ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হরমুজ প্রণালিতে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের জব্দকৃত জাহাজ বিক্রি করবে ইরান Logo স্ত্রী গৌরী পাশে থাকলেও সহকারী পূজার ওড়নায় মুখ মুছলেন শাহরুখ খান Logo জ্বরের কারণে প্রতিযোগিতায় নামতে পারলেন না সাইক্লিস্ট সবুর, এক ল্যাপেই হাল ছাড়লেন শাহাদাত Logo এ বছর স্থানীয় নির্বাচনের সম্ভাবনা কম: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী Logo বৃহৎ পরিসরের এআই কম্পিউটিংয়ের জন্য অ্যাটলাস ৯৬০ই সুপারপড উন্মোচন করল হুয়াওয়ে Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থানায় অভিযোগ করায় বাদী পক্ষের ওপর ফের হামলা, ভাঙচুর লুটপাট, আহত ৪ Logo মিউজিক্যাল নাইট নিয়ে আসছে রেডমি নোট ১৭ সিরিজ প্রেজেন্টস ‘ম্যাক্স রিপাবলিক’ Logo চেয়ারম্যানের নির্দেশে সাংবাদিককে হত্যা মামলায় আসামি করার অভিযোগ, বাদীই বলছেন ‘চিনি না’ Logo অবাধ নৌচলাচলে হরমুজ প্রণালিতে যৌথভাবে কাজ করবে ভারত-ফ্রান্স Logo বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না: তানজিন তিশা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধায় বিদায় নিলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশিদ

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ২১৬ বার পঠিত
মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রবীণ রাজনীতিবিদ বর্ষিয়ান নেতা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশিদের মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে জেলা জুড়ে।
তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শনিবার (২০ জুন) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তৃতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন। এর আগে শুক্রবার (২৯ জুন) বেলা ১১ টায় মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। এদিন বিকাল বাদ আছর নামাজের পর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশগ্রহণ করেন। পরের দিন শনিবার (২০) নিজ জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ে আসা হলে দুপুর বাদ জোহরে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ জড়ো হতে থাকে। মাঠ ও আশপাশের এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করে। জানাজা শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। তৃতীয় জানাজায় উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর ৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, নবীনগর ৫ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আবদুল মান্নান, নাসিরনগর ১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ)সহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। জানাজায় অংশ নেয়া নেতারা বলেন, হারুন আল রশিদ ছিলেন একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলীয় আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর মৃত্যুতে শুধু বিএনপি নয়, সমগ্র জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। জানাজায় অংশ নেয়া সাধারণ মানুষও মরহুমের স্মৃতিচারণ করেন। অনেকেই বলেন, তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতেন এবং ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকার মানুষ একজন অভিজ্ঞ অভিভাবককে হারিয়েছে। জেলা বিএনপির নেতারা জানান, হারুন আল রশিদের রাজনৈতিক অবদান এবং সংগঠনের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তাঁরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তৃতীয় জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ দাফনের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শেরপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষ শেষবারের মতো তাঁকে বিদায় জানান। পুরো পরিবেশ জুড়ে ছিল শোক, নীরবতা ও প্রার্থনার আবহ। তাঁর মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে গভীর শোকের অনুভূতি লক্ষ্য করা গেছে।
ট্যাগস :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধায় বিদায় নিলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশিদ

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রবীণ রাজনীতিবিদ বর্ষিয়ান নেতা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশিদের মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে জেলা জুড়ে।
তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শনিবার (২০ জুন) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তৃতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেন। এর আগে শুক্রবার (২৯ জুন) বেলা ১১ টায় মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। এদিন বিকাল বাদ আছর নামাজের পর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশগ্রহণ করেন। পরের দিন শনিবার (২০) নিজ জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ে আসা হলে দুপুর বাদ জোহরে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ জড়ো হতে থাকে। মাঠ ও আশপাশের এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করে। জানাজা শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। তৃতীয় জানাজায় উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর ৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, নবীনগর ৫ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আবদুল মান্নান, নাসিরনগর ১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ)সহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। জানাজায় অংশ নেয়া নেতারা বলেন, হারুন আল রশিদ ছিলেন একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলীয় আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর মৃত্যুতে শুধু বিএনপি নয়, সমগ্র জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। জানাজায় অংশ নেয়া সাধারণ মানুষও মরহুমের স্মৃতিচারণ করেন। অনেকেই বলেন, তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতেন এবং ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকার মানুষ একজন অভিজ্ঞ অভিভাবককে হারিয়েছে। জেলা বিএনপির নেতারা জানান, হারুন আল রশিদের রাজনৈতিক অবদান এবং সংগঠনের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তাঁরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তৃতীয় জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ দাফনের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শেরপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষ শেষবারের মতো তাঁকে বিদায় জানান। পুরো পরিবেশ জুড়ে ছিল শোক, নীরবতা ও প্রার্থনার আবহ। তাঁর মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে গভীর শোকের অনুভূতি লক্ষ্য করা গেছে।