রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ তিন বছরে গড়ালেও নেই শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো চিহ্ন, ভোগান্তিতে বিশ্ব
- আপডেট সময় : ০৩:০১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ২৩৫ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইউক্রেনের যুদ্ধের পর দুই বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু শীঘ্রই যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইউক্রেন বা রাশিয়া বা তাদের কোনো, কারও পক্ষ থেকেই শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো চিহ্ন নেই।
কিয়েভ এ ব্যাপারে একরোখা যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তাদের যে সীমানা রয়েছে, রাশিয়ান সৈন্যদের হটিয়ে তা রক্ষিত রাখতে হবে। অন্যদিকে, তাদের ইউক্রেনকে যথাযথ রাষ্ট্র নয় দাবি করে লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে চায় রাশিয়া।
শীতকাল জুড়ে তীব্র লড়াইয়ে উভয় পক্ষেরই ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন প্রায় ১০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ২০২২ সালের শরতের পর থেকে এলাকাটির খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি।
দুই বছর আগে রাশিয়ার পুরো মাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই ইউক্রেনীয়রা রাশিয়ান সৈন্যদের রাজধানী কিয়েভ ও উত্তরাঞ্চল থেকে হটিয়ে দিতে সক্ষম হয়। ওই বছরের শেষদিকে তারা পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলেও দখল করা বড় এলাকা উদ্ধার করে। কিন্তু এই মূহুর্তে রাশিয়া শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, আর ইউক্রেনীয়রা বলছে যে তাদের গোলা বারুদ ফুরিয়ে আসছে।
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি, ইউক্রেন দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পূর্বাঞ্চলীয় শহর আভদিভকা থেকে তার সৈন্য প্রত্যাহার করে। রাশিয়া এটাকে বড় জয় হিসেবে দেখছে। কণ কৌশলগতভাবে আভডিভকা শহরটি আরও ভেতরে অভিযানের পথ খুলে দিতে পারে।
কিয়েভ বলেছে যে বর্তমানে ইউক্রেনের ১৮ শতাংশ অঞ্চল রুশ শক্তির নিয়ন্ত্রণে, যার মধ্যে ২০১৪ সালের মার্চে দখল করা ক্রিমিয়া ও দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলের বিরাট অংশও রয়েছে।
গত দুই বছরে মিত্ররা ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণ সামরিক, আর্থিক ও মানবিক সহায়তা দিয়েছে। কিল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমি অনুসারে, ২০২৪ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৯২ বিলিয়ন বা ৯,০০০ বিলিয়ন ডলার এসেছে।
পশ্চিমা সরবরাহকৃত ট্যাংক, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার কামান ইউক্রেনকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে সহায়তার পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে, ইউক্রেনের মিত্ররা আসলে কতদিন সহায়তা চালিয়ে যেতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে ইউক্রেনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও এই মুহূর্তে চাপে রয়েছে। সামনেই দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এর আগে, ইউক্রেনের জন্য বাইডেন সরকারের নতুন ৬০ বিলিয়ন বা ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘরোয়া রাজনীতির কারণে কংগ্রেসে আটকে আছে। আর ইউক্রেনের সমর্থকরা আশঙ্কা করছেন যে নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতলে মার্কিন সাহায্য বন্ধ হয়ে যাবে।
রাশিয়ার সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিবেশি বেলারুশ, যাদের বিভিন্ন এলাকা ও আকাশপথ ব্যবহার করে ইউক্রেনে প্রবেশ করছে রুশ সৈন্যরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ বলছে, ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করছে। যুদ্ধ শুরুর আগে রাশিয়াকে অল্প কিছু ড্রোন দিয়েছে বলে স্বীকার করেছিল ইরান।
আবার পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বহর রাশিয়ার ওপর তারা যেভাবে চেয়েছিল সেভাবে কাজ করেনি। যেহেতু রাশিয়া এখনও তেল বিক্রি করতে সক্ষম, এটি অন্যান্য দেশ থেকে তার সামরিক শিল্পের জন্য সরঞ্জাম আমদানি করতেও সক্ষম।
চীন অবশ্য কোনো দেশকে অস্ত্র সহায়তা দিচ্ছে না। যুদ্ধকে ঘিরে তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তাদের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। তারা হামলার জন্য রাশিয়ার নিন্দা বা মস্কোর সামরিক বাহিনীকে সমর্থন করছে না। তবে চীন ও ভারত নিয়মিত রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় অব্যাহত রেখেছে।
এখনো বেশিরভাগের বিশ্বাস যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পুরো ইউক্রেন পেতে চান। যুক্তরাষ্ট্রের টক শো উপস্থাপক টাকার কার্লসনের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ ব্যাপারে তার মতামত তুলে ধরেন।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ান রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন যে তাদের ‘বিশেষ সামরিক অভিযানের’ লক্ষ্য বদল হয়নি। তিনি ইউক্রেনকে চরম ডানপন্থী প্রভাব থেকে বের করে আনতে চান। একই সঙ্গে পুতিন বলেন, ইউক্রেনের ‘সামরিক বাহিনী বিলুপ্ত’ করে একটি ‘নিরপেক্ষ’ দেশ হিসেবে দেখতে চান তিনি। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে ন্যাটো যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে এই অঞ্চলে সেটার বিরোধিতা করেন তিনি।
একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে ইউক্রেন কখনোই কোনো সামরিক জোটের অংশ ছিল না। ইইউতে যোগদানের তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং ন্যাটোর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য আলোচনা উভয়ই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সাফল্যে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে হয়।
এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়েই উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা নিয়মিত কূটনৈতিক সফর করছেন আফ্রিকা মহাদেশ ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে সমর্থন চাইতে।



















