ঢাকা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ২০২৯ সালের জুনে শেষ হবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ৬ লেন নির্মাণ : সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রী৷ Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস গ্যাসের নতুন কুপ খননের উদ্বোধন Logo পপুলার লাইফের খুলনা অঞ্চলের বীমা গ্রাহকের বীমা দাবীর ৩ কোটি ১৭ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর Logo রাজাপুরের উত্তমপুর বাজারে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের আশায় ব্যবসায়ীরা Logo ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অনারের রোবট ফোন Logo ইরান যুদ্ধে নিহত সেনাদের সংখ্যা গোপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র Logo বলিউডে রাজত্ব করেছেন এক যুগ, কিন্তু ভালোবেসেছেন বাংলাকে Logo বিবর্ণ মিরাজ, হেটমায়ারের সেঞ্চুরির পরও গায়ানার বিদায় Logo দুপুরের মধ্যেই প্রকাশ হতে পারে নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন, বেতন নিয়ে যা জানা গেল Logo লংমার্চের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির, নজরও রাখছে

জয়রামপুর রেলস্টেশনে ট্রেনের যাত্রা বিরতির দাবিতে স্থানীয়দের মানববন্ধন

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ২৮৯ বার পঠিত

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনে নকশীকাঁথা (গোয়ালন্দ মেল) ট্রেনের আপ-ডাউন যাত্রা বিরতির দাবিতে হাউলী ইউনিয়নের জয়রামপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। বুধবার ২৭ ডিসেম্বর বিকাল ৪ টার দিকে জয়রামপুর স্টেশন প্রাঙ্গণে ট্রেন অধিকার সংরক্ষণ কমিটির আয়জনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

সুত্রে জানা যায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা নকশীকাঁথা (গোয়ালন্দ মেল) ট্রেনটি ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকে এই জয়রামপুর রেল স্টেশনে থামতো এবং এই অঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রা কৃষি পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে বিপুল জনগোষ্ঠী দীর্ঘ দিন যাতায়াতের সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বিধিবাম, এই ট্রেনের ঢাকাগামী নতুন সংস্করণ নকশীকাঁথা (গোয়ালন্দ মেল) ট্রেনের প্রকাশিত নতুন যাত্রাবিরতি সিডিউলে জয়রামপুর রেল স্টেশনকে বাদ রাখা হয়েছে। যার ফলে চলতি ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে জয়রামপুর রেল স্টেশনে আর নকশীকাঁথা (গোয়ালন্দ মেল) ট্রেনটি থামছেনা। দামুড়হুদা থানার একমাত্র স্টেশন জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশন হতে যাতায়াত করা লক্ষাধিক মানুষের ব্যাবসা বানিজ্য, চাকুরি, চিকিৎসা ও আত্মীয়তায় অবর্ণনীয় ছাপ পড়েছে এবং মানুষ ইতিমধ্যেই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। এ দুর্ভোগ নিরসনের জন্য গত ২৪ নভেম্বর ২০২৩ ইং তারিখে হাউলি ইউনিয়নের মানুষ জয়রামপুর রেলওয়ে প্লাটফর্মে একটি মানববন্ধন করে এবং গত ২৯শে নভেম্বর পাকসি আঞ্চলিক রেল ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের গণদুর্ভোগের বিষয় জানিয়ে একটি গণ পিটিশন দাখিল করে জয়রামপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা।

জয়রামপুর স্টেশন ট্রেন অধিকার সংরক্ষণ কমিটির আহবায়ক লাজিব আক্তার সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এবং কুকিয়া চাঁদপুর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: আব্দুল আলিমের সঞ্চালনায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও হাউলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ খোকন, উপদেষ্টা নাফিজ আক্তার সিদ্দিকী, আনোয়ারুল মাস্টার, উপদেষ্টা ও হাউলী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আয়ুব আলী স্বপন, প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম মিফতা, কো-সমন্বয়ক ও পড়শি’র সভাপতি মোঃ হানিফ, হুমায়ুন আহম্মদ ডাবলু প্রমূখ।

এসময় বক্তারা বলেন, ট্রেনের জন্মলগ্ন থেকে জয়রামপুর রেল স্টেশনে গোয়ালন্দ মেল ট্রেনটি থামতো, কিন্তু এ মাসের প্রথম দিন থেকে ট্রেনটি অদৃশ্য কারণে আর জয়রামপুর স্টেশনে থামছেনা। জয়রামপুরে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা, জয়রামপুর হাঁট, কেরু এন্ড কোম্পানির আখ সেন্টার ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসসহ হাজার হাজার শিক্ষার্থী সহ পথচারীরা এই রেল স্টেশনের উপর দিয়ে চলাফেরা করেন। অথচ এই স্টেশনটি রয়েছেন প্রায় অরক্ষিত অবস্থায়, এখানে নেই কোন গেটম্যান। যার ফলশ্রুতিতে স্টেশনটিতে প্রায় ট্রেনে কেটে পথচারীসহ শিক্ষার্থীদের নিহতের ঘটনা ঘটেছে।

