দেশের সব জনগণ রাজপথে নামছে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য: রিজভী
- আপডেট সময় : ০৪:৩৯:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জুন ২০২৩ ১৯২ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:
নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য এদেশের সব মানুষ, কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র ও পেশাজীবী রাজপথে নামছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। আপনি (শেখ হাসিনা) বলেছেন বিদেশিরা যা বলে তার কাছে মাথা নত করবেন না। জনগণ যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে রাজপথে নামবে, তখন আপনি আইন-শৃঙ্খলা দিয়ে তাদের বাধা দেবেন- এই জন্য মাথা উঁচু করে থাকবেন। যদি সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলা হয়, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কথা বলা হয়, রাতের ভোট দিনে করতে বলা হয়- তাহলে আপনি তাদের কাছে মাথা নত করবেন না।
বৃহস্পতিবার (২২ জুন) দুপুরে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম (ঢাকা বার) আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সত্য কথা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কয়েকদিন আগে বলেছেন- ‘সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আমাদের নেত্রী’। কিন্তু শেখ হাসিনার অধীনে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। ওবায়দুল কাদের কি ২০১৮ সালের নির্বাচনের কথা ভুলে গেছেন? ওই নির্বাচনের আগে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘আমাদের নেত্রী সুষ্ঠু নির্বাচন করবেন। ওই নির্বাচন আমরা দেখেছি। ওই নির্বাচনকে বলা হয় মিডনাইট নির্বাচন।’
বিএনপি নেতা আরও বলেন, ১৯৮৬ সালে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এরশাদের অধীনে যারা নির্বাচনে যাবে তারা দেশদ্রোহী। ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই তিনি জাতীয় বেইমান হলেন। তিনি এরশাদের সঙ্গে নির্বাচনে গিয়েছিলেন। জনগণের প্রতি শেখ হাসিনার দায়বদ্ধতার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এটা দেশবাসী দেখেছে। অন্যদিকে জিয়াউর রহমানের কথা ও কাজ, জাতীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা ও কাজ সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। এটাও দেশবাসী দেখছে।
রিজভী বলেন, কার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে? শেখ হাসিনার অধীনে? ২০০৪ সালে শেখ হাসিনা কী আন্দোলন শুরু করেছিলেন তা আপনাদের মনে নেই? বিচারপতি কে এম হাসান- যিনি একসময় কয়েক মাস বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তাই তার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না বলে আন্দোলন শুরু করেন শেখ হাসিনা। কিন্তু শেখ হাসিনা ৪৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতি, তাহলে আপনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কীভাবে? যিনি কয়েক মাস বিএনপির সেক্রেটারি ছিলেন তার অধীনে যদি সুষ্ঠু নির্বাচন না হয়, তাহলে আপনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে তার নিশ্চয়তা ওবায়দুল কাদের কীভাবে দেবেন? কোনোদিন এটি সম্ভব নয়।
মিলাদ মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আইনজীবী নেতা মাসুদ আহমেদ তালুকদার।






















