ঢাকা ১১:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আইজিপির সঙ্গে ইউনেস্কো প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ Logo লেবাননের সাথে যুদ্ধবিরতির কোনো চুক্তি হবেনা : ইসরায়েলি সেনাপ্রধান Logo ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ ও মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা Logo ৬ বিভাগে প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা Logo ইরান যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ‘আসল খরচ’ হতে পারে ৪০–৫০ বিলিয়ন ডলার Logo প্রথম ভোটযুদ্ধেই বাজিমাত করলেন থালাপতি বিজয় Logo ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না বর্তমান সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo নাহিদ ইসলাম দুর্নীতিতে জড়িত না হলেও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ: রাশেদ খাঁন Logo আবারও বেড়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম Logo বৃষ্টির কারণে ভেস্তে গেল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি

সংবিধান লঙ্ঘনের পাশাপাশি শপথ ভঙ্গ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ ৬৪ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। মঙ্গলবার ।। ৩১ মার্চ ২০২৬ ।।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সংবিধানের সীমার বাইরে গিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের ফরম বিতরণ করে শপথ ভঙ্গ এবং সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তিনি এই প্রক্রিয়াকে অবৈধ উল্লেখ করে এটিকে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি ‘প্রতারণামূলক দলিল’ হিসেবে অভিহিত করেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার আনা মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ তুলে ধরে তিনি ২০২৫ সালে জারি করা ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ’-এর আইনগত ভিত্তি নেই বলে ব্যাখ্যা করেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ নিলেও কোন আইনের ভিত্তিতে তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের ফরম জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পাঠিয়েছেন—তা স্পষ্ট নয়। এটি তার এখতিয়ারের বাইরে হওয়ায় তা শপথ ভঙ্গ ও সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের জন্য যে ব্যালট দিয়েছে, সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হওয়ার কোনো বিষয় ছিল না। জনগণ তাদের সংসদ সদস্য হিসেবে ভোট দিয়েছে, কোনো অস্তিত্বহীন পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের জারি করা আদেশটি শুরু থেকেই বাতিল (ভয়েড অ্যাব ইনিশিও)। ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলের পর রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা আর কার্যকর নেই; সংবিধানের চতুর্থ তফশিলের ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সেই ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়েছে। ফলে ওই আদেশের ভিত্তিতে কোনো অধিবেশন আহ্বান বৈধ নয়। তার মতে, এটি কোনো অধ্যাদেশ বা আইন নয়, বরং সংসদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার একটি ব্যর্থ প্রয়াস। বিএনপি সংস্কারের বিরোধী—এমন প্রচারণাকে বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি বিষয় তারা সমর্থন করেন। তবে তাদের মতে, সংস্কার অবশ্যই সংবিধানসম্মত হতে হবে এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। তিনি আরও জানান, জুলাই জাতীয় সনদের ৪৭টি বিষয়ে যে ঐকমত্য হয়েছে, তা আগামী সংসদে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

ট্যাগস :

সংবিধান লঙ্ঘনের পাশাপাশি শপথ ভঙ্গ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। মঙ্গলবার ।। ৩১ মার্চ ২০২৬ ।।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সংবিধানের সীমার বাইরে গিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের ফরম বিতরণ করে শপথ ভঙ্গ এবং সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তিনি এই প্রক্রিয়াকে অবৈধ উল্লেখ করে এটিকে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি ‘প্রতারণামূলক দলিল’ হিসেবে অভিহিত করেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার আনা মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ তুলে ধরে তিনি ২০২৫ সালে জারি করা ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ’-এর আইনগত ভিত্তি নেই বলে ব্যাখ্যা করেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শপথ নিলেও কোন আইনের ভিত্তিতে তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের ফরম জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পাঠিয়েছেন—তা স্পষ্ট নয়। এটি তার এখতিয়ারের বাইরে হওয়ায় তা শপথ ভঙ্গ ও সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন সংসদ সদস্যদের জন্য যে ব্যালট দিয়েছে, সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হওয়ার কোনো বিষয় ছিল না। জনগণ তাদের সংসদ সদস্য হিসেবে ভোট দিয়েছে, কোনো অস্তিত্বহীন পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের জারি করা আদেশটি শুরু থেকেই বাতিল (ভয়েড অ্যাব ইনিশিও)। ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলের পর রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা আর কার্যকর নেই; সংবিধানের চতুর্থ তফশিলের ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সেই ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়েছে। ফলে ওই আদেশের ভিত্তিতে কোনো অধিবেশন আহ্বান বৈধ নয়। তার মতে, এটি কোনো অধ্যাদেশ বা আইন নয়, বরং সংসদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার একটি ব্যর্থ প্রয়াস। বিএনপি সংস্কারের বিরোধী—এমন প্রচারণাকে বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি বিষয় তারা সমর্থন করেন। তবে তাদের মতে, সংস্কার অবশ্যই সংবিধানসম্মত হতে হবে এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। তিনি আরও জানান, জুলাই জাতীয় সনদের ৪৭টি বিষয়ে যে ঐকমত্য হয়েছে, তা আগামী সংসদে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।