ঢাকা ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo একটি কোম্পানির মাধ্যমে সকল রুটে গণপরিবহন পরিচালনা করা হবে : সড়ক পরিবহন মন্ত্রী Logo বটতলায় জমজমাট ফাইনাল: চ্যাম্পিয়ান ভাতকাঠি একতা ফাউন্ডেশন। Logo সুন্দরগঞ্জে কৃষকদের মাঝে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ Logo অটোরিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল শিশুর Logo জনগণের ভালোবাসা বড় শক্তি, নিরাপত্তা কড়াকড়ি যেন দূরত্ব তৈরি না করে: প্রধানমন্ত্রী Logo রাজাপুর সদর ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করলেন ছাত্রনেতা নাফিজ Logo বাংলাদেশের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল দারাজ Logo বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী Logo বাগেরহাটে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সনাকের মানববন্ধন ও ১১ দফা সুপারিশ পেশ Logo বিদ্যালয়ে প্রেম নিবেদন, থানায় ৩ কিশোর, বহিষ্কার ২ ছাত্রী

লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার, টানাটানিতে মধ্যবিত্তের পরিবার

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মার্চ ২০২৩ ২৬৫ বার পঠিত

শফিক কবীর ,কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জে লাগামহীন ভাবে বেড়েই চলেছে নিত্যপণ্যের বাজার, সংসার চালাতে ধার-কর্জের টানাটানিতে ও নুন আনতে পানতা ফুরায় অবস্থায় মধ্যবিত্তের পরিবার।
রোজার শুরুর প্রথম থেকেই বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় চাল, ডাল,তেল, মাছ, মাংস ও সবজির দাম বৃদ্ধির কারণে বিপাকে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষগুলো। স্বস্তি নেই কোন পণ্যের দামে। জানান, বাজার করতে আসা সাধারণ মানুষজন। শহরের বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে ব্যবসায়ীরা যে যেভাবে পারে পকেট কাটছে ক্রেতাদের। কিশোরগঞ্জের নিত্য পণ্যের বেশিরভাগ দোকানগুলোতে নেই কোন মূল্য তালিকা। লোকদেখানো মূল্য তালিকা থাকলেও পণ্যের মূল্যে নেই সামঞ্জস্য।
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বড়বাজার,পুরান থানা ও কাঁচারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, রোজায় প্রয়োজনীয় সব কিছুর দাম অনেক বেশি। এদিকে কাঁচা সবজি, মাছ, মাংস, ডিমের পাশাপাশি মশলার দাম অনেক চড়া।
আজকের বাজার ঘুরে দেখা গেছে রোজার আগে যেই বেগুন ২০/২৫ টাকা ছিলো তা আজ ৭০/৮০ টাকা, ২০ টাকার খিরা ৪০/৪৫ টাকা। ঢেঁড়শ, বরবটি, শশা, শিম, করলা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। এ ছাড়াও বড় একটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। আর কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। কিছুটা নিয়ন্ত্রণে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দামে, তাও কেজিতে বেড়েছে ৫-৭ টাকা।চিনি প্রতি কেজি ১১৪ টাকা দরে বিক্রির কথা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায়। আটা প্রতি কেজি ৫৫ টাকা, ময়দা ৫৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন ১৬৫ টাকায়, বোতল ১৮৫ টাকায়। সরিষার তেল ২১০ টাকায় বিক্রির কথা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ২৩০-২৪০ টাকায়। ছোলা বুট ভালোটি প্রতি কেজি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন রোজার প্রথম দিনে জেলা প্রশাসনের যৌথ মনিটরিং টিম প্রতিটি বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করাসহ বাজারে ব্রয়লার মুরগি ও ডিম সরকারের দেয়া নির্ধারিত মূল্যে রাখার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়। কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি আলম সারোয়ার টিটু বলেন, কিশোরগঞ্জের বাজারগুলো নিয়ন্ত্রণ করে একটি সিন্ডিকেট চক্র। বাজার দর নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বরত কৃষি বাজার কর্মকর্তাদের গাফলতি ও উদাসীনতার কারণেই বাজারের এমন হাল। বাজার কর্তৃপক্ষের কোনো নিয়ন্ত্রণ বা কোনো মনিটরিং টিম নাথাকায় পণ্যের চাহিদার চেয়ে আমদানি বেশি থাকা স্বত্তেও মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাজারের সিন্ডিকেট ও ভেজালমুক্ত রাখার জন্য বিশেষ আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পুরান থানা বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. আবুল কাসেম বলেন, মানুষ এখন হিসাব করে বাজার করে। যারা ব্যাগ ভর্তি বাজার করত তারাও হিসেবের ভিতরে বাজার করছে। বাজারে সবজির তেমন চাহিদা নাই। আগের তুলনায় মানুষ এখন সবজি কিনে কম। সবজি বিক্রি না করতে পারলে পরের দিন তা পঁচে যায়, লোকসান গুনতে হয় আমাদের। বড় বাজারের ক্রেতা শহরতলী শোলাকিয়ার মহরম আলী বলেন, আমাদের আয়ের থেকে এখন ব্যয় অনেক বেশি। সবকিছুর দাম বাড়ার কারণে ব্যাগ ভরে বাজার বাড়িতে নেওয়া যায় না। মাছ কিনলে সবজি কিনতে হিমশিম খেতে হয়। খাসি গরুর মাংসের দাম শুনলে তো শরীরে জ্বর চলে আসে, হাতের নাগালে ছিলো ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি, তাও আজ হাত ছাড়া। আমাদের মতো মধ্যবিত্তের সংসার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংসারের চাহিদা ও ছেলেমেয়েদের আবদার পূরণ করতে প্রতিমাসেই ধার-দেনা করতে হচ্ছে। এসব ধার-দেনা পরিশোধ করতে বিক্রি করে দিলাম ভবিষ্যতের জন্য রাখা বড় বড় গাছগুলো। পথে বসতে আর বেশি দেরি নেই মহরম আলীর মতো দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।

লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার, টানাটানিতে মধ্যবিত্তের পরিবার

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মার্চ ২০২৩

শফিক কবীর ,কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জে লাগামহীন ভাবে বেড়েই চলেছে নিত্যপণ্যের বাজার, সংসার চালাতে ধার-কর্জের টানাটানিতে ও নুন আনতে পানতা ফুরায় অবস্থায় মধ্যবিত্তের পরিবার।
রোজার শুরুর প্রথম থেকেই বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় চাল, ডাল,তেল, মাছ, মাংস ও সবজির দাম বৃদ্ধির কারণে বিপাকে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষগুলো। স্বস্তি নেই কোন পণ্যের দামে। জানান, বাজার করতে আসা সাধারণ মানুষজন। শহরের বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে ব্যবসায়ীরা যে যেভাবে পারে পকেট কাটছে ক্রেতাদের। কিশোরগঞ্জের নিত্য পণ্যের বেশিরভাগ দোকানগুলোতে নেই কোন মূল্য তালিকা। লোকদেখানো মূল্য তালিকা থাকলেও পণ্যের মূল্যে নেই সামঞ্জস্য।
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বড়বাজার,পুরান থানা ও কাঁচারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, রোজায় প্রয়োজনীয় সব কিছুর দাম অনেক বেশি। এদিকে কাঁচা সবজি, মাছ, মাংস, ডিমের পাশাপাশি মশলার দাম অনেক চড়া।
আজকের বাজার ঘুরে দেখা গেছে রোজার আগে যেই বেগুন ২০/২৫ টাকা ছিলো তা আজ ৭০/৮০ টাকা, ২০ টাকার খিরা ৪০/৪৫ টাকা। ঢেঁড়শ, বরবটি, শশা, শিম, করলা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। এ ছাড়াও বড় একটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। আর কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। কিছুটা নিয়ন্ত্রণে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দামে, তাও কেজিতে বেড়েছে ৫-৭ টাকা।চিনি প্রতি কেজি ১১৪ টাকা দরে বিক্রির কথা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায়। আটা প্রতি কেজি ৫৫ টাকা, ময়দা ৫৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন ১৬৫ টাকায়, বোতল ১৮৫ টাকায়। সরিষার তেল ২১০ টাকায় বিক্রির কথা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ২৩০-২৪০ টাকায়। ছোলা বুট ভালোটি প্রতি কেজি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন রোজার প্রথম দিনে জেলা প্রশাসনের যৌথ মনিটরিং টিম প্রতিটি বাজার ঘুরে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করাসহ বাজারে ব্রয়লার মুরগি ও ডিম সরকারের দেয়া নির্ধারিত মূল্যে রাখার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়। কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি আলম সারোয়ার টিটু বলেন, কিশোরগঞ্জের বাজারগুলো নিয়ন্ত্রণ করে একটি সিন্ডিকেট চক্র। বাজার দর নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বরত কৃষি বাজার কর্মকর্তাদের গাফলতি ও উদাসীনতার কারণেই বাজারের এমন হাল। বাজার কর্তৃপক্ষের কোনো নিয়ন্ত্রণ বা কোনো মনিটরিং টিম নাথাকায় পণ্যের চাহিদার চেয়ে আমদানি বেশি থাকা স্বত্তেও মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাজারের সিন্ডিকেট ও ভেজালমুক্ত রাখার জন্য বিশেষ আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পুরান থানা বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. আবুল কাসেম বলেন, মানুষ এখন হিসাব করে বাজার করে। যারা ব্যাগ ভর্তি বাজার করত তারাও হিসেবের ভিতরে বাজার করছে। বাজারে সবজির তেমন চাহিদা নাই। আগের তুলনায় মানুষ এখন সবজি কিনে কম। সবজি বিক্রি না করতে পারলে পরের দিন তা পঁচে যায়, লোকসান গুনতে হয় আমাদের। বড় বাজারের ক্রেতা শহরতলী শোলাকিয়ার মহরম আলী বলেন, আমাদের আয়ের থেকে এখন ব্যয় অনেক বেশি। সবকিছুর দাম বাড়ার কারণে ব্যাগ ভরে বাজার বাড়িতে নেওয়া যায় না। মাছ কিনলে সবজি কিনতে হিমশিম খেতে হয়। খাসি গরুর মাংসের দাম শুনলে তো শরীরে জ্বর চলে আসে, হাতের নাগালে ছিলো ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি, তাও আজ হাত ছাড়া। আমাদের মতো মধ্যবিত্তের সংসার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংসারের চাহিদা ও ছেলেমেয়েদের আবদার পূরণ করতে প্রতিমাসেই ধার-দেনা করতে হচ্ছে। এসব ধার-দেনা পরিশোধ করতে বিক্রি করে দিলাম ভবিষ্যতের জন্য রাখা বড় বড় গাছগুলো। পথে বসতে আর বেশি দেরি নেই মহরম আলীর মতো দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।