ঢাকা ১০:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে জেলারের অবহেলায় হাজতির মৃত্যু। Logo ধামরাইয়ে বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা Logo আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরী Logo নেই উৎসবের আমেজ, ভোগান্তি নিয়ে শুরু হচ্ছে সাফ Logo মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে Logo এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি Logo গাজীপুরে সকালে মহাসড়কে সংঘর্ষ-বিক্ষোভ, বিকেলে স্বাভাবিক; ৩৫ কারখানায় ছুটি Logo গাজীপুরে একজনকে আটকের পর আরেক অভিযান, ২৪৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ Logo দেশে অনার ৬০০এসের বিক্রি শুরু, পাওয়া যাবে ড্যাজলে Logo নওগাঁয় জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ, রাজস্ব হারানোর শঙ্কা ১০ কোটি টাকা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:০০:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মার্চ ২০২৪ ৪৩৪ বার পঠিত

সাকিব আসলাম, ইবি প্রতিনিধি:

বঙ্গবন্ধু শুধু শব্দ নয় বাঙালি জাতির কাছে সংগ্রামের প্রতীক, যার জন্মলগ্ন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি চিত্রায়িত হয়েছে। নিপীড়ত মানুষের অধিকার আদায়ে কতটা সোচ্চার ছিলেন তার অনন্য উদাহরণ তিনি। জাতির পিতার এই জন্মবার্ষিকীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক বাংলাদেশ কন্ঠের প্রতিনিধি মো. সাকিব আসলাম। স্মৃতিতে, অস্তিত্ব জড়িয়ে থাকুক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

শিশুর মননে বঙ্গবন্ধু: আজকের এই বাংলাদেশ প্রাপ্তিতে বঙ্গবন্ধুর অবদান অবিস্মরণীয়। শিশুকাল থেকে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শন ছিল লক্ষনীয়। বাংলা ভাষা থেকে শুরু করে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রতিটি পদক্ষেপে যে মানুষটি বাঙালি জাতিকে অনুপ্রেরণা, সাহস জুগিয়েছে তিনি শেখ মুজিবুর রহমান, আমাদের বঙ্গবন্ধু, আমাদের জাতির পিতা। প্রতিটি আন্দোলনে তার দিকনির্দেশনামূলক বজ্রকন্ঠ বাণী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে করেছে সোচ্চার। মৃত্যুর এতো বছর পরেও আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করি। শিশুকাল থেকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানার মাধ্যমে আজকের শিশুরা জাতীয় সচেতনতা, সামাজিক দায়িত্ব, সমাজসেবা এবং নেতৃত্ব দানের প্রতি আগ্রহী হয়। তারা পরিবেশের তথা বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নতির দিকে গভীরভাবে সচেতন এবং কর্মঠ হয়ে নিজেদের গড়ে তোলে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনে আজকের শিশুরা কাজ করে যাবে। ফারহানা ইয়াসমিন- (কমিউনিকেশন, মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

