ঢাকা ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo একটি কোম্পানির মাধ্যমে সকল রুটে গণপরিবহন পরিচালনা করা হবে : সড়ক পরিবহন মন্ত্রী Logo বটতলায় জমজমাট ফাইনাল: চ্যাম্পিয়ান ভাতকাঠি একতা ফাউন্ডেশন। Logo সুন্দরগঞ্জে কৃষকদের মাঝে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ Logo অটোরিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল শিশুর Logo জনগণের ভালোবাসা বড় শক্তি, নিরাপত্তা কড়াকড়ি যেন দূরত্ব তৈরি না করে: প্রধানমন্ত্রী Logo রাজাপুর সদর ইউনিয়নে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করলেন ছাত্রনেতা নাফিজ Logo বাংলাদেশের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল দারাজ Logo বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী Logo বাগেরহাটে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সনাকের মানববন্ধন ও ১১ দফা সুপারিশ পেশ Logo বিদ্যালয়ে প্রেম নিবেদন, থানায় ৩ কিশোর, বহিষ্কার ২ ছাত্রী

নিবন্ধন পেতে হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা বাংলাদেশ জাতীয় দলের

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:২৪:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ মে ২০২৩ ২৮৪ বার পঠিত

 

নিজস্ব প্রতিনিধি:
নির্বাচন কমিশন থেকে দলটির নিবন্ধন না পেয়ে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। বৃহস্পতিবার (১১ মে) বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে মুচলেকা দিয়ে দলের নিবন্ধন নেবো না। আমরা সব নিয়ম মেনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাদের নিবন্ধন দেওয়া হয়নি। আমরা এখন উচ্চ আদালতে যাব।’
শর্ত সাপেক্ষে জাতীয় দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু ইসির শর্ত পূরণ ও সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জাতীয় দলের নিবন্ধন আবেদন খারিজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এহসানুল হুদা।

তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে ৪০টি দলের মধ্যে বাকি ১২টি রাজনৈতিক দল কীভাবে নিবন্ধন পাচ্ছে তা স্পষ্ট করতে তিনি ইসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এহসানুল হুদা জানান, তার দলের নিবন্ধন নিয়ে তিনি আদালতে যাবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ এহসানুল হুদা আরও বলেন, দলের নিবন্ধন পেতে তিনটি শর্তের মধ্যে দ্বিতীয় শর্ত (আ) ধারা অনুযায়ী আমরা আবেদন করি। শর্তে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিল করার তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে যেকোনো একটিতে দরখাস্তকারী দল কর্তৃক নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত নির্বাচিত এলাকায় প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যার শতকরা পাঁচ ভাগ ভোট লাভের সমর্থনে কমিশন কর্তৃক ইস্যুকৃত প্রত্যয়ন পত্র দিতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সৈয়দ সিরাজুল হুদা ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হন এবং তৎকালীন ময়মনসিংহ-২৩, বর্তমানে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে খেজুর গাছ মার্কা প্রতীকে নির্বাচন করে মোট ১২.৭% ভোট পেয়ে জয়ী হন।

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন নির্বাচন কমিশনের প্রাপ্ত ভোটের ফলাফলের প্রামাণ্য বিবরণ দাখিল করি এবং ১২.৭% ভোট পাওয়ার প্রত্যয়নপত্রের জন্য কমিশনের কাছে আবেদন করি, কমিশনপত্র মারফত জানায় কমিশনের তথ্য সংরক্ষিত না থাকায় প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা সম্ভব নয়। আমরা কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত প্রাপ্ত ভোটের যে তালিকা দাখিল করলাম এটা সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়ে তথ্য সংরক্ষিত নাই কথাটা বলা একেবারে অযৌক্তিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে কমিশন আমাদের সাথে এমন আচরণ করেছে যেন আমরা একটি নতুন দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছি, আমরা ১২.৭% ভোট পেয়েছি তা সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করে। তারা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের নাম, পদবী, এনআইডি নম্বর এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া অন্যান্য অনেক কিছু দিতে বলে যা নিবন্ধনের জন্য গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত আবেদনপত্রের সঙ্গে আবশ্যকীয় দলিলাদি বহির্ভূত।’

এহসানুল হুদা বলেন, “অবশেষে কমিশন উল্লেখ করেছে যে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ধারা ৯০ খ (১) (ক) (আ) এর শর্ত পূরণ না হওয়ায় কমিশন নিবন্ধনের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি। তবে, কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ধারায় শর্ত পূরণ হয়নি উল্লেখ করে জাতীয় দলটিকে নিবন্ধনের অযোগ্য ঘোষণা করেছে, ওই ধারার একমাত্র শর্ত হলো ৫% ভোট পাওয়া।যেটা জাতীয় দল দ্বিগুণেরও বেশি অর্থাৎ ১২.৭% ভোট পেয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের দেওয়া প্রত্যয়ন পত্র জমা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ১২.৭% ভোট পাওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে নজিরবিহীন একটি মন্দ নজির সৃষ্টি করেছে। যা ন্যাক্কারজনক।’
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করছি যে ৪০টি দলের মধ্যে কোনটি নিবন্ধনের জন্য যোগ্য হয়েছে তা জনগণকে জানাতে এবং প্রাথমিকভাবে নিবন্ধনের জন্য মনোনীত ১২টি দলের যৌক্তিকতা ও যোগ্যতা ব্যাখ্যা করতে। তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী আমাদের এবং জনসাধারণের উপরোক্ত বিষয়ে জানার অধিকার রয়েছে। তদুপরি, আমরা আইনের সাহায্যে প্রমাণ করব যে বাংলাদেশ জাতীয় দল নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুসারে নিবন্ধন পাওয়ার ১০০% যোগ্য।’

