ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হুয়াওয়ে কানেক্ট ২০২৬: বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন, সংযুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গঠনে হুয়াওয়ের প্রতিশ্রুতি Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বসত বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি Logo দেশের প্রথম কমিউনিটি ভিত্তিক এগ্রো রিসোর্টের নকশা উন্মোচন করল সুখের খামার Logo শতাব্দীর পুরনো পৈত্রিক ভিটা দখলের পাঁয়তারা, নীরব প্রশাসন: নেত্রকোণায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের মানববন্ধন Logo ইরানের শর্ত না মানা পর্যন্ত হরমুজ বন্ধ থাকবে: গালিবাফ Logo টানা কয়েকটি সিনেমায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয়, যা ঘটেছিল রাধিকা আপ্তের সঙ্গে Logo এশিয়ান গেমস নারী ক্রিকেট • লড়াইটাও করতে পারেনি বাংলাদেশ, ১১৪ রানে জিতে ফাইনালে ভারত Logo দেশীয় শিল্প সুরক্ষা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে সরকারি ক্রয় আইনে সংশোধন Logo অপ্রতিম হত্যায় ৪ জন গ্রেফতার, অপরাধ স্বীকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo নওগাঁয় ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সওজ প্রকৌশলী স্পট ডেড

দেশের প্রথম কমিউনিটি ভিত্তিক এগ্রো রিসোর্টের নকশা উন্মোচন করল সুখের খামার

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:২৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩১ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ প্রতিবেদক : বগুড়ার কাহালুতে গড়ে উঠছে দেশের প্রথম কমিউনিটি ভিত্তিক এগ্রো ট্যুরিজম প্রকল্প “সুখের খামার এগ্রো লিমিটেড”।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ত্রয়োদশ এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার- ২০২৬-এর মঞ্চে এক জমকালো আয়োজনে এর পরিকল্পিত নকশা উন্মোচন করা হয়। একই অনুষ্ঠানে প্রকল্পের সঙ্গে থাকা দেড় শতাধিক অংশীদারের হাতে জমির সাফ কবলা দলিলও তুলে দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক মিলন মাহমুদ। আরও উপস্থিত ছিলেন সুখের খামার এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম। এছাড়া দেশ ও প্রবাস থেকে আসা অংশীদার, পর্যটন খাতের উদ্যোক্তা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সুখের খামারের উন্মোচিত এই নকশায় রয়েছে ১০০ রুমের এগ্রো রিসোর্টে রেস্টুরেন্ট, কনভেনশন হল, সুইমিং পুল, বোটিং সুবিধাসহ নানান সুবিধা। রিসোর্টের পাশেই একই আঙিনায় থাকছে সমন্বিত কৃষি খামার, ৪০০ গরুর খামার, বটম ক্লিন পদ্ধতির মাছের খামার, ছাগল ও দুম্বার খামারসহ ১ মেগাওয়াট উৎপাদনের সৌর বিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস প্লান্ট এবং একটি জামে মসজিদ ও হাফিজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসা।
প্রকল্পের মাটি ভরাট ও সড়ক নির্মাণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে; আগামী অক্টোবর থেকে পুরোদমে এটির নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে বলে আয়োজকরা জানান।
প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে শরীয়াহভিত্তিক মুশারাকা মডেলে। ইতোমধ্যে ২১টি দেশ ও ৪২টি জেলার এক হাজারের বেশি মানুষ প্রকল্পটির অংশীদার হয়েছেন এবং প্রত্যেক অংশীদারের নামে জমি রেজিস্ট্রেশন করে ২৫ জুলাই ফাউন্ডার নাইট নামের এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দলিল হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার অনুষ্ঠানে নতুন করে আরো দেড় শতাধিক অংশীদার তাঁদের দলিল বুঝে পান।
অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব বলেন, “বাংলাদেশের কৃষি খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা ন্যায্য দাম না পাওয়া। এগ্রো টুরিজম সেই সমস্যার একটি সমাধান। কারণ এখানে কৃষক শুধু ফসল বিক্রি করেন না, অভিজ্ঞতাও বিক্রি করেন। স্মার্ট কৃষিই হবে বাংলাদেশের পরবর্তী বিপ্লব আর সুখের খামার তার একটি বাস্তব উদাহরণ।”
ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম বলেন, “এক বছর আগে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আজ তার প্রমাণ দিচ্ছি। আমাদের খামারে ইতোমধ্যে দুই হাজারের বেশি অতিথি ঘুরে গেছেন। এটাতে এক গ্রামে এক কোটি টাকার নতুন অর্থনীতি তৈরি হয়েছে। আমরা মাটি থেকে শুধু ফসল নয়, ভবিষ্যৎ ফলাতে চাই। আজকের এই নকশা সেই ভবিষ্যতেরই প্রতিচ্ছবি।”
অবস্থান: গ্রাম বাগইল, ইউনিয়ন পাইকড়, পোস্ট আড়োলা, উপজেলা কাহালু, জেলা বগুড়া। বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার, ঢাকা থেকে সড়কপথে প্রায় ৪ ঘণ্টা। এগ্রো টুরিজম সম্পর্কে: এগ্রো টুরিজম শব্দটি এসেছে Agriculture ও Tourism মিলিয়ে। এর মূল ধারণা: গ্রাম ও খামার নিজেই একটি পর্যটন গন্তব্য।
শহরের মানুষ খামারে এসে থাকেন, ফসল তোলেন, গরুর দুধ দোহানো দেখেন, গ্রামীণ খাবার খান এবং এর জন্য অর্থ ব্যয় করেন। এতে কৃষকের আয়ের নতুন উৎস তৈরি হয়, গ্রামের তরুণদের কর্মসংস্থান হয় এবং কৃষি একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। বাংলাদেশে এই বিষয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বই “এগ্রো টুরিজম: গ্রামই গন্তব্য” লিখেছেন জোবায়ের ইসলাম ও তাসদীখ হাবীব।

