ভুট্টাচাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন চুয়াডাঙ্গার চাষিরা
- আপডেট সময় : ০৯:৫১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩ ৪১৩ বার পঠিত

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গা জেলায় ভুট্টাচাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন ভুট্টা চাষিরা। পশু খাদ্য তৈরিতে ভুট্টার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হওয়ায় সারা বছরই চাহিদা থাকে ভুট্টার। অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টা চাষে পরিশ্রম কম। পাশাপাশি এ চাষে খরচ কম হওয়ায় তুলনামূলক লাভও হয় বেশি। ফলে ভুট্টা চাষে প্রান্তিক পর্যায়সহ সকল প্রকার কৃষকদের ভুট্টাচাষে আগ্রহ বাড়ছে দিন দিন। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ও দাম বেশী পাবেন বলে আশাবাদী চাষিরা। সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক পদ্ধতিতে ভুট্টা চাষ করার জন্য জেলা সদরসহ উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় পরামর্শ। তাই এবছর বাম্পার ফলন হয়ে গুপ্তধন পাওয়ার আশায় স্বপ্ন দেখছেন সকল পর্যায়ের চাষিরা। তবে নিয়মিত সার, তেল আর কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় চাষে উৎপাদন খরচ বেশি বলে দাবি তাদের। এরপরও অন্য চাষের চাইতে এ চাষে খরচ কম হয় বলে জানিয়েছেন চাষিরা।
কৃষি প্রধান আমাদের দেশ বাংলাদেশ। দেশের কৃষি ও কৃষকদের উপর নির্ভর করেন আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা। তবে ষড়ঋতু’র এ দেশটি আজকে আর ছয় ঋতু’র দেখা মেলেনা। ফলে তিনিট ঋতু শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষায় যেন আটকে গেছে দেশ। কৃষক ও কৃষি বিঙ্গানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে সারা বছরই সব ধরনের ফসল উৎপাদিত করা হয় বাংলাদেশে। তারই ধারাবাহিকতায় বর্ষার সবজি গ্রীষ্মে, আর গ্রীষ্মের সবজি শীতে পাওয়া যায়। প্রয়োজন একটু পরিশ্রম, সচেতনতা আর নিষ্ঠার।এ ভুট্টায় একদিকে যেমন পুষ্টি চাহিদা মিটছে তেমনি ভাবে অন্যদিকে কৃষি ও কৃষক অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করছেন। দেশে বাণিজ্যিক ভাবে মাছচাষ, গবাদিপশু লালন পালনসহ মাছের দাম তৈরিতে ভুট্টার চাহিদাসহ দাম ভালো থাকায় অবাধে এ চাষ বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছরেও ভুট্টা ফলন ও দাম থাকবে বলে আশা করছেন কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কার্যালয়ের তথ্যমতে গত বছরের তুলনায় বছরে ২৪৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ বেশি হয়েছে। এ বছরে জেলার কৃষকের ৪৯ হাজার হেক্টর ৬শ ৫ হাজর হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে বিভিন্ন জাতের উচ্চফলনশীল ভুট্টা। এ বছরে ভুট্টার ফলন ও দাম দুই বেশি থাকবেন। ফলে চাষীরা লাভবান হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে জেলার ফসলের মাঠের বিঘার পর বিঘা জমির বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠ ভুট্টার সবুজ পাতার ছেযে গেছে।চাষিরা এখন তাদের ভুট্টা ক্ষেতগুলোতে প্রয়োজনীয় কীটনাশক, সেচ সহ নিড়ানির কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন।ফসলের মাঠের গাছগুলো হাঁটু সমান আর কিছু এলাকায় আগাম ভুট্টা রোপণ করার জন্য সেগুলো গাছগুলো প্রায় মানুষের উচ্চতা হয়ে গেছে,আবার কিছু কিছু জাগাতে ভূট্টার গাছে মোচ এসেছে। আগামী ১৫-৩৫ দিনের মধ্যে মাঠের সকল ভুট্টার ক্ষেতে গাছ গাছে ভুট্টার মোচ আসবে। ফলে এসকল ফলে আগাম ঘরে তোাল যাবেন আগামী ২৫-৩০ দিনের মধ্যে।
জেলার উপজেলার সদর ইউনিয়নের পারদামুড়হুদা গ্রামের কৃষক ভুট্টা চাষি তিতুয়ার হোসেন জানিয়েছেন, বীজ, পানি, সার সহ জমি প্রস্তুতি আর শ্রমিকের মজুরি, কাটা-মাড়াই বাবদ বিঘা প্রতি খরচ হবে সর্বোচ্চ ৮-১২ হাজার টাকার মতো। আর ভুট্টা উৎপাদন হয় ৩৫-৪৫ মন। বাজার এ শ্রস্যার অনেক চাহিদা থাকেন, পাশাপাশি দামটাও মোটামুটি ভালো থাকেন।সেক্ষেত্রে লোকসানের কোন চিন্তা থাকেন না। তিনি আরও বলেন, গত বছরে ২ বিঘা জমি লীজ নিয়ে ফসল ঘরে তুলতে খরচ হয়েছিলো ৩৬ হাজার টাকার মতো, সে বছর ২ বিঘা ভুট্টা বিক্রি করে ৯৪ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। যদি নিজের জমি হয় তবে খরচ আরও কিছুটা কমে যায়।
আতিয়ার নামের অপর এক ভুট্টা চাষি জানিয়েছেন, তিনি এ বারে ১ বিঘা জমিতে ভুট্রা চাষ করেছেন।গত বছরেরও এ চাষ ছিলেন। দাম ও ফলন ভালো হওয়ায় বেশ লাভবান হয়েছিলেন তিনি।রান্নার জ্বালানি হিসেবে পেয়েছিলেন গাছ ও গুল। তিনি আরও বলেন, এটি এমন একটি শয্যা যা চাষে কোন লোকসান হয় না, ফলন বা বাজার দর না থাকলেও চাষিকে কিছু অর্থ দিয়েই যান।সেজন্য এটি প্রান্তিক সহ সকল চাষিদের জন্য গুপ্তধন। আমাদের এ জেলার মাটি বেলে ও দোআঁশ হওয়ায় এ চাষের জন্য উপযোগী। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যাবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয়ের উপপরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা জানান,কৃষিখাতে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা করে আসছেন। ভুট্টার বহুবিধি ব্যবহার থাকায় সারা দেশের ন্যায় আমাদের চুয়াডাঙ্গায় এ চাষ বাড়ছে।অন্যান্য চাষের চেয়ে ভুট্টা চাষে খরচ ও পরিশ্রম ফলে লাভবান বেশি।তিনি আরও বলেন, ভুট্টা এমন একটি ফসল যা মানুষের খাদ্যের পাশাপাশি গো-খাদ্য, হাঁস মুরগির ও মাছের খাদ্য তৈরি হয় থাকেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছরে ভুট্টার বাম্পার ফলন হবেন। কৃষকরা যাতে যথাযথ ভাবে স্বল্প খরচে উচ্চফলনশীল ভুট্টা উৎপাদন করতে পারেন সে বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছেন।





















