এই প্রথম নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ইতিহাস গড়লো টাইগাররা
- আপডেট সময় : ০৫:০১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩ ৩৩৪ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরিজ হাতছাড়া হয়ে গেছে আগেই। আদতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেটি কেবল আনুষ্ঠানিকতার। তবে বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচটি ছিল অনেকদিক দিয়েই গুরুত্ববহ। শুধু হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানোই নয়, ইতিহাস গড়ার হাতছানিও ছিল।
নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট জিতলেও এর আগে কখনই সীমিত ওভারে (ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি) জয় দেখেনি বাংলাদেশ। দীর্ঘ ১৬ বছর ১৮ ম্যাচের অপেক্ষার পর অবশেষে সেই মুহূর্ত এল। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের বিপক্ষে প্রথম জয় পায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের পর তানজিম হাসান সাকিব, শরিফুল ইসলামের বোলিং অনেকটাই নিশ্চিত। ব্যাটিং অবিশ্বাস্যভাবে খারাপ না হলে জয়ের ভাগ্য ছিল, কিন্তু তাই হয়েছে।
নেপিয়ারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে ৯ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। জবাবে মাত্র ১৫ ওভার ২ বলেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সফরকারীরা। কিউইরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলেও প্রথম জয় পেয়ে স্বস্তিতে বাংলাদেশ।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। একাদশে এসেছে পরিবর্তন। হাসান মাহমুদের জায়গায় এসেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। বোলিংয়ে এখন পর্যন্ত মূল কাজটি করছেন তানজিম হাসান সাকিব ও শরিফুল ইসলাম।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারের শেষ বলে প্রথম উইকেট পায় বাংলাদেশ। রচিন রবীন্দ্র তানজিম সাকিবের বলে ঘুষি মেরে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দেন। ১২ বলে ৮ রান করে ফেরেন তিনি।
পরের ওভারে মেডেন করেন তানজিম। এরপর নিজের চতুর্থ ও দলের অষ্টম ওভার বল করতে এসে আরও একটি উইকেট পান। এবার মিড-অনে ১২ বলে ১ রানে ক্যাচ দেন হেনরি নিকোলস। প্রথম পাওয়ার প্লেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের। নিউজিল্যান্ড ১০ ওভারে মাত্র ২৭ রান, তানজিম সাকিব ৫ ওভারে ৯ রান দেন।
এরপর আবারও জুটি বেঁধেছেন আগের ম্যাচে দুর্দান্ত দুই ব্যাটসম্যান টম ল্যাথাম ও উইল ইয়াং। টম ল্যাথামকে বোল্ড করে ৩৬ রানের জুটি ভাঙেন শরিফুল ইসলাম। ৩৪ বলে ২১ রান করে আউট হন কিউই অধিনায়ক।
ইয়াংকেও আউট করেন শরিফুল, লাথামের পরে থিতু হওয়া আরেক ব্যাটার। ৪৩ বলে ২৬ রান করা ওপেনার মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন। পরে মার্ক চ্যাপম্যানকেও শরিফুল ফেরত পাঠালে নিউজিল্যান্ড মাত্র ৬৩ রানে ৫ উইকেট হারায়।
বাকি পাঁচ উইকেট নেন সৌম্য, মুস্তাফিজ ও তানজিম সাকিব। ৭ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তানজিম। তিনটি করে উইকেট নেন সৌম্য ও শরিফুল। একটি উইকেট গেল মুস্তাফিজেরও।
নিউজিল্যান্ডকে প্রথমবারের মতো ১০০ রানের নিচে থামায় বাংলাদেশ। এর আগে তারা ২০১৩ সালে মিরপুরে মাত্র ১৬২ রানে অলআউট হয়েছিল। আজকের আগে দেশের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বনিম্ন রান ছিল ২০১৬ সালে ২৫১ রান।
বাংলাদেশের জন্য এটি ছিল সহজ রান তাড়া। বাংলাদেশ এর আগে কখনো ১০০ রানের নিচে হারতে পারেনি। সময়ের সাথে সাথে আজও সেই সম্ভাবনা কমেছে। নিউজিল্যান্ড ঘরের মাটিতে মাত্র একবার ১০ উইকেটের ব্যবধানে হেরেছে। ১৯৮৭ সালে ক্রাইস্টচার্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
দ্বিতীয়বারের মতো এমন ঘটনার পথে ভালোই ছিল বাংলাদেশ। শুরুতে ওপেনার সৌম্য সরকারকে উঠে যেতে হলেও নট আউট। চোখের সমস্যার কারণে তিনি অবসরপ্রাপ্ত হার্টে পরিণত হন। ১৬ বলে ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন সৌম্য।
এরপর উইকেটে এনামুল হক বিজয়ের সঙ্গে যোগ দেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে শান্ত রান আউট হয়ে গেলেও উইল ইয়াং সরাসরি থ্রো দিয়ে স্টাম্প ভাঙতে পারেননি।
তবে বিজয় আউট হওয়ায় বাংলাদেশ ১০ উইকেটের জয় পায়নি। তিনি ৩৩ বলে ৩৭ রান করেন এবং উইকেটের পিছনে ক্যাচ দেন। তবে দলের বাকি কাজটা করেছেন শান্ত ও লিটন। জয়ের রানও এসেছে শান্তর ব্যাট থেকে, একই সময়ে তার হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে। এরপর আকাশের দিকে তাকিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন বাংলাদেশের ‘ভারপ্রাপ্ত’ অধিনায়ক।





















