ঢাকা ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাসড়কে আন্ডারপাস নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন Logo বিশ্বের প্রথম কেইজ ফ্রেম ডিজাইন করা স্মার্টফোন নিয়ে বাজারে এলো আইটেল পাওয়ার ৮০ Logo মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শায়খ ইবরাহিম মারা গেছেন Logo প্রিয় অভিনেত্রীকে দেখতে ভিড়, হুড়োহুড়িতে গাড়িতে পাথর ছুড়ল ভক্তরা Logo এশিয়ান গেমস: মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, বাংলাদেশের বিদায় Logo আইজিপিসহ পুলিশ পদক পাচ্ছেন ৯২ সদস্য Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাশবনে হাত-মুখ বাঁধা মরদেহ উদ্ধার Logo নজরুলের চেতনায় আলোকিত প্রজন্ম গড়ার আহ্বান Logo সাতক্ষীরার এমপির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর মূল হোতা শ্যালক ওবায়দুর: মরিয়মের বাবা Logo বাংলাদেশ আর্চারী ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন

বাজেট কী ও কেন? একনজরে এবারের বাজেট

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:৫২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জুন ২০২৩ ২৬১ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাজেট হল একটি আর্থিক বছরে সরকারের আনুমানিক আয় ও ব্যয়। যখন একটি দেশের নির্বাচিত সরকারকে দেশের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়, তখন সরকার আগাম কিছু পরিকল্পনা করে এবং দেশের ভবিষ্যত নির্ধারণ করে। যা বাস্তবে বাজেটের মাধ্যমে রূপ নেয়। একটি নির্দিষ্ট বছরে কত টাকা ব্যয় হবে তার পরিকল্পনাকেও বাজেট বলা হয়।

জাতীয় বাজেটের প্রধান অংশ দুটি। প্রথম অংশটি রাজস্ব আদায়ের সাথে সম্পর্কিত। এই অংশে সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থা এবং আদায় সংক্রান্ত প্রস্তাবনা রয়েছে, আর দ্বিতীয় অংশে সরকারি ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। প্রতি বছর জাতীয় বাজেট একটি আইনপ্রস্তাব বা ‘বিল’ আকারে জাতীয় সংসদে পেশ করা হয়। একে অর্থ বিল বলা হয়। সংসদ সদস্যদের অনুমোদনের পর তা আইনে পরিণত হয়। বাংলাদেশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড রাজস্ব প্রস্তাব প্রণয়ন করে এবং অর্থ বিভাগ ব্যয় প্রস্তাব প্রণয়ন করে।

বাজেট কেন?

একটি দেশের বাজেটের মূলত তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য থাকে উৎপাদন, উন্নয়ন এবং কল্যাণ। এছাড়া বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয়ে প্রদত্ত বাজেটের মাধ্যমে একটি দেশের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা থাকে। পাশাপাশি উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার প্রচেষ্টাও থাকে। সব মিলিয়ে সকলের কল্যাণ সাধনের চেষ্টা অব্যাহত থাকে।
যে কোনো বাজেটের দুটি দিক থাকে। এর মধ্যে একটি হল ফিস্ক্যাল দিক এবং অন্যটি হল মানিটারি দিক। বাজেটে দেশের অর্থনীতির প্রায় সব দিক বিবেচনায় রাখতে হয়।
বাজেটের কয়েকটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে। যেমন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি কতটা অর্জিত হবে, কীভাবে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা যাবে, কীভাবে বাজেট ঘাটতি কমানো যাবে এবং কীভাবে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব হবে।
বাংলাদেশের বাজেট ১২ মাসের জন্য প্রণয়ন করা হয় যা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর হয়। প্রতি বছর জুন মাসে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী সরকারের পক্ষে বাজেট বিল পেশ করেন। এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বাজেট বিল বিবেচনা ও অনুমোদন করা হয়।

একনজরে এবারের বাজেট ও লক্ষ্য-

আসন্ন বাজেট নিয়ে সবার মধ্যে এক ধরনের উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কারণ আগামী অর্থবছরের বাজেট এমন এক সময়ে ঘোষণা হতে যাচ্ছে যখন বিশ্ব অর্থনীতি নানা সমস্যায় জর্জরিত। বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতির সম্মুখীন হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন সহ কিছু দেশে মূল্যস্ফীতি অভূতপূর্ব মাত্রায় বেড়েছে, যা গত ৪০ বছরে কখনও দেখা যায়নি। আজকের বিশ্বে কোনো দেশই বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না। আন্তর্জাতিক অর্থনীতির যেকোনো ঘটনা প্রায় প্রতিটি দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের (২০২৩-২৪) ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের বাজেট বক্তব্যের শিরোনাম ‘উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে’। তিনি স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট সোসাইটি তৈরির বিষয়ে আলোকপাত করবেন। চলতি মেয়াদে সরকারের পঞ্চম এবং আগামী নির্বাচনের আগে শেষ বাজেট। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের পঞ্চম বাজেট। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের তিন মেয়াদে এটি ১৫তম বাজেট।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এবারের বাজেটের মূল দর্শন ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা। গত দেড় দশকে বর্তমান সরকার বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৪টি মূল স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট সোসাইটি এবং স্মার্ট ইকোনমি।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট হবে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পথে প্রথম বাজেট। সঙ্গত কারণেই এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থবছরের পুরো সময় জুড়েই থাকবে সরকারের নানা ধরনের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং বাড়ানো হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা।

