ঢাকা ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo শিক্ষার্থীদের জন্য দারাজে এক্সক্লুসিভ ডিসকাউন্ট নিয়ে আসছে রিয়েলমি সি১০০এক্স Logo দীর্ঘস্থায়ী ৭,৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি এবং শক্তিশালী গরিলা গ্লাস ৭আই সুরক্ষা নিয়ে শাওমি উন্মোচন করল নতুন রেডমি ১৭ Logo ধামরাইয়ে দেপাশাই চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ফুটবল ফাইনাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে Logo ভূমিকম্প ঝুঁকি কমাতে ত্রুটিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: রাজউক চেয়ারম্যান Logo মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিক্ষকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের মতবিনিময়।  Logo  কসবায় ২৬৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার Logo আশুগঞ্জে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মানববন্ধন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তীব্র যানজট Logo ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসে রেকর্ড ৫১ হাজার আটক Logo আজই কি বিয়ে রোনালদো-জর্জিনার? মাদেইরায় জোর গুঞ্জন Logo রাসেল ক্রোর সঙ্গে প্রথমবার জুটি বাঁধছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

আফগানদের হারিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শুভসূচনা

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:৩১:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ অক্টোবর ২০২৩ ২১০ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:

প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল। তবে এই ম্যাচ নিয়ে বড় শঙ্কা ছিল বাংলাদেশের। বিশ্বকাপে এটাই তাদের প্রথম ম্যাচ। তার বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণ সবসময়ই উদ্বেগের কারণ। রশিদ খান, মুজিব উর রহমান, মোহাম্মদ নবী, ফজলহক ফারুকী- আফগানদের এই বোলিং লাইনআপ যে কোনও দিন যে কোনও দলকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে।

তবে বাংলাদেশকে চমকে দিতে পারেনি আফগানিস্তান। শক্তির পার্থক্য দেখিয়ে দুর্দান্ত জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে সাকিব আল হাসানের দল। তারা ৯২ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে আফগানিস্তানকে হারিয়েছে।

ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বোলাররাই অর্ধেক কাজ করতেন। সাকিব-মিরাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৫৬ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান। আফগান ব্যাটসম্যানদের কেউই ফিফটি করতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৪৭ রান আসে ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজের ব্যাট থেকে। এছাড়া ইব্রাহিম জাদরান ও আজমতুল্লাহ ওমরজাই ২২ রান করেন।

মেহেদি হাসান মিরাজ ২৫ ও সাকিব ৩০ রানে ৩টি করে উইকেট নেন। শরিফুল ইসলাম ৩৪ রানে ২ উইকেট নেন।
১৫৭ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। ২৭ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়েছে। তবে টাইগারদের জয়ের সহজ পথ করে দেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও নাজমুল হোসেন শান্ত।

মিরাজকে এখন টপ অর্ডার ব্যাটার বলা যেতে পারে। একবার বা দুইবার নয়, যতবার ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন ততবারই নিজেকে একজন প্রকৃত ব্যাটার হিসেবে প্রমাণ করছেন এই অলরাউন্ডার।

মিরাজ আজ তিন নম্বরে নেমেও সফল। ১৯ রানে দলের প্রথম উইকেটের পতনের পর ক্রিজে আসেন। ২৭ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতনও দেখেছেন। তবে দলকে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়তে দেননি মিরাজ। নাজমুল হোসেন শান্তর পাশাপাশি বাংলাদেশের অনায়াসে জয়ের পথ তৈরি করেন এই অলরাউন্ডার। তৃতীয় উইকেটে ১২৯ বলে ৯৭ রানের জুটি গড়েন তারা।

ক্যারিয়ারের তৃতীয় ওয়ানডে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মিরাজ। শেষ পর্যন্ত নবীন-উল-হকের বলে রহমত শাহের এক হাতে দুর্দান্ত ক্যাচে থেমে যায় তার ইনিংস। মিরাজ ৭৩ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৫৭ রান করেন। জয় থেকে ১১ রান দূরে নিজের উইকেট তুলে দেন সাকিব আল হাসান। আজমতুল্লাহ ওমরজাইকে ছক্কা মেরে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন টাইগার অধিনায়ক (১৯ বলে ১৪)।

তবে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিতে ভুল করেননি শান্ত। ৮০ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। শেষ পর্যন্ত ৮৩ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৫৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। নাভিন উল হককে পরপর দুটি বাউন্ডারি মেরে শান্তর ব্যাট থেকেও জয় আসে। ২ রানে অপরাজিত আছেন মুশফিকুর রহিম।

১৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ২৭ রানে দুই উইকেট হারায় টাইগাররা। তবে দুর্ভাগ্যের শিকার হন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। রান নিতে গিয়ে নাজিবুল্লাহ জাদরানের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হন তানজিদ তামিম। তখন ১৩ বলে ৫ রান নিয়ে ব্যাট করছিলেন তিনি। দলের রান ছিল ১৯।

লিটন দাসকে নিয়ে প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। কিন্তু তিনিও ব্যর্থ হন। ইনিংসের সপ্তম ওভারের ৪র্থ বলে ফজল হক ফারুকির বলে বোল্ড হন। কভার জোন দিয়ে আঘাত করার জন্য শট খেলেন। কিন্তু বল ভিতরের প্রান্তে লেগে স্টাম্পে আঘাত করে। তিনি সাহসী হয়ে উঠলেন। এই সময়ে দলের রান ২৭।

