এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটে ইরান
- আপডেট সময় : ০৫:০২:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ ১০৮ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। সোমাবার ।। ০৯.০৩.২০২৬ ।।
ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা ১০ দিন ধরে প্রায় স্থগিত, নাগরিকরা ডিজিটাল যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন
তেহরান, ৯ মার্চ – ইরানে সরকারি উদ্যোগে চালু করা এক নজিরবিহীন ইন্টারনেট বন্ধ ইতিমধ্যেই দশম দিনে পা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে দেশটির প্রায় ৯ কোটি নাগরিক অনলাইনে বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ হারিয়েছেন। সাইবার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, টানা ২১৬ ঘণ্টা ধরে ইরান বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। সংস্থার তথ্যানুসারে, বর্তমানে ইরানের ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা একটি প্রায় পুরোপুরি ব্ল্যাকআউটের সমতুল্য। সরকারি পদক্ষেপের ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক তথ্য বিনিময় প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। নেটব্লকসের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই ব্ল্যাকআউটের মাধ্যমে নাগরিকদের কণ্ঠস্বর সীমিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন নেতৃত্ব এবং চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতা কার্যকর করা হয়েছে। ইন্টারনেট না থাকায় সাধারণ মানুষ জরুরি পরিষেবা, ব্যাংকিং লেনদেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারছেন না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এই পদক্ষেপকে তথ্যপ্রবাহে বাধা এবং নাগরিক অধিকার হরণের হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ১০ দিন ধরে চলা এই ব্ল্যাকআউট শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকেই প্রভাবিত করছে না,

বরং দেশের অনলাইন ব্যবসা এবং অর্থনীতিতেও গুরুতর প্রভাব ফেলছে। নেটব্লকস জানিয়েছে, সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। সরকারি দপ্তরগুলোর বাইরে সাধারণ নাগরিকরা ইন্টারনেটে প্রবেশ করতে পারছেন না। ইরান সরকার এখনো এই ব্ল্যাকআউট কতদিন চলবে তা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য অজানা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিজিটাল তথ্যের অভাবে সংঘাত, বিক্ষোভ বা অন্যান্য ঘটনার খবর প্রচার করা কঠিন হয়ে গেছে। নেটব্লকসের মতে, ইন্টারনেট সংযোগ ১ শতাংশে নামানো মানে ইরানের ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ৯ কোটি নাগরিকের কার্যত নীরব করা এই ঘটনা সমসাময়িক ডিজিটাল ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ইন্টারনেট শাটডাউট হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।