ট্যাগস :

দেশের প্রথম কমিউনিটি ভিত্তিক এগ্রো রিসোর্টের নকশা উন্মোচন করল সুখের খামার

আপডেট সময় : ০৬:২৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ কন্ঠ প্রতিবেদক : বগুড়ার কাহালুতে গড়ে উঠছে দেশের প্রথম কমিউনিটি ভিত্তিক এগ্রো ট্যুরিজম প্রকল্প “সুখের খামার এগ্রো লিমিটেড”।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ত্রয়োদশ এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার- ২০২৬-এর মঞ্চে এক জমকালো আয়োজনে এর পরিকল্পিত নকশা উন্মোচন করা হয়। একই অনুষ্ঠানে প্রকল্পের সঙ্গে থাকা দেড় শতাধিক অংশীদারের হাতে জমির সাফ কবলা দলিলও তুলে দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক মিলন মাহমুদ। আরও উপস্থিত ছিলেন সুখের খামার এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম। এছাড়া দেশ ও প্রবাস থেকে আসা অংশীদার, পর্যটন খাতের উদ্যোক্তা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সুখের খামারের উন্মোচিত এই নকশায় রয়েছে ১০০ রুমের এগ্রো রিসোর্টে রেস্টুরেন্ট, কনভেনশন হল, সুইমিং পুল, বোটিং সুবিধাসহ নানান সুবিধা। রিসোর্টের পাশেই একই আঙিনায় থাকছে সমন্বিত কৃষি খামার, ৪০০ গরুর খামার, বটম ক্লিন পদ্ধতির মাছের খামার, ছাগল ও দুম্বার খামারসহ ১ মেগাওয়াট উৎপাদনের সৌর বিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস প্লান্ট এবং একটি জামে মসজিদ ও হাফিজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসা।
প্রকল্পের মাটি ভরাট ও সড়ক নির্মাণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে; আগামী অক্টোবর থেকে পুরোদমে এটির নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে বলে আয়োজকরা জানান।
প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে শরীয়াহভিত্তিক মুশারাকা মডেলে। ইতোমধ্যে ২১টি দেশ ও ৪২টি জেলার এক হাজারের বেশি মানুষ প্রকল্পটির অংশীদার হয়েছেন এবং প্রত্যেক অংশীদারের নামে জমি রেজিস্ট্রেশন করে ২৫ জুলাই ফাউন্ডার নাইট নামের এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দলিল হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার অনুষ্ঠানে নতুন করে আরো দেড় শতাধিক অংশীদার তাঁদের দলিল বুঝে পান।
অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব বলেন, “বাংলাদেশের কৃষি খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা ন্যায্য দাম না পাওয়া। এগ্রো টুরিজম সেই সমস্যার একটি সমাধান। কারণ এখানে কৃষক শুধু ফসল বিক্রি করেন না, অভিজ্ঞতাও বিক্রি করেন। স্মার্ট কৃষিই হবে বাংলাদেশের পরবর্তী বিপ্লব আর সুখের খামার তার একটি বাস্তব উদাহরণ।”
ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম বলেন, “এক বছর আগে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আজ তার প্রমাণ দিচ্ছি। আমাদের খামারে ইতোমধ্যে দুই হাজারের বেশি অতিথি ঘুরে গেছেন। এটাতে এক গ্রামে এক কোটি টাকার নতুন অর্থনীতি তৈরি হয়েছে। আমরা মাটি থেকে শুধু ফসল নয়, ভবিষ্যৎ ফলাতে চাই। আজকের এই নকশা সেই ভবিষ্যতেরই প্রতিচ্ছবি।”
অবস্থান: গ্রাম বাগইল, ইউনিয়ন পাইকড়, পোস্ট আড়োলা, উপজেলা কাহালু, জেলা বগুড়া। বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার, ঢাকা থেকে সড়কপথে প্রায় ৪ ঘণ্টা। এগ্রো টুরিজম সম্পর্কে: এগ্রো টুরিজম শব্দটি এসেছে Agriculture ও Tourism মিলিয়ে। এর মূল ধারণা: গ্রাম ও খামার নিজেই একটি পর্যটন গন্তব্য।
শহরের মানুষ খামারে এসে থাকেন, ফসল তোলেন, গরুর দুধ দোহানো দেখেন, গ্রামীণ খাবার খান এবং এর জন্য অর্থ ব্যয় করেন। এতে কৃষকের আয়ের নতুন উৎস তৈরি হয়, গ্রামের তরুণদের কর্মসংস্থান হয় এবং কৃষি একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। বাংলাদেশে এই বিষয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বই “এগ্রো টুরিজম: গ্রামই গন্তব্য” লিখেছেন জোবায়ের ইসলাম ও তাসদীখ হাবীব।