ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পপুলার লাইফের খুলনা অঞ্চলের বীমা গ্রাহকের বীমা দাবীর ৩ কোটি ১৭ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর Logo রাজাপুরের উত্তমপুর বাজারে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের আশায় ব্যবসায়ীরা Logo ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অনারের রোবট ফোন Logo ইরান যুদ্ধে নিহত সেনাদের সংখ্যা গোপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র Logo বলিউডে রাজত্ব করেছেন এক যুগ, কিন্তু ভালোবেসেছেন বাংলাকে Logo বিবর্ণ মিরাজ, হেটমায়ারের সেঞ্চুরির পরও গায়ানার বিদায় Logo দুপুরের মধ্যেই প্রকাশ হতে পারে নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন, বেতন নিয়ে যা জানা গেল Logo লংমার্চের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির, নজরও রাখছে Logo সহজ অর্থায়নে স্বপ্নের গাড়ি, ইউসিবি-বিওয়াইডির নতুন যাত্রা শুরু Logo ডিউরাবিলিটি আর এআইয়ের নতুন কম্বিনেশনে এলো টেকনো স্পার্ক ৫০সি

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ রোধে ঐক্যবদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনসচেতনতামূলক সভা

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:০৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬ ২৮৬ বার পঠিত
মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো বিপজ্জনক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং এর ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার ৩ জুলাই সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গণে সামাজিক সংগঠন ‘ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ)। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল কাইয়ুম, আখাউড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস, মাল্টি পার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি এবিএম মমিনুল হক, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী-আজম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাকিল জাহান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহ আলম।
এ সময় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী ও সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ কোনো দুষ্টুমি নয়, এটি একটি গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় ট্রেনের জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীরা গুরুতর আহত এমনকি প্রাণহানির শিকারও হতে পারেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং রেলযাত্রার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তাই এ অপরাধ প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ) বলেন, “নিরাপদ রেলযাত্রা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। সচেতনতার পাশাপাশি আইন প্রয়োগেও কোনো ধরনের শৈথিল্য চলবে না। যারা এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী বলেন, সমাজের কল্যাণে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা ‘ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র অন্যতম লক্ষ্য। চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এখন সময়ের দাবি। তিনি তরুণ সমাজ, অভিভাবক, শিক্ষক এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে এ বিষয়ে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক নজরদারি জোরদার এবং আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। পাশাপাশি তিনি সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা ঘটনার বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত সবাই চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং নিরাপদ রেলযাত্রা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ট্যাগস :

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ রোধে ঐক্যবদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনসচেতনতামূলক সভা

আপডেট সময় : ০৫:০৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো বিপজ্জনক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং এর ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার ৩ জুলাই সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন প্রাঙ্গণে সামাজিক সংগঠন ‘ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ)। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল কাইয়ুম, আখাউড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস, মাল্টি পার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি এবিএম মমিনুল হক, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী-আজম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাকিল জাহান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহ আলম।
এ সময় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী ও সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ কোনো দুষ্টুমি নয়, এটি একটি গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় ট্রেনের জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীরা গুরুতর আহত এমনকি প্রাণহানির শিকারও হতে পারেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং রেলযাত্রার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তাই এ অপরাধ প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ) বলেন, “নিরাপদ রেলযাত্রা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। সচেতনতার পাশাপাশি আইন প্রয়োগেও কোনো ধরনের শৈথিল্য চলবে না। যারা এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজী বলেন, সমাজের কল্যাণে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা ‘ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র অন্যতম লক্ষ্য। চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এখন সময়ের দাবি। তিনি তরুণ সমাজ, অভিভাবক, শিক্ষক এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে এ বিষয়ে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক নজরদারি জোরদার এবং আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। পাশাপাশি তিনি সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা ঘটনার বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত সবাই চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং নিরাপদ রেলযাত্রা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।