১০টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার সময় বকশীগঞ্জের পাথাটিয়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম। পরে ময়মনসিংসহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) সকালে তার মৃত্যু হয়। বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোরের জামালপুর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমের মৃত্যুতে সাংবাদিক মহল গভীরভাবে শোকাহত।

সাংবাদিক নাদিম হত্যার মূল কারন-

সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুকে সাংবাদিক নাদিম হত্যাকান্ডের মূলহোতা হিসেবে অভিযোগ করছে তার পরিবার।

স্থানীয় সাংবাদিক ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান বাবু পূর্বে একজন নির্মাণ শ্রমিক ছিলেন। পরে ধাপে ধাপে সে রাজনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করে অঢেল সম্পত্তির মালিক হন। জানা যায়, তিনি নিজের এমন অবস্থান তৈরি করেছিলেন তার একজন প্রভাবশালী নিকটাত্মীয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে। যার কারনে এলাকার মানুষ তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না। একটা সময় সাংবাদিক নাদিম তার বাবুর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ শুরু করেন।এছাড়াও বাবুর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের মাধ্যমে জানা যায়, বাবু তাকে দু’বার বিয়ে করেন। ২য় বার বিয়ের পর তাদের একটি সন্তান হয়। কিন্তু তিনি বিয়ে ও সন্তানকে অস্বীকার করেন।

এই ঘটনার জের ধরে সাংবাদিক নাদিম মে মাসে অনলাইন পোর্টালে কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। যার মধ্যে, ১০ মে ‘দুইবার বিয়ের পরও সন্তান-স্ত্রীকে অস্বীকার করছেন ইউপি চেয়ারম্যান!’, ১৪ মে ‘আমি আমার স্বামী চাই, একসঙ্গে সংসার করতে চাই’ ও ২০ মে ‘আ.লীগ থেকে স্বামীর বহিষ্কার চেয়ে স্ত্রীর আবেদন’ শিরোনামের সংবাদ প্রকাশ করেন। এই প্রকাশিত সংবাদের জের ধরেই নাদিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার পরিবারের।

নাদিমের পরিবারের অভিযোগ, সাধুরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান বাবুর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই হুমকি পাচ্ছিলেন এই সাংবাদিক।তিনিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে চেয়ারম্যান মামলা করলেও সেই মামলা খারিজ করে দেয় আদালত।

মামলা খারিজের পরই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানান স্থানীয় সাংবাদিক আল মোজাহিদ। নাদিমের বিরুদ্ধে করা মামলায় মোজাহিদকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছিল।

মোজাহিদ বলেন, ‘চেয়ারম্যান বাবুর ছেলে রিফাত। রিফাত ইট দিয়ে নাদিম মামার মাথায় আঘাত করে। এসময় চেয়ারম্যান বাবু পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।বাবু চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বকশীগঞ্জ থানা ও আদালতে দুটি মামলা রয়েছে। এ দুটি মামলার বাদী সাবিনা ইয়াসমীন।

জানা গেছে, মাহমুদুল আলম বাবু সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে থেকে পরপর দুবার নৌকার মনোনয়ন নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সাংবাদিক নাদিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর শুক্রবার ১৬ জুন তাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

এর পরদিন আজ শনিবার (১৭ জুন) পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সকাল ৭টার দিকে দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের চর তিস্তাপাড়ায় বোনের বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

 

সাংবাদিক নাদিম হত্যার মূল কারন

আপডেট সময় : ০২:৪৩:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জুন ২০২৩

নিজস্ব প্রতিনিধি:

গত ১৪ জুন রাত ১০টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার সময় বকশীগঞ্জের পাথাটিয়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম। পরে ময়মনসিংসহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) সকালে তার মৃত্যু হয়। বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোরের জামালপুর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমের মৃত্যুতে সাংবাদিক মহল গভীরভাবে শোকাহত।

সাংবাদিক নাদিম হত্যার মূল কারন-

সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুকে সাংবাদিক নাদিম হত্যাকান্ডের মূলহোতা হিসেবে অভিযোগ করছে তার পরিবার।

স্থানীয় সাংবাদিক ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান বাবু পূর্বে একজন নির্মাণ শ্রমিক ছিলেন। পরে ধাপে ধাপে সে রাজনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় নিজের আধিপত্য বিস্তার করে অঢেল সম্পত্তির মালিক হন। জানা যায়, তিনি নিজের এমন অবস্থান তৈরি করেছিলেন তার একজন প্রভাবশালী নিকটাত্মীয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে। যার কারনে এলাকার মানুষ তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না। একটা সময় সাংবাদিক নাদিম তার বাবুর অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ শুরু করেন।এছাড়াও বাবুর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের মাধ্যমে জানা যায়, বাবু তাকে দু’বার বিয়ে করেন। ২য় বার বিয়ের পর তাদের একটি সন্তান হয়। কিন্তু তিনি বিয়ে ও সন্তানকে অস্বীকার করেন।

এই ঘটনার জের ধরে সাংবাদিক নাদিম মে মাসে অনলাইন পোর্টালে কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। যার মধ্যে, ১০ মে ‘দুইবার বিয়ের পরও সন্তান-স্ত্রীকে অস্বীকার করছেন ইউপি চেয়ারম্যান!’, ১৪ মে ‘আমি আমার স্বামী চাই, একসঙ্গে সংসার করতে চাই’ ও ২০ মে ‘আ.লীগ থেকে স্বামীর বহিষ্কার চেয়ে স্ত্রীর আবেদন’ শিরোনামের সংবাদ প্রকাশ করেন। এই প্রকাশিত সংবাদের জের ধরেই নাদিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার পরিবারের।

নাদিমের পরিবারের অভিযোগ, সাধুরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান বাবুর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই হুমকি পাচ্ছিলেন এই সাংবাদিক।তিনিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে চেয়ারম্যান মামলা করলেও সেই মামলা খারিজ করে দেয় আদালত।

মামলা খারিজের পরই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানান স্থানীয় সাংবাদিক আল মোজাহিদ। নাদিমের বিরুদ্ধে করা মামলায় মোজাহিদকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছিল।

মোজাহিদ বলেন, ‘চেয়ারম্যান বাবুর ছেলে রিফাত। রিফাত ইট দিয়ে নাদিম মামার মাথায় আঘাত করে। এসময় চেয়ারম্যান বাবু পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।বাবু চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বকশীগঞ্জ থানা ও আদালতে দুটি মামলা রয়েছে। এ দুটি মামলার বাদী সাবিনা ইয়াসমীন।

জানা গেছে, মাহমুদুল আলম বাবু সাধুরপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে থেকে পরপর দুবার নৌকার মনোনয়ন নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সাংবাদিক নাদিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর শুক্রবার ১৬ জুন তাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

এর পরদিন আজ শনিবার (১৭ জুন) পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সকাল ৭টার দিকে দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের চর তিস্তাপাড়ায় বোনের বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।