প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’ ধেয়ে আসছে গুজরাটের কচ্ছ ও পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে
- আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন ২০২৩ ১৭২ বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের গুজরাট ও পাকিস্তানের করাচির দিকে ধেয়ে আসছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বিপর্যয়’। সমুদ্র উত্তাল। বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয় গুজরাটের কচ্ছ এবং পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে আঘাত হানতে পারে। ডয়চে ভেলে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে যে ‘বিপর্যয়’ এখন খুব শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারত ও পাকিস্তানের উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার সকালে বিপর্যয়টি গুজরাট থেকে দুশো কিলোমিটার দূরে। স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছ এবং পাকিস্তানের মান্ডভি ও করাচিতে আঘাত হানবে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, এই ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার।
ভারতের গুজরাটে এখন বৃষ্টি শুরু হয়েছে। পোরবন্দর, রাজকোট, জুনাগড়, মোরবি এবং সৌরাষ্ট্র ও উত্তর গুজরাটের বেশ কিছু অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে, আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। এ নিয়ে সব বন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মৎস্যজীবীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা সাগরে যেতে পারবেন না। সমুদ্র এমনিতেই উত্তাল। বড় বড় ঢেউ উঠছে। জোরে বাতাস বইছে।
পশ্চিম রেলওয়ে জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৭৬টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। দ্বারকা ও সোমনাথ মন্দির বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মোট ৭৪,০০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উপকূলীয় এলাকায় মোট ১২৭টি জাতীয় ও রাজ্য দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া দল মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের চার শতাধিক কর্মী।
পাকিস্তান জেলেদের সমুদ্রে যেতেও নিষেধ করেছে। পরিবেশমন্ত্রী শেরি রেহমান বলেছেন, ঘূর্ণিঝড়টি করাচির পূর্ব দিকে চলে গেছে। তবে এটি পাকিস্তানের উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে এগিয়ে আসছে।
মন্ত্রী বলেন, অতিবৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে দুর্যোগ হবে। ফলে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সংবাদপত্র ডন জানিয়েছে, উপকূলের অনেকেই ত্রাণ শিবিরে যেতে চাননি। সরকারি চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তারা বলেন, স্থানীয় লোকজন জানায় সরকারি ত্রাণ শিবিরে কোনো ব্যবস্থা নেই। পুলিশ তাদের জোর করে ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যায়।
ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান ইনাম হায়দার মালিক বলেছেন, “ঝড় এখন যে দিকে যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে করাচি শহর বাঁচবে।” তা সত্ত্বেও করাচির বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজনকে ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৬৭ হাজার ৩৬৭ জনকে ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যে সব এলাকায় ঝড়টি যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেখানকার ৮২ শতাংশ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।














