ঢাকা ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ৯ম ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ডে স্বীকৃতি পেল ৮৯টি ক্যাম্পেইন Logo মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী Logo ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, চাপে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা Logo হেলিও স্মার্টফোনের নতুন সেনসেশন, হেলিও ৪৬ Logo গাজীপুরে জিয়াউর রহমান গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন Logo গাজীপুরে বহুতল ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধায় বিদায় নিলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশিদ Logo সাবেক এমপি হারুন আল রশিদের মৃত্যুতে সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শোক  Logo বেনজীরকে ফেরাতে সব নথি পাঠানো হয়েছে, দ্রুত প্রত্যর্পণের আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর Logo একটি কোম্পানির মাধ্যমে সকল রুটে গণপরিবহন পরিচালনা করা হবে : সড়ক পরিবহন মন্ত্রী

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ, কার ভাগে কত টাকা?

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৬২ বার পঠিত

বাংলাদেশ কণ্ঠ।। বুধবার।। ২১.০১.২০২৬

এলপিজি (বোতলজাত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) এর দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছু বিশদ তথ্য রয়েছে, যা সাধারণ মানুষ বুঝতে চায়। জানুয়ারি ২০২৬ মাসে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির দাম নির্ধারণ করেছে, যার অধীনে ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা। যদিও বাজারে এই দাম পাওয়া যাচ্ছে না এবং গ্যাস প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে, দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি কীভাবে হয় এবং এর পেছনে কী খরচ যুক্ত হয়, সেটি বুঝতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানার দরকার রয়েছে।

এলপিজির দাম নির্ধারণের মূল ভিত্তি হল সৌদি সিপি (Saudi Contract Price), যা সৌদি আরামকো দ্বারা নির্ধারিত হয়। এলপিজি তৈরিতে প্রোপেন এবং বিউটেন গ্যাসের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে ৩৫% প্রোপেন এবং ৬৫% বিউটেন থাকে। জানুয়ারি ২০২৬ মাসের সৌদি সিপি অনুযায়ী, প্রতি টন প্রোপেনের দাম ৫২৫ মার্কিন ডলার এবং বিউটেনের দাম ৫২০ মার্কিন ডলার। এই দামে সৌদি সিপি অনুসারে, প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণে গড় এলপিজি মূল্য দাঁড়ায় ৫২১.৭৫ মার্কিন ডলার প্রতি মেট্রিক টন। এরপর, এই মূল্যের সাথে যুক্ত করা হয় অন্যান্য খরচ যেমন জাহাজভাড়া, ট্রেডারের প্রিমিয়াম, আমদানি খরচ এবং এলসি (লেটার অফ ক্রেডিট) সেটেলমেন্টে মার্কিন ডলারের গড় মূল্য।

সৌদি সিপি মূল্য থেকে শুরু করে এই সমস্ত খরচ যোগ করে, জানুয়ারি ২০২৬ মাসের জন্য ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়। এই দামে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সৌদি সিপি মূল্য প্রতি কেজি ৬৩.৯২ টাকা। তবে, এর সাথে আরও কিছু খরচ যোগ হয়:

  • জাহাজভাড়া, সরবরাহকারীর প্রিমিয়াম ও অন্যান্য আমদানি খরচ: প্রতি কেজিতে ১৩ টাকা ৯৫ পয়সা।

  • বটলিং চার্জ (গ্যাস সিলিন্ডার প্রস্তুতির জন্য): প্রতি কেজিতে ১৬ টাকা।

  • মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট): প্রতি কেজিতে ৭ টাকা ৪ পয়সা।

  • ডিস্ট্রিবিউটরের চার্জ (রিটেইলার পর্যন্ত পরিবহন ব্যয়সহ): প্রতি কেজিতে ৪ টাকা ১৭ পয়সা।

  • রিটেইলারের কমিশন: প্রতি কেজিতে ৩ টাকা ৭৫ পয়সা।

এ সব মিলিয়ে, প্রতি কেজিতে খুচরা দাম দাঁড়ায় ১০৮.৮৩ টাকা, যা ১২ কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৩০৫.৯৬ টাকা। সরকার এই হিসাবের ভিত্তিতে গ্যাসের দাম নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৩০৬ টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী, এই দাম বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না এবং অনেক ক্ষেত্রে গ্যাস প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি কেমন যাবে, তা নির্ভর করছে সরকারি এলপিজি আমদানির ওপর। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এলপিজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিলেও, বেসরকারি কোম্পানিগুলির নিয়ন্ত্রণে বাজারে সংকট অব্যাহত রয়েছে। ফলে, সাধারণ মানুষের প্রশ্ন উঠছে, সরকার কি এলপিজির মূল্য নিয়ে আরও কোনো পদক্ষেপ নেবে এবং বাজারে আসল দাম ফিরে আসবে কি না।

 

ট্যাগস :

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ, কার ভাগে কত টাকা?

আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ কণ্ঠ।। বুধবার।। ২১.০১.২০২৬

এলপিজি (বোতলজাত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) এর দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছু বিশদ তথ্য রয়েছে, যা সাধারণ মানুষ বুঝতে চায়। জানুয়ারি ২০২৬ মাসে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির দাম নির্ধারণ করেছে, যার অধীনে ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা। যদিও বাজারে এই দাম পাওয়া যাচ্ছে না এবং গ্যাস প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে, দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি কীভাবে হয় এবং এর পেছনে কী খরচ যুক্ত হয়, সেটি বুঝতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানার দরকার রয়েছে।

এলপিজির দাম নির্ধারণের মূল ভিত্তি হল সৌদি সিপি (Saudi Contract Price), যা সৌদি আরামকো দ্বারা নির্ধারিত হয়। এলপিজি তৈরিতে প্রোপেন এবং বিউটেন গ্যাসের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে ৩৫% প্রোপেন এবং ৬৫% বিউটেন থাকে। জানুয়ারি ২০২৬ মাসের সৌদি সিপি অনুযায়ী, প্রতি টন প্রোপেনের দাম ৫২৫ মার্কিন ডলার এবং বিউটেনের দাম ৫২০ মার্কিন ডলার। এই দামে সৌদি সিপি অনুসারে, প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণে গড় এলপিজি মূল্য দাঁড়ায় ৫২১.৭৫ মার্কিন ডলার প্রতি মেট্রিক টন। এরপর, এই মূল্যের সাথে যুক্ত করা হয় অন্যান্য খরচ যেমন জাহাজভাড়া, ট্রেডারের প্রিমিয়াম, আমদানি খরচ এবং এলসি (লেটার অফ ক্রেডিট) সেটেলমেন্টে মার্কিন ডলারের গড় মূল্য।

সৌদি সিপি মূল্য থেকে শুরু করে এই সমস্ত খরচ যোগ করে, জানুয়ারি ২০২৬ মাসের জন্য ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়। এই দামে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সৌদি সিপি মূল্য প্রতি কেজি ৬৩.৯২ টাকা। তবে, এর সাথে আরও কিছু খরচ যোগ হয়:

  • জাহাজভাড়া, সরবরাহকারীর প্রিমিয়াম ও অন্যান্য আমদানি খরচ: প্রতি কেজিতে ১৩ টাকা ৯৫ পয়সা।

  • বটলিং চার্জ (গ্যাস সিলিন্ডার প্রস্তুতির জন্য): প্রতি কেজিতে ১৬ টাকা।

  • মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট): প্রতি কেজিতে ৭ টাকা ৪ পয়সা।

  • ডিস্ট্রিবিউটরের চার্জ (রিটেইলার পর্যন্ত পরিবহন ব্যয়সহ): প্রতি কেজিতে ৪ টাকা ১৭ পয়সা।

  • রিটেইলারের কমিশন: প্রতি কেজিতে ৩ টাকা ৭৫ পয়সা।

এ সব মিলিয়ে, প্রতি কেজিতে খুচরা দাম দাঁড়ায় ১০৮.৮৩ টাকা, যা ১২ কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৩০৫.৯৬ টাকা। সরকার এই হিসাবের ভিত্তিতে গ্যাসের দাম নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৩০৬ টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী, এই দাম বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না এবং অনেক ক্ষেত্রে গ্যাস প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি কেমন যাবে, তা নির্ভর করছে সরকারি এলপিজি আমদানির ওপর। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এলপিজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিলেও, বেসরকারি কোম্পানিগুলির নিয়ন্ত্রণে বাজারে সংকট অব্যাহত রয়েছে। ফলে, সাধারণ মানুষের প্রশ্ন উঠছে, সরকার কি এলপিজির মূল্য নিয়ে আরও কোনো পদক্ষেপ নেবে এবং বাজারে আসল দাম ফিরে আসবে কি না।