ঢাকা ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ২১ মে শেষ সময়, তবু অনিশ্চয়তা কাটেনি: দোকান ফিরে পাবেন কি প্রতিবন্ধী রাজ্জাক? Logo লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ ও সেনা প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের নতুন শর্ত Logo হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১১ শিশুর প্রাণহানি, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭ Logo নিউ এনার্জি মোবিলিটির আগামী বিনির্মানে আরও তিনটি নতুন মডেল নিয়ে এলো বিওয়াইডি Logo ঈদে গাজীপুর সিটিতে ১২ ঘণ্টায় বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা Logo রূপগঞ্জে এনজিওর নামে প্রতারণা, মিথ্যা মামলায় সব হারিয়ে নি:স্ব গ্রাহকরা ! Logo সৎ মায়ের নির্মম নির্যাতনে অতিষ্ঠ প্রতিবন্ধী সুমি, অসহায় ছেলেও মায়ের রোষানলে।প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর।  Logo মাদারীপুরে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পাশে এমপি জাহান্দার Logo পানিতে ডুবে থাকে স্কুল প্রাঙ্গণ, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী Logo নওগাঁয় পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে চাঁদাবাজ ট্যাগ খেলেন কলেজ শিক্ষক

২১ মে শেষ সময়, তবু অনিশ্চয়তা কাটেনি: দোকান ফিরে পাবেন কি প্রতিবন্ধী রাজ্জাক?

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:৫২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬ ৮৯ বার পঠিত
নওগাঁ প্রতিনিধি:
দীর্ঘ সাত মাস ধরে দপ্তরে দপ্তরে ঘোরা, একের পর এক প্রশাসনিক আশ্বাস আর নির্ধারিত সময়সীমার অপেক্ষার পরও এখনো নিজের দোকানঘরে ফিরতে পারেননি নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটির প্রতিবন্ধী আব্দুর রাজ্জাক। জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া ২১ মে’র সময়সীমা শেষ হতে চললেও উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, শেষ পর্যন্ত কি নিজের বরাদ্দ পাওয়া দোকান ফিরে পাবেন রাজ্জাক? জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর প্রশান্ত কুমারের নির্দেশনায় সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়কে ২১ মে’র মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বদলিজনিত কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন সূত্র জানায়, সাবেক সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওশাদ হাসানের বদলি চলতি মাসের ৩ তারিখের আগেই হয়। পরে ৩ মে নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে মো. খাইরুজ্জামান যোগদান করেন। এরই মধ্যে তাঁরও বদলির আদেশ হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। যদিও তিনি এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর প্রশান্ত কুমার বলেন, নির্দেশনায় তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম উল্লেখ ছিল। তিনি বদলি হওয়ায় উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসক নতুন করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিলে প্রতিবন্ধী রাজ্জাককে দোকানঘর বুঝিয়ে দিতে প্রশাসনের কোনো আপত্তি নেই। এ বিষয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন মাহমুদ বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে যে নির্দেশনা আসে, সেগুলো অনুসরণ করেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। সাবেক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওশাদ হাসানকে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বদলিজনিত কারণে অভিযান পরিচালনায় কোনো জটিলতা আছে কি না, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অনেক জায়গায় গেছি, অভিযোগ দিয়েছি। সবাই শুধু আশ্বাস দিয়েছে। ওই ছোট দোকানটাই ছিল আমার সংসারের একমাত্র ভরসা। এখন আবার নতুন করে সময় বেঁধে হচ্ছে। আমি শুধু আমার ন্যায্য অধিকারটা ফিরে পেতে চাই। জানা গেছে, গত বছরের ২৪ অক্টোবর নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসসংলগ্ন বাজারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া রাজ্জাকের দোকানঘর দখলের অভিযোগ ওঠে দুবলহাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল রশিদ (চান্দু),ইউনিয়ন শ্রমিক দলের আহ্বায়ক লোকমান,এমরান হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী,দুবলহাটি ইউনিয়ন বিএনপির ব্যানার ব্যবহার করে দোকানঘরটি ভেঙে সেখানে নতুন নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত ও উচ্ছেদের আশ্বাস দেওয়া হয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অভিযান না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন রাজ্জাক ও তাঁর পরিবার। স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, একজন অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সরকারি বরাদ্দ পাওয়া দোকান দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁদের মতে, প্রশাসনের নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে সেটি শুধু রাজ্জাকের অধিকার প্রতিষ্ঠাই নয়, অসহায় মানুষের ন্যায্য অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে। ২১ মে’র নির্ধারিত সময়সীমা ঘিরে এখন পুরো এলাকায় আলোচনা চলছে। প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ট্যাগস :

২১ মে শেষ সময়, তবু অনিশ্চয়তা কাটেনি: দোকান ফিরে পাবেন কি প্রতিবন্ধী রাজ্জাক?

আপডেট সময় : ০৭:৫২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
নওগাঁ প্রতিনিধি:
দীর্ঘ সাত মাস ধরে দপ্তরে দপ্তরে ঘোরা, একের পর এক প্রশাসনিক আশ্বাস আর নির্ধারিত সময়সীমার অপেক্ষার পরও এখনো নিজের দোকানঘরে ফিরতে পারেননি নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটির প্রতিবন্ধী আব্দুর রাজ্জাক। জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া ২১ মে’র সময়সীমা শেষ হতে চললেও উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, শেষ পর্যন্ত কি নিজের বরাদ্দ পাওয়া দোকান ফিরে পাবেন রাজ্জাক? জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর প্রশান্ত কুমারের নির্দেশনায় সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়কে ২১ মে’র মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বদলিজনিত কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন সূত্র জানায়, সাবেক সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওশাদ হাসানের বদলি চলতি মাসের ৩ তারিখের আগেই হয়। পরে ৩ মে নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে মো. খাইরুজ্জামান যোগদান করেন। এরই মধ্যে তাঁরও বদলির আদেশ হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। যদিও তিনি এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর প্রশান্ত কুমার বলেন, নির্দেশনায় তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম উল্লেখ ছিল। তিনি বদলি হওয়ায় উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসক নতুন করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিলে প্রতিবন্ধী রাজ্জাককে দোকানঘর বুঝিয়ে দিতে প্রশাসনের কোনো আপত্তি নেই। এ বিষয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন মাহমুদ বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে যে নির্দেশনা আসে, সেগুলো অনুসরণ করেই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। সাবেক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওশাদ হাসানকে একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বদলিজনিত কারণে অভিযান পরিচালনায় কোনো জটিলতা আছে কি না, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অনেক জায়গায় গেছি, অভিযোগ দিয়েছি। সবাই শুধু আশ্বাস দিয়েছে। ওই ছোট দোকানটাই ছিল আমার সংসারের একমাত্র ভরসা। এখন আবার নতুন করে সময় বেঁধে হচ্ছে। আমি শুধু আমার ন্যায্য অধিকারটা ফিরে পেতে চাই। জানা গেছে, গত বছরের ২৪ অক্টোবর নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসসংলগ্ন বাজারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া রাজ্জাকের দোকানঘর দখলের অভিযোগ ওঠে দুবলহাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল রশিদ (চান্দু),ইউনিয়ন শ্রমিক দলের আহ্বায়ক লোকমান,এমরান হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী,দুবলহাটি ইউনিয়ন বিএনপির ব্যানার ব্যবহার করে দোকানঘরটি ভেঙে সেখানে নতুন নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত ও উচ্ছেদের আশ্বাস দেওয়া হয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অভিযান না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন রাজ্জাক ও তাঁর পরিবার। স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, একজন অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সরকারি বরাদ্দ পাওয়া দোকান দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাঁদের মতে, প্রশাসনের নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে সেটি শুধু রাজ্জাকের অধিকার প্রতিষ্ঠাই নয়, অসহায় মানুষের ন্যায্য অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে। ২১ মে’র নির্ধারিত সময়সীমা ঘিরে এখন পুরো এলাকায় আলোচনা চলছে। প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।