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মহাসচিব রফিকুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুল আহাদ, সারওয়ার আলম, যুগ্ম মহাসচিব লুৎফুল হাবিব লিটন, জিয়াউল হক জিয়া ও প্রচার সম্পাদক বেলায়েত হোসেন শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিবন্ধন পেতে হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা বাংলাদেশ জাতীয় দলের

আপডেট সময় : ০২:২৪:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ মে ২০২৩

 

নিজস্ব প্রতিনিধি:
নির্বাচন কমিশন থেকে দলটির নিবন্ধন না পেয়ে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। বৃহস্পতিবার (১১ মে) বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে মুচলেকা দিয়ে দলের নিবন্ধন নেবো না। আমরা সব নিয়ম মেনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাদের নিবন্ধন দেওয়া হয়নি। আমরা এখন উচ্চ আদালতে যাব।’
শর্ত সাপেক্ষে জাতীয় দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু ইসির শর্ত পূরণ ও সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ জাতীয় দলের নিবন্ধন আবেদন খারিজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এহসানুল হুদা।

তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে ৪০টি দলের মধ্যে বাকি ১২টি রাজনৈতিক দল কীভাবে নিবন্ধন পাচ্ছে তা স্পষ্ট করতে তিনি ইসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এহসানুল হুদা জানান, তার দলের নিবন্ধন নিয়ে তিনি আদালতে যাবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ এহসানুল হুদা আরও বলেন, দলের নিবন্ধন পেতে তিনটি শর্তের মধ্যে দ্বিতীয় শর্ত (আ) ধারা অনুযায়ী আমরা আবেদন করি। শর্তে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিল করার তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে যেকোনো একটিতে দরখাস্তকারী দল কর্তৃক নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত নির্বাচিত এলাকায় প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যার শতকরা পাঁচ ভাগ ভোট লাভের সমর্থনে কমিশন কর্তৃক ইস্যুকৃত প্রত্যয়ন পত্র দিতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সৈয়দ সিরাজুল হুদা ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হন এবং তৎকালীন ময়মনসিংহ-২৩, বর্তমানে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে খেজুর গাছ মার্কা প্রতীকে নির্বাচন করে মোট ১২.৭% ভোট পেয়ে জয়ী হন।

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন নির্বাচন কমিশনের প্রাপ্ত ভোটের ফলাফলের প্রামাণ্য বিবরণ দাখিল করি এবং ১২.৭% ভোট পাওয়ার প্রত্যয়নপত্রের জন্য কমিশনের কাছে আবেদন করি, কমিশনপত্র মারফত জানায় কমিশনের তথ্য সংরক্ষিত না থাকায় প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা সম্ভব নয়। আমরা কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত প্রাপ্ত ভোটের যে তালিকা দাখিল করলাম এটা সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়ে তথ্য সংরক্ষিত নাই কথাটা বলা একেবারে অযৌক্তিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে কমিশন আমাদের সাথে এমন আচরণ করেছে যেন আমরা একটি নতুন দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছি, আমরা ১২.৭% ভোট পেয়েছি তা সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করে। তারা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের নাম, পদবী, এনআইডি নম্বর এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া অন্যান্য অনেক কিছু দিতে বলে যা নিবন্ধনের জন্য গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত আবেদনপত্রের সঙ্গে আবশ্যকীয় দলিলাদি বহির্ভূত।’

এহসানুল হুদা বলেন, “অবশেষে কমিশন উল্লেখ করেছে যে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ধারা ৯০ খ (১) (ক) (আ) এর শর্ত পূরণ না হওয়ায় কমিশন নিবন্ধনের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি। তবে, কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ধারায় শর্ত পূরণ হয়নি উল্লেখ করে জাতীয় দলটিকে নিবন্ধনের অযোগ্য ঘোষণা করেছে, ওই ধারার একমাত্র শর্ত হলো ৫% ভোট পাওয়া।যেটা জাতীয় দল দ্বিগুণেরও বেশি অর্থাৎ ১২.৭% ভোট পেয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের দেওয়া প্রত্যয়ন পত্র জমা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ১২.৭% ভোট পাওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে নজিরবিহীন একটি মন্দ নজির সৃষ্টি করেছে। যা ন্যাক্কারজনক।’
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করছি যে ৪০টি দলের মধ্যে কোনটি নিবন্ধনের জন্য যোগ্য হয়েছে তা জনগণকে জানাতে এবং প্রাথমিকভাবে নিবন্ধনের জন্য মনোনীত ১২টি দলের যৌক্তিকতা ও যোগ্যতা ব্যাখ্যা করতে। তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী আমাদের এবং জনসাধারণের উপরোক্ত বিষয়ে জানার অধিকার রয়েছে। তদুপরি, আমরা আইনের সাহায্যে প্রমাণ করব যে বাংলাদেশ জাতীয় দল নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুসারে নিবন্ধন পাওয়ার ১০০% যোগ্য।’

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মহাসচিব রফিকুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুল আহাদ, সারওয়ার আলম, যুগ্ম মহাসচিব লুৎফুল হাবিব লিটন, জিয়াউল হক জিয়া ও প্রচার সম্পাদক বেলায়েত হোসেন শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।