ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাসড়কে আন্ডারপাস নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন Logo বিশ্বের প্রথম কেইজ ফ্রেম ডিজাইন করা স্মার্টফোন নিয়ে বাজারে এলো আইটেল পাওয়ার ৮০ Logo মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শায়খ ইবরাহিম মারা গেছেন Logo প্রিয় অভিনেত্রীকে দেখতে ভিড়, হুড়োহুড়িতে গাড়িতে পাথর ছুড়ল ভক্তরা Logo এশিয়ান গেমস: মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, বাংলাদেশের বিদায় Logo আইজিপিসহ পুলিশ পদক পাচ্ছেন ৯২ সদস্য Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাশবনে হাত-মুখ বাঁধা মরদেহ উদ্ধার Logo নজরুলের চেতনায় আলোকিত প্রজন্ম গড়ার আহ্বান Logo সাতক্ষীরার এমপির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর মূল হোতা শ্যালক ওবায়দুর: মরিয়মের বাবা Logo বাংলাদেশ আর্চারী ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন

কাশিমপুরে সড়ক ধস : অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:২০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫১৬ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। বৃহস্পতিবার ।। ২৬.০২.২০২৬ ।।

গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুর ধনঞ্জয়খালী এলাকায় নির্মাণাধীন সড়ক ধসের ঘটনায় সম্ভাব্য অনিয়ম ও গাফিলতির বিষয়টি তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে অভিযান শেষে দুদকের গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এনামুল হক এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রায় ১৪ কোটি ও ১১ কোটি টাকা ব্যয়ের দুটি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যেই ধসে পড়ার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ২০২১–২২ অর্থবছরের প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনবার বাড়ানো হয়েছে, যা নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে কি না তাও তদন্তে দেখা হবে। এনামুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রকল্পের নকশা বা পরিকল্পনায় ত্রুটি থাকতে পারে। খালের ওপর বড় অবকাঠামো নির্মাণের পরও অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তা ধসে পড়া স্বাভাবিক নয়। সাম্প্রতিক সময়ে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগও ঘটেনি। তাই কাগজপত্র পর্যালোচনা করে কোথায় গাফিলতি, ঘাটতি বা অর্থ আত্মসাতের ঘটনা রয়েছে কি না তা যাচাই করা হবে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দুদক কমিশনে দাখিল করা হবে এবং কমিশন প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে প্রকল্পে তিনজন ঠিকাদার অংশ নিয়েছেন। কোথাও অবৈধভাবে কাজ হস্তান্তর করা হয়েছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে। নথিতে কাজের অগ্রগতি ৬০ ও ৮৫ শতাংশ উল্লেখ থাকলেও সরেজমিনে অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন দেখা গেছে। কিছু ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক ও নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বাক্ষর ছাড়াই নমুনা অনুমোদনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
অভিযানের সময় দুদক কর্মকর্তারা বিভিন্ন প্রকল্পসংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করেন এবং সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম হারুন অর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার দপ্তরে অনুসন্ধান চালান। উল্লেখ্য, কাশিমপুরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় প্যাকেজ নম্বর–৫ ও ১২-এর আওতায় সড়ক নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউসিসিএল। প্রকল্পে ডব্লিউবিএম, ৬০ মিলিমিটার কার্পেটিং, ফুটপাত, রেলিং ও গার্ড ওয়াল নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। সম্প্রতি নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের একটি অংশে নিচের মাটি সরে গিয়ে প্রায় ৩০ মিটার রাস্তা ধসে পড়ে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ট্যাগস :

কাশিমপুরে সড়ক ধস : অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক

আপডেট সময় : ০৭:২০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। বৃহস্পতিবার ।। ২৬.০২.২০২৬ ।।

গাজীপুর প্রতিনিধি :
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুর ধনঞ্জয়খালী এলাকায় নির্মাণাধীন সড়ক ধসের ঘটনায় সম্ভাব্য অনিয়ম ও গাফিলতির বিষয়টি তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে অভিযান শেষে দুদকের গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এনামুল হক এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রায় ১৪ কোটি ও ১১ কোটি টাকা ব্যয়ের দুটি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যেই ধসে পড়ার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ২০২১–২২ অর্থবছরের প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনবার বাড়ানো হয়েছে, যা নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে কি না তাও তদন্তে দেখা হবে। এনামুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রকল্পের নকশা বা পরিকল্পনায় ত্রুটি থাকতে পারে। খালের ওপর বড় অবকাঠামো নির্মাণের পরও অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তা ধসে পড়া স্বাভাবিক নয়। সাম্প্রতিক সময়ে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগও ঘটেনি। তাই কাগজপত্র পর্যালোচনা করে কোথায় গাফিলতি, ঘাটতি বা অর্থ আত্মসাতের ঘটনা রয়েছে কি না তা যাচাই করা হবে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দুদক কমিশনে দাখিল করা হবে এবং কমিশন প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে প্রকল্পে তিনজন ঠিকাদার অংশ নিয়েছেন। কোথাও অবৈধভাবে কাজ হস্তান্তর করা হয়েছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে। নথিতে কাজের অগ্রগতি ৬০ ও ৮৫ শতাংশ উল্লেখ থাকলেও সরেজমিনে অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন দেখা গেছে। কিছু ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক ও নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বাক্ষর ছাড়াই নমুনা অনুমোদনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
অভিযানের সময় দুদক কর্মকর্তারা বিভিন্ন প্রকল্পসংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করেন এবং সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম হারুন অর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার দপ্তরে অনুসন্ধান চালান। উল্লেখ্য, কাশিমপুরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় প্যাকেজ নম্বর–৫ ও ১২-এর আওতায় সড়ক নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউসিসিএল। প্রকল্পে ডব্লিউবিএম, ৬০ মিলিমিটার কার্পেটিং, ফুটপাত, রেলিং ও গার্ড ওয়াল নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। সম্প্রতি নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কের একটি অংশে নিচের মাটি সরে গিয়ে প্রায় ৩০ মিটার রাস্তা ধসে পড়ে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।