জাতির পিতার জন্মদিনে গড়ে উঠুক বিপুল সম্ভাবনাময় আগামীর শিশু : আজ ১৭ ই মার্চ ২০২৪ ইংরেজি। জাতির জনক অহংকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন, জাতীয় শিশু দিবস হিসেবেও পালন করা হয়। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মে ছিলেন এই মহান নেতা। যার আজ ১০৪ তম জন্মদিন। বাঙ্গালী হিসেবে আমি অতীতের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কারণে গর্বিত। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন মন্ত্রিসভা ১৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনকে “জাতীয় শিশু দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে। এরই প্রেক্ষিতে ১৭ মার্চ, ১৯৯৭ সাল থেকে দিনটি সরকারিভাবে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। দিবসটি একই সাথে জাতির পিতার জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয় সারাদেশে। এরই প্রেক্ষিতে আমরা অবিস্মরনীয় দিনটিকে আরো স্মরণীয় করে তুলতে সেই সকল শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারি। যারা ছন্নছাড়া, ঘরহীন, পিতা-মাতা কিংবা মৌলিক অধিকার গুলো হতে বঞ্চিত। কেননা আজকের শিশু আগামীদিনে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার। একটি নবজাত শিশুর মধ্যে আজ যে প্রাণের সঞ্চার হল তা একদিন ফুলে ফলে প্রস্ফুটিত হবে। বড় হয়ে একদিন সে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন সফল করবে। ওয়ার্ডসওয়ার্থ -এর ভাষায়- ‘ চাইল্ড ইজ এ ফাদার অফ ন্যাশন’. বস্তুত শিশুর মধ্যে নিহিত রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। কারণ, শিশুই একদিন বড় হয়ে দেশ ও সমাজের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। শিশুদেরকে আদর, সোহাগ, যত্ন ও সুশিক্ষা দিয়ে বড় করে তোলার জন্য চাই অনুকূল পরিবেশ, উপযুক্ত শিক্ষা। উপযুক্ত অভিভাবক পেলে একটি শিশু আদর্শ মানুষরূপে বড় হয়ে উঠতে পারে। সে যে পরিবেশে থাকে সে তার পারিপার্শ্বিক আচার-আচরণ অনুকরণ করে এবং তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। সম্ভাবনাময় আগামী দিনের এক সুনাগরিক এভাবে অঙ্কুরেই গড়ে উঠতে পারে। এর ফলে জাতি পেতে পারে আদর্শ নাগরিক, যাদের দ্বারা দেশ ও সমাজ সঠিক পথে চালিত হতে পারে। আর উন্নত চরিত্র, মহান মানুষের সমবায়েই একটি মহৎ জাতি গড়ে ওঠে। যেহেতু শিশুর মধ্যে জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধির বীজ লুক্কায়িত থাকে, তাই শিশুর সযত্ন প্রতিপালন, সুশিক্ষা ও চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। কেননা শিশুরাই আগামী , শিশুরাই ভবিষ্যৎ। রেহেনুমা নূরাইয়া তান্নি- (ফার্মেসি) সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ রবে যতদিন শেখ মুজিবুর রবে ততদিন: ১৭ ই মার্চ, ১৯২০; ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে অন্যান্য দিনের মতো দিনটি শুরু হলেও কে জানতো যে সেই দিনটিতে জন্ম নেওয়া শিশুটি হবে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের জনক? কে ই বা বলতে পেরেছিল যে তার হাতেই লিখিত হবে একটি রক্তস্নাত দেশের ইতিহাস? বলছিলাম হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, বাঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা! সেই দিনটিতে তাঁর জন্ম না হলে আজ এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হতো কিনা সে ব্যাপারে আমি অনিশ্চিত। জনসাধারণের কাছে তিনি “শেখ মুজিব” বা “শেখ সাহেব” নামে এবং তার উপাধি “বঙ্গবন্ধু” হিসেবে অধিক পরিচিত। ছাত্রজীবনে স্কুলের ছাদ দিয়ে পানি পড়ত তা সারাবার জন্য ও ছাত্রাবাসের দাবি স্কুল ছাত্রদের পক্ষ থেকে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নিকট তুলে ধরার মধ্য দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করার যে বার্তা তিনি দিয়েছিলেন, সেটার বাস্তব প্রতিফলন আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। তাকে যদি শুধু একজন জাতির পিতা হিসেবে বা আদর্শ হিসেবে বর্ণনা করা হয় তাহলে হয়তো ভুল হবে। তিনি বাংলাদেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। মোট ৪ হাজার ৬৮২ দিন কারাগারে কাটিয়েছেন। সবাই কে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন একটি স্বাধীন দেশের, স্বাধীন পতাকার, একটি স্বাধীন মানচিত্রের। দেশে গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের তাঁর বিখ্যাত ভাষণটি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।তার অদম্য নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালে মাত্র ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে পরিণত করেন। ওয়াসিফ আর আবরার-(কমিউনিকেশন, মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

বঙ্গবন্ধুকে না পেলে আজ বাংলাদেশ কিভাবে পেতাম! :বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও ভারতীয় উপমহাদেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। প্রাচীন বাঙালি সভ্যতার আধুনিক স্থপতি তিনি। দেশের মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার কারণে তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দিয়েছিল ছাত্র-জনতা। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছাত্রাবস্থায় থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ১৯৪০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও, পাকিস্তান সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকার গঠন করেন। দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দেশের পুনর্গঠন ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নিহত হন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রীয় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আজও বাংলাদেশের মানুষের কাছে একজন অনুপ্রেরণা ও শ্রদ্ধার ব্যক্তিত্ব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুদের প্রতি গভীর ভালোবাসা পোষণ

করতেন। তিনি শিশুদেরকে দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখতেন এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য কাজ করেছিলেন। জাতীয় শিশু দিবস পালনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর শিশুদের প্রতি ভালোবাসা ও শিশুদের অধিকার রক্ষার প্রতি গুরুত্বকে স্মরণ করা হয়। ১৯৯৩ সালে নীলিমা ইব্রাহিম প্রথম ১৭ মার্চকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব করেন। ১৯৯৪ সালে “বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা” নামক সংগঠনটি বেসরকারিভাবে ১৭ মার্চকে “জাতীয় শিশু কিশোর দিবস” হিসেবে পালন করে। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন মন্ত্রিসভা ১৭ মার্চকে “জাতীয় শিশু দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চ প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে জাতীয় শিশু দিবস পালিত হয়। জাতীয় শিশু দিবসে সারা দেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্কুল, কলেজ, এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, কবিতা ও প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা প্রতিযোগিতা, ইত্যাদি আয়োজন করা হয়।

জাতীয় শিশু দিবসের থিম অনুযায়ী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। এই দিনটি শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়। নাজমুন নাহার লিমা-(সমাজ কল্যাণ বিভাগ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

আপডেট সময় : ০৮:০০:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মার্চ ২০২৪

সাকিব আসলাম, ইবি প্রতিনিধি:

বঙ্গবন্ধু শুধু শব্দ নয় বাঙালি জাতির কাছে সংগ্রামের প্রতীক, যার জন্মলগ্ন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি চিত্রায়িত হয়েছে। নিপীড়ত মানুষের অধিকার আদায়ে কতটা সোচ্চার ছিলেন তার অনন্য উদাহরণ তিনি। জাতির পিতার এই জন্মবার্ষিকীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনিক বাংলাদেশ কন্ঠের প্রতিনিধি মো. সাকিব আসলাম। স্মৃতিতে, অস্তিত্ব জড়িয়ে থাকুক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

শিশুর মননে বঙ্গবন্ধু: আজকের এই বাংলাদেশ প্রাপ্তিতে বঙ্গবন্ধুর অবদান অবিস্মরণীয়। শিশুকাল থেকে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শন ছিল লক্ষনীয়। বাংলা ভাষা থেকে শুরু করে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রতিটি পদক্ষেপে যে মানুষটি বাঙালি জাতিকে অনুপ্রেরণা, সাহস জুগিয়েছে তিনি শেখ মুজিবুর রহমান, আমাদের বঙ্গবন্ধু, আমাদের জাতির পিতা। প্রতিটি আন্দোলনে তার দিকনির্দেশনামূলক বজ্রকন্ঠ বাণী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে করেছে সোচ্চার। মৃত্যুর এতো বছর পরেও আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করি। শিশুকাল থেকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানার মাধ্যমে আজকের শিশুরা জাতীয় সচেতনতা, সামাজিক দায়িত্ব, সমাজসেবা এবং নেতৃত্ব দানের প্রতি আগ্রহী হয়। তারা পরিবেশের তথা বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নতির দিকে গভীরভাবে সচেতন এবং কর্মঠ হয়ে নিজেদের গড়ে তোলে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনে আজকের শিশুরা কাজ করে যাবে। ফারহানা ইয়াসমিন- (কমিউনিকেশন, মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

