ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আইডিসি রিপোর্টে দেশের ১ নম্বর স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ইনফিনিক্স Logo স্থগিত ১০ মাস পর ঢাকায় কাভিশ, সঙ্গে শিরোনামহীন-মেঘদল Logo পতনের নতুন স্তরে পাকিস্তানের ক্রিকেট, ওয়াসিম আকরামের উদ্বেগ Logo ডিনারেও আসেননি, তড়িঘড়ি করে ভারত ছাড়লেন চীনা প্রেসিডেন্ট Logo ফের চালু আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের বন্ধ ইউনিট, দুপুরেই বাড়বে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ Logo বার্ষিক সাধারণ সভা করল বিআইজেএফ Logo হুথি মোকাবিলায় সৌদি আরবের পাশে সীমিত সহায়তা, সরাসরি যুদ্ধে নামছে না যুক্তরাষ্ট্র Logo ফেনীর নিহত যুবদল নেতা ও অসহায় পরিবারকে বাড়ি উপহার দিচ্ছেন তারেক রহমান Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়া কাজী সমিতির নির্বাচনে বিজয়ী সভাপতি ইয়াহিইয়া মাসউদ, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট ঘিরে ফের উত্তাপ, কনসার্ট বন্ধের দাবি, কওমি ঐক্য জোটের 

ফের চালু আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের বন্ধ ইউনিট, দুপুরেই বাড়বে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৫১:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১ বার পঠিত

ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি ইউনিট আবারও উৎপাদনে ফেরানো হয়েছে। এতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি কমার পাশাপাশি লোডশেডিং পরিস্থিতিরও কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই ইউনিটটি সচল করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে আদানি পাওয়ার। সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে ইউনিটটির সিঙ্ক্রোনাইজেশন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে দুপুরের মধ্যেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ আগের অবস্থায় ফেরানোর আশা করা হচ্ছে।

রোববার পাঠানো এক বার্তায় আদানি পাওয়ার জানায়, এপিএল গোড্ডার দ্বিতীয় ইউনিট সফলভাবে চালু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় আগেই মেরামত ও প্রস্তুতির কাজ শেষ হওয়ায় দ্রুত ইউনিটটি উৎপাদনে আনা সম্ভব হয়েছে। জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহও পুনরায় বাড়বে।

এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ওই ইউনিটের বয়লারে কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বাংলাদেশে সরবরাহ করা বিদ্যুতের ওপরও। ফলে জ্বালানি সংকটের কারণে এমনিতেই চাপে থাকা দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নতুন করে চাপ তৈরি হয় এবং বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেড়ে যায়।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী, ত্রুটির আগে গোড্ডা কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর সরবরাহ কমে ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে।

বিপিডিবি সূত্র জানায়, বয়লারে ত্রুটি ধরা পড়ার পরই মেরামতের কাজ শুরু করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন হতে পারে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের আগেই কারিগরি কাজ শেষ হওয়ায় ইউনিটটি দ্রুত সচল করা সম্ভব হয়েছে।

এর আগে আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকেই কয়লা সরবরাহে সমস্যার কারণে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হচ্ছিল না। আদানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, রেলপথে যানজট, কয়লা পরিবহনে বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কয়লা সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। ফলে কেন্দ্রটির জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা মজুত ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে আগস্টের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে কেন্দ্রটির উৎপাদনও বাড়তে থাকে। দিনের সময়ে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যার দিকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছিল। পরবর্তী সময়ে উৎপাদন বাড়িয়ে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটেরও বেশি করা সম্ভব হয়। কিন্তু এর পরপরই বয়লারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট মিলিয়ে মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, বন্ধ ইউনিটটি আবার উৎপাদনে আসায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের জোগান বাড়বে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া লোডশেডিংয়ের চাপও কিছুটা কমতে পারে।

ট্যাগস :

ফের চালু আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের বন্ধ ইউনিট, দুপুরেই বাড়বে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ

আপডেট সময় : ০২:৫১:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি ইউনিট আবারও উৎপাদনে ফেরানো হয়েছে। এতে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি কমার পাশাপাশি লোডশেডিং পরিস্থিতিরও কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই ইউনিটটি সচল করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে আদানি পাওয়ার। সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে ইউনিটটির সিঙ্ক্রোনাইজেশন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে দুপুরের মধ্যেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ আগের অবস্থায় ফেরানোর আশা করা হচ্ছে।

রোববার পাঠানো এক বার্তায় আদানি পাওয়ার জানায়, এপিএল গোড্ডার দ্বিতীয় ইউনিট সফলভাবে চালু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় আগেই মেরামত ও প্রস্তুতির কাজ শেষ হওয়ায় দ্রুত ইউনিটটি উৎপাদনে আনা সম্ভব হয়েছে। জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহও পুনরায় বাড়বে।

এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ওই ইউনিটের বয়লারে কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বাংলাদেশে সরবরাহ করা বিদ্যুতের ওপরও। ফলে জ্বালানি সংকটের কারণে এমনিতেই চাপে থাকা দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নতুন করে চাপ তৈরি হয় এবং বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেড়ে যায়।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী, ত্রুটির আগে গোড্ডা কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর সরবরাহ কমে ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে।

বিপিডিবি সূত্র জানায়, বয়লারে ত্রুটি ধরা পড়ার পরই মেরামতের কাজ শুরু করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন হতে পারে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের আগেই কারিগরি কাজ শেষ হওয়ায় ইউনিটটি দ্রুত সচল করা সম্ভব হয়েছে।

এর আগে আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকেই কয়লা সরবরাহে সমস্যার কারণে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হচ্ছিল না। আদানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, রেলপথে যানজট, কয়লা পরিবহনে বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কয়লা সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। ফলে কেন্দ্রটির জন্য প্রয়োজনীয় কয়লা মজুত ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে আগস্টের শেষ দিকে কয়লা সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে কেন্দ্রটির উৎপাদনও বাড়তে থাকে। দিনের সময়ে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যার দিকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছিল। পরবর্তী সময়ে উৎপাদন বাড়িয়ে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটেরও বেশি করা সম্ভব হয়। কিন্তু এর পরপরই বয়লারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট মিলিয়ে মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, বন্ধ ইউনিটটি আবার উৎপাদনে আসায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের জোগান বাড়বে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া লোডশেডিংয়ের চাপও কিছুটা কমতে পারে।