এরপর জুটি বেঁধেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদি হাসান মিরাজ। মিরাজ অবশ্য তার পঞ্চাশের পথে ১৬ রানে একবার জীবন পেয়েছিলেন। পয়েন্টে তার ক্যাচ ছেড়ে দেন মোহাম্মদ নবী। এ কারণেই মনে হয় ভাগ্য সবসময় সাহসীদের পক্ষে থাকে।

আফগানদের হারিয়ে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শুভসূচনা

আপডেট সময় : ০৫:৩১:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ অক্টোবর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিনিধি:

প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল। তবে এই ম্যাচ নিয়ে বড় শঙ্কা ছিল বাংলাদেশের। বিশ্বকাপে এটাই তাদের প্রথম ম্যাচ। তার বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণ সবসময়ই উদ্বেগের কারণ। রশিদ খান, মুজিব উর রহমান, মোহাম্মদ নবী, ফজলহক ফারুকী- আফগানদের এই বোলিং লাইনআপ যে কোনও দিন যে কোনও দলকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে।

তবে বাংলাদেশকে চমকে দিতে পারেনি আফগানিস্তান। শক্তির পার্থক্য দেখিয়ে দুর্দান্ত জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে সাকিব আল হাসানের দল। তারা ৯২ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে আফগানিস্তানকে হারিয়েছে।

ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বোলাররাই অর্ধেক কাজ করতেন। সাকিব-মিরাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৫৬ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান। আফগান ব্যাটসম্যানদের কেউই ফিফটি করতে পারেননি। সর্বোচ্চ ৪৭ রান আসে ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজের ব্যাট থেকে। এছাড়া ইব্রাহিম জাদরান ও আজমতুল্লাহ ওমরজাই ২২ রান করেন।

মেহেদি হাসান মিরাজ ২৫ ও সাকিব ৩০ রানে ৩টি করে উইকেট নেন। শরিফুল ইসলাম ৩৪ রানে ২ উইকেট নেন।
১৫৭ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। ২৭ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়েছে। তবে টাইগারদের জয়ের সহজ পথ করে দেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও নাজমুল হোসেন শান্ত।

মিরাজকে এখন টপ অর্ডার ব্যাটার বলা যেতে পারে। একবার বা দুইবার নয়, যতবার ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন ততবারই নিজেকে একজন প্রকৃত ব্যাটার হিসেবে প্রমাণ করছেন এই অলরাউন্ডার।

মিরাজ আজ তিন নম্বরে নেমেও সফল। ১৯ রানে দলের প্রথম উইকেটের পতনের পর ক্রিজে আসেন। ২৭ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতনও দেখেছেন। তবে দলকে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়তে দেননি মিরাজ। নাজমুল হোসেন শান্তর পাশাপাশি বাংলাদেশের অনায়াসে জয়ের পথ তৈরি করেন এই অলরাউন্ডার। তৃতীয় উইকেটে ১২৯ বলে ৯৭ রানের জুটি গড়েন তারা।

ক্যারিয়ারের তৃতীয় ওয়ানডে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মিরাজ। শেষ পর্যন্ত নবীন-উল-হকের বলে রহমত শাহের এক হাতে দুর্দান্ত ক্যাচে থেমে যায় তার ইনিংস। মিরাজ ৭৩ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৫৭ রান করেন। জয় থেকে ১১ রান দূরে নিজের উইকেট তুলে দেন সাকিব আল হাসান। আজমতুল্লাহ ওমরজাইকে ছক্কা মেরে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন টাইগার অধিনায়ক (১৯ বলে ১৪)।

তবে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিতে ভুল করেননি শান্ত। ৮০ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। শেষ পর্যন্ত ৮৩ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৫৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। নাভিন উল হককে পরপর দুটি বাউন্ডারি মেরে শান্তর ব্যাট থেকেও জয় আসে। ২ রানে অপরাজিত আছেন মুশফিকুর রহিম।

১৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ২৭ রানে দুই উইকেট হারায় টাইগাররা। তবে দুর্ভাগ্যের শিকার হন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। রান নিতে গিয়ে নাজিবুল্লাহ জাদরানের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হন তানজিদ তামিম। তখন ১৩ বলে ৫ রান নিয়ে ব্যাট করছিলেন তিনি। দলের রান ছিল ১৯।

লিটন দাসকে নিয়ে প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। কিন্তু তিনিও ব্যর্থ হন। ইনিংসের সপ্তম ওভারের ৪র্থ বলে ফজল হক ফারুকির বলে বোল্ড হন। কভার জোন দিয়ে আঘাত করার জন্য শট খেলেন। কিন্তু বল ভিতরের প্রান্তে লেগে স্টাম্পে আঘাত করে। তিনি সাহসী হয়ে উঠলেন। এই সময়ে দলের রান ২৭।

এরপর জুটি বেঁধেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদি হাসান মিরাজ। মিরাজ অবশ্য তার পঞ্চাশের পথে ১৬ রানে একবার জীবন পেয়েছিলেন। পয়েন্টে তার ক্যাচ ছেড়ে দেন মোহাম্মদ নবী। এ কারণেই মনে হয় ভাগ্য সবসময় সাহসীদের পক্ষে থাকে।