জাতির পিতার জন্মদিনে গড়ে উঠুক বিপুল সম্ভাবনাময় আগামীর শিশু : আজ ১৭ ই মার্চ ২০২৪ ইংরেজি। জাতির জনক অহংকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন, জাতীয় শিশু দিবস হিসেবেও পালন করা হয়। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মে ছিলেন এই মহান নেতা। যার আজ ১০৪ তম জন্মদিন। বাঙ্গালী হিসেবে আমি অতীতের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কারণে গর্বিত। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন মন্ত্রিসভা ১৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনকে “জাতীয় শিশু দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে। এরই প্রেক্ষিতে ১৭ মার্চ, ১৯৯৭ সাল থেকে দিনটি সরকারিভাবে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। দিবসটি একই সাথে জাতির পিতার জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয় সারাদেশে। এরই প্রেক্ষিতে আমরা অবিস্মরনীয় দিনটিকে আরো স্মরণীয় করে তুলতে সেই সকল শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারি। যারা ছন্নছাড়া, ঘরহীন, পিতা-মাতা কিংবা মৌলিক অধিকার গুলো হতে বঞ্চিত। কেননা আজকের শিশু আগামীদিনে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার। একটি নবজাত শিশুর মধ্যে আজ যে প্রাণের সঞ্চার হল তা একদিন ফুলে ফলে প্রস্ফুটিত হবে। বড় হয়ে একদিন সে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন সফল করবে। ওয়ার্ডসওয়ার্থ -এর ভাষায়- ‘ চাইল্ড ইজ এ ফাদার অফ ন্যাশন’. বস্তুত শিশুর মধ্যে নিহিত রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। কারণ, শিশুই একদিন বড় হয়ে দেশ ও সমাজের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। শিশুদেরকে আদর, সোহাগ, যত্ন ও সুশিক্ষা দিয়ে বড় করে তোলার জন্য চাই অনুকূল পরিবেশ, উপযুক্ত শিক্ষা। উপযুক্ত অভিভাবক পেলে একটি শিশু আদর্শ মানুষরূপে বড় হয়ে উঠতে পারে। সে যে পরিবেশে থাকে সে তার পারিপার্শ্বিক আচার-আচরণ অনুকরণ করে এবং তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। সম্ভাবনাময় আগামী দিনের এক সুনাগরিক এভাবে অঙ্কুরেই গড়ে উঠতে পারে। এর ফলে জাতি পেতে পারে আদর্শ নাগরিক, যাদের দ্বারা দেশ ও সমাজ সঠিক পথে চালিত হতে পারে। আর উন্নত চরিত্র, মহান মানুষের সমবায়েই একটি মহৎ জাতি গড়ে ওঠে। যেহেতু শিশুর মধ্যে জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধির বীজ লুক্কায়িত থাকে, তাই শিশুর সযত্ন প্রতিপালন, সুশিক্ষা ও চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। কেননা শিশুরাই আগামী , শিশুরাই ভবিষ্যৎ। রেহেনুমা নূরাইয়া তান্নি- (ফার্মেসি) সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ রবে যতদিন শেখ মুজিবুর রবে ততদিন: ১৭ ই মার্চ, ১৯২০; ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে অন্যান্য দিনের মতো দিনটি শুরু হলেও কে জানতো যে সেই দিনটিতে জন্ম নেওয়া শিশুটি হবে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের জনক? কে ই বা বলতে পেরেছিল যে তার হাতেই লিখিত হবে একটি রক্তস্নাত দেশের ইতিহাস? বলছিলাম হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, বাঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা! সেই দিনটিতে তাঁর জন্ম না হলে আজ এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হতো কিনা সে ব্যাপারে আমি অনিশ্চিত। জনসাধারণের কাছে তিনি “শেখ মুজিব” বা “শেখ সাহেব” নামে এবং তার উপাধি “বঙ্গবন্ধু” হিসেবে অধিক পরিচিত। ছাত্রজীবনে স্কুলের ছাদ দিয়ে পানি পড়ত তা সারাবার জন্য ও ছাত্রাবাসের দাবি স্কুল ছাত্রদের পক্ষ থেকে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নিকট তুলে ধরার মধ্য দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করার যে বার্তা তিনি দিয়েছিলেন, সেটার বাস্তব প্রতিফলন আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। তাকে যদি শুধু একজন জাতির পিতা হিসেবে বা আদর্শ হিসেবে বর্ণনা করা হয় তাহলে হয়তো ভুল হবে। তিনি বাংলাদেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। মোট ৪ হাজার ৬৮২ দিন কারাগারে কাটিয়েছেন। সবাই কে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন একটি স্বাধীন দেশের, স্বাধীন পতাকার, একটি স্বাধীন মানচিত্রের। দেশে গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের তাঁর বিখ্যাত ভাষণটি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।তার অদম্য নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালে মাত্র ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে পরিণত করেন। ওয়াসিফ আর আবরার-(কমিউনিকেশন, মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

বঙ্গবন্ধুকে না পেলে আজ বাংলাদেশ কিভাবে পেতাম! :বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও ভারতীয় উপমহাদেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। প্রাচীন বাঙালি সভ্যতার আধুনিক স্থপতি তিনি। দেশের মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার কারণে তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দিয়েছিল ছাত্র-জনতা। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছাত্রাবস্থায় থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ১৯৪০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও, পাকিস্তান সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকার গঠন করেন। দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দেশের পুনর্গঠন ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নিহত হন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রীয় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আজও বাংলাদেশের মানুষের কাছে একজন অনুপ্রেরণা ও শ্রদ্ধার ব্যক্তিত্ব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুদের প্রতি গভীর ভালোবাসা পোষণ

করতেন। তিনি শিশুদেরকে দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখতেন এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য কাজ করেছিলেন। জাতীয় শিশু দিবস পালনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর শিশুদের প্রতি ভালোবাসা ও শিশুদের অধিকার রক্ষার প্রতি গুরুত্বকে স্মরণ করা হয়। ১৯৯৩ সালে নীলিমা ইব্রাহিম প্রথম ১৭ মার্চকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব করেন। ১৯৯৪ সালে “বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা” নামক সংগঠনটি বেসরকারিভাবে ১৭ মার্চকে “জাতীয় শিশু কিশোর দিবস” হিসেবে পালন করে। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন মন্ত্রিসভা ১৭ মার্চকে “জাতীয় শিশু দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চ প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে জাতীয় শিশু দিবস পালিত হয়। জাতীয় শিশু দিবসে সারা দেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্কুল, কলেজ, এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, কবিতা ও প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা প্রতিযোগিতা, ইত্যাদি আয়োজন করা হয়।

জাতীয় শিশু দিবসের থিম অনুযায়ী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। এই দিনটি শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়। নাজমুন নাহার লিমা-(সমাজ কল্যাণ বিভাগ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।