এমপি-মন্ত্রীর সন্তানদের হাতে বিএনপির দুর্দিনের নেতাকর্মীরাও নিরাপদ নন
- আপডেট সময় : ০৩:০৪:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৯ বার পঠিত

এমপি-মন্ত্রীদের সন্তানদের হাতে বিএনপির দুর্দিনের নেতাকর্মীরাও নিরাপদ নন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পর এমপি-মন্ত্রীদের বিদেশফেরত সন্তানরা এ দেশটা দখল করে নিয়েছে। শুধু এনসিপি-জামায়াত নয়, বিএনপির দুর্দিনের নেতাকর্মীরাও এই নেপোকিডদের (এমপি-মন্ত্রীদের সন্তান) হাতে নিরাপদ নন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া আমাদের ছাত্রদলের সহযোদ্ধা শাকিল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করেছে এমনই এক নেপোকিড।’বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় এনসিপির পূর্বঘোষিত গণবিক্ষোভ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে আয়োজিত গণসংযোগ শেষে উপস্থিত নেতাকর্মী ও জনসাধারণের উদ্দেশে এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের প্রতিবাদে ৩০ অক্টোবর এই গণবিক্ষোভ হবে।আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সব টেন্ডার, ঠিকাদারি এই নেপোকিডদের দখলে। আমরা নেপালে দেখেছি, শ্রীলঙ্কাতে দেখেছি কীভাবে এই নেপোকিডদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। আমাদের আগামী লড়াইটাও সম্ভবত এই নেপোকিডদের বিরুদ্ধেই হবে এবং সেই লড়াইয়ে আমার বিশ্বাস, বিএনপির যারা সংগ্রামী নেতাকর্মী ছিলেন, যারা এখন বঞ্চিত হচ্ছেন, যারা এখন হত্যার শিকার হচ্ছেন, তারাও একটি গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এনসিপির সঙ্গে রাজপথে নামবেন।’মানুষের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে সরকার লুটপাটে ব্যস্ত উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সারাদেশে গত সাত মাসে রেকর্ড পরিমাণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণই যে ক্ষমতার উৎস, সরকারের জবাবদিহি যে জনগণের প্রতি সেটি মনে করিয়ে দিতেই আমরা রাজপথে নেমেছি। আমরা যেমন সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও জনগণের সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলছি, একই সঙ্গে আমরা রাজপথেও কাজ করে যাচ্ছি।’প্রশাসকদের লাগাম টেনে ধরার আহ্বান জানিয়ে সরকারের উদ্দেশে এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘বিএনপি সরকার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এমন একজন অনির্বাচিত ব্যক্তিকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, যিনি ঢাকা-১৫ আসনে জনগণের ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর সেখানে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করছেন। এছাড়া, ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা সিটি করপোরেশনের লোগো ব্যবহার করে এবং করপোরেশনের অর্থ ব্যয় করে পুরো ঢাকায় পোস্টার ও ব্যানার লাগিয়েছেন। প্রশাসকের পদে থেকে এভাবে প্রচারণা চালানো সরাসরি স্বার্থের সংঘাত তৈরি করে। তারা যদি এই পদে থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, তাহলে সেই নির্বাচন শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।’আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যার মামলার আসামি আওয়ামী লীগের পরিচিত কয়েকটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানিকে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকার কাজ দেওয়া হয়েছে। কাজ কে পাচ্ছে, কারা কাজ করছে—এসব নিয়ে এ সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। তাদের মূল চিন্তা হলো, সময়মতো ও নির্দিষ্ট জায়গায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমিশন পৌঁছেছে কি না।’স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ধাপে ধাপে পিছিয়ে দিতে চায়, যাতে তাদের এই মেয়াদে সংঘটিত অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতি নিয়ে কেউ কথা বলতে না পারে। সিটি করপোরেশন নির্বাচন নাকি ২০২৮ সালের আগে অনুষ্ঠিত হবে না। আমরা আশঙ্কা করছি, সবাইকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত রেখে নির্বাচন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা চলছে।’জনসংযোগে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, আলী আহসান জুনায়েদ, সালেহ উদ্দিন সিফাত, যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক, মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনা, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক লুতফুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতারা।




