বাজেট কী ও কেন? একনজরে এবারের বাজেট

আপডেট সময় : ০১:৫২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জুন ২০২৩

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাজেট হল একটি আর্থিক বছরে সরকারের আনুমানিক আয় ও ব্যয়। যখন একটি দেশের নির্বাচিত সরকারকে দেশের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়, তখন সরকার আগাম কিছু পরিকল্পনা করে এবং দেশের ভবিষ্যত নির্ধারণ করে। যা বাস্তবে বাজেটের মাধ্যমে রূপ নেয়। একটি নির্দিষ্ট বছরে কত টাকা ব্যয় হবে তার পরিকল্পনাকেও বাজেট বলা হয়।

জাতীয় বাজেটের প্রধান অংশ দুটি। প্রথম অংশটি রাজস্ব আদায়ের সাথে সম্পর্কিত। এই অংশে সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থা এবং আদায় সংক্রান্ত প্রস্তাবনা রয়েছে, আর দ্বিতীয় অংশে সরকারি ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। প্রতি বছর জাতীয় বাজেট একটি আইনপ্রস্তাব বা ‘বিল’ আকারে জাতীয় সংসদে পেশ করা হয়। একে অর্থ বিল বলা হয়। সংসদ সদস্যদের অনুমোদনের পর তা আইনে পরিণত হয়। বাংলাদেশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড রাজস্ব প্রস্তাব প্রণয়ন করে এবং অর্থ বিভাগ ব্যয় প্রস্তাব প্রণয়ন করে।

বাজেট কেন?

একটি দেশের বাজেটের মূলত তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য থাকে উৎপাদন, উন্নয়ন এবং কল্যাণ। এছাড়া বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয়ে প্রদত্ত বাজেটের মাধ্যমে একটি দেশের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা থাকে। পাশাপাশি উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার প্রচেষ্টাও থাকে। সব মিলিয়ে সকলের কল্যাণ সাধনের চেষ্টা অব্যাহত থাকে।
যে কোনো বাজেটের দুটি দিক থাকে। এর মধ্যে একটি হল ফিস্ক্যাল দিক এবং অন্যটি হল মানিটারি দিক। বাজেটে দেশের অর্থনীতির প্রায় সব দিক বিবেচনায় রাখতে হয়।
বাজেটের কয়েকটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে। যেমন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি কতটা অর্জিত হবে, কীভাবে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা যাবে, কীভাবে বাজেট ঘাটতি কমানো যাবে এবং কীভাবে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব হবে।
বাংলাদেশের বাজেট ১২ মাসের জন্য প্রণয়ন করা হয় যা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর হয়। প্রতি বছর জুন মাসে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী সরকারের পক্ষে বাজেট বিল পেশ করেন। এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বাজেট বিল বিবেচনা ও অনুমোদন করা হয়।

একনজরে এবারের বাজেট ও লক্ষ্য-

আসন্ন বাজেট নিয়ে সবার মধ্যে এক ধরনের উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কারণ আগামী অর্থবছরের বাজেট এমন এক সময়ে ঘোষণা হতে যাচ্ছে যখন বিশ্ব অর্থনীতি নানা সমস্যায় জর্জরিত। বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতির সম্মুখীন হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন সহ কিছু দেশে মূল্যস্ফীতি অভূতপূর্ব মাত্রায় বেড়েছে, যা গত ৪০ বছরে কখনও দেখা যায়নি। আজকের বিশ্বে কোনো দেশই বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না। আন্তর্জাতিক অর্থনীতির যেকোনো ঘটনা প্রায় প্রতিটি দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের (২০২৩-২৪) ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের বাজেট বক্তব্যের শিরোনাম ‘উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে’। তিনি স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট সোসাইটি তৈরির বিষয়ে আলোকপাত করবেন। চলতি মেয়াদে সরকারের পঞ্চম এবং আগামী নির্বাচনের আগে শেষ বাজেট। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের পঞ্চম বাজেট। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের তিন মেয়াদে এটি ১৫তম বাজেট।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এবারের বাজেটের মূল দর্শন ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা। গত দেড় দশকে বর্তমান সরকার বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৪টি মূল স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট সোসাইটি এবং স্মার্ট ইকোনমি।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট হবে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পথে প্রথম বাজেট। সঙ্গত কারণেই এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থবছরের পুরো সময় জুড়েই থাকবে সরকারের নানা ধরনের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং বাড়ানো হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা।