২৮ অক্টোবর সাংবাদিকসহ ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০২:০১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ নভেম্বর ২০২৩ ১৬২ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:
সাংবাদিকদের আবাসন, দশম মজুরি বোর্ড গঠন ও কল্যাণ তহবিলের জন্য ১০ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া ২৮ অক্টোবর সাংবাদিকসহ ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজেড) সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এদেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের কোনো অধিকার নেই। তারা জনগণের কল্যাণ চায় না, এদেশের কল্যাণ চায় না। আমরা আন্দোলনও করেছি। বাংলাদেশে আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করা খুবই দুঃখজনক। বিএনপি ২৮ অক্টোবর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তারা তা করেনি। সেখানে সাংবাদিকদের যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা অমানবিক। আমার মনে হয়, এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা আর দেখা যায়নি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকের মোটরসাইকেল ভেঙে পুড়িয়ে দিয়েছে, পিটিয়ে আহত করেছে। আমরা সাধ্যমতো সহযোগিতা করবো। তবে, চাই তারা সুচিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে উঠুক।
শেখ হাসিনা বলেন, সেখানে তো আমাদের কেউ ছিল না। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আমরা শুধু শান্তিরক্ষা বা শৃঙ্খলা রক্ষার কথা বলেছি। তারাও হামলার শিকার হয়েছে।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা ২০১৩-১৪ সালেও একই ধরনের অগ্নিসংযোগ করেছে। তারা হত্যা-খুন-গুম করতে পারদর্শী। এত অমানবিক আচরণ একটা রাজনৈতিক দলের হয় না। বিএনপির আমলে প্রেস ক্লাবে পুলিশ ঢুকিয়ে দিয়ে পিটিয়ে ছিল।
গণমাধ্যমের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের কোনো কোনো পত্রিকা এটা (২৮ অক্টোবরের ঘটনা) কভার দেওয়ারও চেষ্টা করে, তাদের ধিক্কার জানাই। দেখা গেলো, যুবদলের একজন নেতা প্রেস লেখা জ্যাকেট পরে আগুন দিচ্ছে, পুলিশ পেটাচ্ছে। তারা ভেবেছিল, রেহাই পেয়ে যাবে। ধরা তো পরে গেছে। এর শাস্তি হবে।
গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো সামান্য কিছু হলেই বিবৃতি দেয়। এখন তারা কোথায়? আমাদের দেশের সুশীল বাবুরা কোথায়? শুধু আওয়ামী লীগে কিছু হলেই বড় করে দেখায়? মানবাধিকার সংগঠনগুলো চুপ কেন? এদের বিবেক বলে কিছু নেই? আওয়ামী লীগের পান থেকে চুন খসলেই তাদের কণ্ঠে অনেক জোর দেখা যায়। এখন বিড়ালের মতো মিউ মিউ করলেও তো দেখতাম। তাও তো দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনে যেভাবে হাসপাতাল হামলা হয়েছে, এখানেও। আমি জানি না তারা এই শিক্ষা ইহুদিদের কাছ থেকে পেয়েছে কি না।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে বলেন,একটা জমির আবেদন দিয়েছেন আমি দেখবো। জেলাভিত্তিক আবাসন প্রকল্প তৈরি করে দেবো। সেখান থেকে আপনারা আবাসন যাতে পান, সে ব্যবস্থা করবো।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা উচ্চমানের। এই পেশাটি একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে আরও ১০ কোটি টাকা অনুদান দেবো। মালিকরাও কিছু কিছু দিয়েন। করা দিলেন আমরা কিন্তু দেখবো।
সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএফইউজে প্রতিনিধি সভা শুরু হয়। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিএফইউজে সভাপতি ওমর ফারুক। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য, সম্প্রচারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।






















