ঢাকা ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo তরুণদের স্বপ্নের গল্প বলছে ভিভো বাংলাদেশ Logo ২১ মে শেষ সময়, তবু অনিশ্চয়তা কাটেনি: দোকান ফিরে পাবেন কি প্রতিবন্ধী রাজ্জাক? Logo লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ ও সেনা প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের নতুন শর্ত Logo হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১১ শিশুর প্রাণহানি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭ Logo নিউ এনার্জি মোবিলিটির আগামী বিনির্মানে আরও তিনটি নতুন মডেল নিয়ে এলো বিওয়াইডি Logo ঈদে গাজীপুর সিটিতে ১২ ঘণ্টায় বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা Logo রূপগঞ্জে এনজিওর নামে প্রতারণা, মিথ্যা মামলায় সব হারিয়ে নি:স্ব গ্রাহকরা ! Logo সৎ মায়ের নির্মম নির্যাতনে অতিষ্ঠ প্রতিবন্ধী সুমি, অসহায় ছেলেও মায়ের রোষানলে।প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর।  Logo মাদারীপুরে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পাশে এমপি জাহান্দার Logo পানিতে ডুবে থাকে স্কুল প্রাঙ্গণ, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

সরকারি নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি চলছে ইচ্ছেমতো

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:২১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৩৫ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। শুক্রবার ।। ০৩ মার্চ ২০২৬ ।।

ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এপ্রিল মাসের জন্য ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ঠিক করা হয়েছে ১ হাজার ৭২৮ টাকা, যা আগের মাসের ১ হাজার ৩৪১ টাকার তুলনায় ৩৮৭ টাকা বেশি। তবে এই নির্ধারিত দাম বাস্তবে বাজারে কার্যকর হচ্ছে না; বরং অধিক দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দোকানভেদে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও কোথাও সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রির চিত্র পাওয়া যায়নি।

**সরকারি দাম ও বাজারের বাস্তবতা**
বিইআরসি ঘোষণায় যেখানে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থাকার কথা, সেখানে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা। ফলে মাসিক গ্যাস ব্যয় বেড়ে গেছে অনেকটাই। শুধু ১২ কেজিই নয়, অন্যান্য মাপের সিলিন্ডার কিনতেও ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে।

**ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া**
সাধারণ মানুষ অভিযোগ করছেন, আগেও এলপিজি সরকার নির্ধারিত দামে পাওয়া যেত না। নতুন করে দাম বাড়ানোর পর বিক্রেতারা আরও বেশি মূল্য নিচ্ছেন।

ধানমন্ডির বাসিন্দা নিহাল হোসেন বলেন, আগে ১৮০০ থেকে ১৯০০ টাকায় সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও এখন ২২০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং সরকারি দামে কখনোই এলপিজি পাওয়া যায় না বলেও জানান তিনি।

**বিক্রেতাদের ব্যাখ্যা**
ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ ঘাটতি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ডিলার পর্যায়ে বেশি দামে কেনার কারণে তাদেরও উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে।

রাজধানীর হাতিরপুলের খুচরা বিক্রেতা রিপন হোসেন বলেন, তারা নিজেরাই বেশি দামে কিনছেন, তাই কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। একইভাবে টঙ্গীর এক ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন মিঠুও জানান, ১২ কেজির সিলিন্ডার ২২০০ টাকায় বিক্রি করছেন, কারণ তাদের ক্রয়মূল্যই বেশি।

**বিশেষজ্ঞদের মতামত**
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এলপিজি বাজারে কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দুর্বল নজরদারির সুযোগে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন। তারা দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ট্যাগস :

সরকারি নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি চলছে ইচ্ছেমতো

আপডেট সময় : ০৮:২১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। শুক্রবার ।। ০৩ মার্চ ২০২৬ ।।

ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এপ্রিল মাসের জন্য ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ঠিক করা হয়েছে ১ হাজার ৭২৮ টাকা, যা আগের মাসের ১ হাজার ৩৪১ টাকার তুলনায় ৩৮৭ টাকা বেশি। তবে এই নির্ধারিত দাম বাস্তবে বাজারে কার্যকর হচ্ছে না; বরং অধিক দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দোকানভেদে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও কোথাও সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রির চিত্র পাওয়া যায়নি।

**সরকারি দাম ও বাজারের বাস্তবতা**
বিইআরসি ঘোষণায় যেখানে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থাকার কথা, সেখানে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা। ফলে মাসিক গ্যাস ব্যয় বেড়ে গেছে অনেকটাই। শুধু ১২ কেজিই নয়, অন্যান্য মাপের সিলিন্ডার কিনতেও ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে।

**ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া**
সাধারণ মানুষ অভিযোগ করছেন, আগেও এলপিজি সরকার নির্ধারিত দামে পাওয়া যেত না। নতুন করে দাম বাড়ানোর পর বিক্রেতারা আরও বেশি মূল্য নিচ্ছেন।

ধানমন্ডির বাসিন্দা নিহাল হোসেন বলেন, আগে ১৮০০ থেকে ১৯০০ টাকায় সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও এখন ২২০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং সরকারি দামে কখনোই এলপিজি পাওয়া যায় না বলেও জানান তিনি।

**বিক্রেতাদের ব্যাখ্যা**
ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ ঘাটতি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ডিলার পর্যায়ে বেশি দামে কেনার কারণে তাদেরও উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে।

রাজধানীর হাতিরপুলের খুচরা বিক্রেতা রিপন হোসেন বলেন, তারা নিজেরাই বেশি দামে কিনছেন, তাই কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। একইভাবে টঙ্গীর এক ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন মিঠুও জানান, ১২ কেজির সিলিন্ডার ২২০০ টাকায় বিক্রি করছেন, কারণ তাদের ক্রয়মূল্যই বেশি।

**বিশেষজ্ঞদের মতামত**
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এলপিজি বাজারে কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দুর্বল নজরদারির সুযোগে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন। তারা দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।