কর্মকর্তাকে জিম্মি করে সরকারি কোয়ার্টার থেকে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট
- আপডেট সময় : ০৩:২৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬ ২৩ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। শনিবার ।। ০২ মে ২০২৬।।
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলাে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১ মে) গভীর রাতে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামকে বেঁধে রেখে তার পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৫ দিনের মধ্যে পৌর শহরে একই ধরনের অন্তত চারটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে তিনটি সংঘটিত হয়েছে থানা কমপ্লেক্সের আশপাশ এলাকায়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। লুট হওয়া অর্থ ও মালামালও উদ্ধার হয়নি। ফলে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাংলোর পাশের রূপালি ভবনের নিচতলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। রাত প্রায় ৩টার দিকে জানালার গ্রিল কেটে কয়েকজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে পড়ে। তারা হত্যার ভয় দেখিয়ে তাকে বেঁধে ফেলে এবং তার স্ত্রীর গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ঘরের বিভিন্ন কক্ষ তছনছ করে। তার স্ত্রী জানান, ডাকাতরা প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার, রূপার নূপুর, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও নগদ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আতঙ্কের কারণে তারা চিৎকার করতে পারেননি। পরে ডাকাতরা চলে গেলে ইউএনও’র নৈশ্যপ্রহরী এসে তাদের উদ্ধার করেন। এদিকে, গত ১৫ এপ্রিল একই কৌশলে থানার কাছাকাছি এলাকায় সানাউল্লাহর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেসময় প্রায় সাত ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট হয়। একই রাতে আনন্দনগর এলাকায় রমজান হাজির বাড়ি থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের ছয়টি গাভীও নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারেও চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের দাবি, এলাকায় মাদকের বিস্তার বাড়ায় চুরি-ডাকাতির ঘটনাও বেড়ে গেছে। থানার আশপাশেই একের পর এক অপরাধ ঘটলেও জড়িতদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়ছে। তারা নিজেদের জানমাল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। ভুক্তভোগী রমজান হাজি ও সানাউল্লাহ বলেন, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়েছে। থানার কাছাকাছি এলাকায় বসবাস করেও নিরাপত্তা না পাওয়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তার বাসায় ডাকাতির ঘটনায় অভিযোগ নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আগের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রেও পুলিশ গোপনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে ফাহমিদা আফরোজ বলেন, প্রাচীরঘেরা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের ভেতরে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।