বক্তারা আরও বলেন, এ এলাকার সিংহভাগ মানুষ যেহেতু কৃষি কাজের সাথে জড়িত, সেজন্য এ স্টেশনটির যাত্রাবিরতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রা বিরতি ঘটলে, এ অঞ্চলের কৃষক ভাইরা তাদের উৎপাদিত ধনিয়া পাতা, খেজুরের গুড়, আলু, পেঁয়াজ, কপি, পেঁপে, টমেটো, সিম প্রভৃতি কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, যশোরসহ বিভিন্ন স্থানের পাইকারী বাজারে স্বপ্ন খরচে কম সময়ে পরিবহন করতে পারবে। ফলে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন ঘটবে। সেজন্য, রেলওয়ে
কর্তৃপক্ষের পুনরায় নকশীকাঁথা (গোয়ালন্দ মেল) ট্রেনটি জয়রামপুর স্টেশনে যাত্রা বিরতির ব্যবস্থা করতে হবে, যদি তা না হয় তাহলে আগামীতে স্থানীয় ও এলাকার জনগণ নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

জেলার দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষসহ স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জয়রামপুর রেলওয়ে ট্রেনের নকশীকাঁথা গোয়ালন্দ মেইলটির যাত্রা বিরতির দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধননে একত্রিত হয়েছেন। এটি তাদের যৌক্তিক দাবি। কারণ উল্লেখিত স্টেশনট এলাকাটি একটি কৃষি অধ্যূষিত এলাকা। এখানে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের সবজি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদন করেন কৃষকেরা। পাশাপাশি রেললাইন সংলগ্ন স্থানে রয়েছে খেজুরের গুড়ের জমজমাট হাট। ফলে ট্রেনের যাত্রা বিরতি ঘটলে ট্রেনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে খুব সহজে এ অঞ্চলের সর্বসাধারণ তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য খুব সহজে পরিবহন করতে পারবে। এতে করে কৃষকের সময়, শ্রম ও অর্থ সবই বাঁচবে। সর্বস্তরের জনসাধারণের উন্নয়ন তথা কৃষি ও কৃষির উন্নয়নে কর্তৃপক্ষ সুদৃষ্টি দেবেন বলে আশাবাদী স্থানীয়রা।

জয়রামপুর রেলস্টেশনে ট্রেনের যাত্রা বিরতির দাবিতে স্থানীয়দের মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৯:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনে নকশীকাঁথা (গোয়ালন্দ মেল) ট্রেনের আপ-ডাউন যাত্রা বিরতির দাবিতে হাউলী ইউনিয়নের জয়রামপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। বুধবার ২৭ ডিসেম্বর বিকাল ৪ টার দিকে জয়রামপুর স্টেশন প্রাঙ্গণে ট্রেন অধিকার সংরক্ষণ কমিটির আয়জনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

সুত্রে জানা যায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা নকশীকাঁথা (গোয়ালন্দ মেল) ট্রেনটি ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকে এই জয়রামপুর রেল স্টেশনে থামতো এবং এই অঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রা কৃষি পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে বিপুল জনগোষ্ঠী দীর্ঘ দিন যাতায়াতের সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বিধিবাম, এই ট্রেনের ঢাকাগামী নতুন সংস্করণ নকশীকাঁথা (গোয়ালন্দ মেল) ট্রেনের প্রকাশিত নতুন যাত্রাবিরতি সিডিউলে জয়রামপুর রেল স্টেশনকে বাদ রাখা হয়েছে। যার ফলে চলতি ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে জয়রামপুর রেল স্টেশনে আর নকশীকাঁথা (গোয়ালন্দ মেল) ট্রেনটি থামছেনা। দামুড়হুদা থানার একমাত্র স্টেশন জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশন হতে যাতায়াত করা লক্ষাধিক মানুষের ব্যাবসা বানিজ্য, চাকুরি, চিকিৎসা ও আত্মীয়তায় অবর্ণনীয় ছাপ পড়েছে এবং মানুষ ইতিমধ্যেই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। এ দুর্ভোগ নিরসনের জন্য গত ২৪ নভেম্বর ২০২৩ ইং তারিখে হাউলি ইউনিয়নের মানুষ জয়রামপুর রেলওয়ে প্লাটফর্মে একটি মানববন্ধন করে এবং গত ২৯শে নভেম্বর পাকসি আঞ্চলিক রেল ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের গণদুর্ভোগের বিষয় জানিয়ে একটি গণ পিটিশন দাখিল করে জয়রামপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা।

জয়রামপুর স্টেশন ট্রেন অধিকার সংরক্ষণ কমিটির আহবায়ক লাজিব আক্তার সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে এবং কুকিয়া চাঁদপুর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: আব্দুল আলিমের সঞ্চালনায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও হাউলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ খোকন, উপদেষ্টা নাফিজ আক্তার সিদ্দিকী, আনোয়ারুল মাস্টার, উপদেষ্টা ও হাউলী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আয়ুব আলী স্বপন, প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম মিফতা, কো-সমন্বয়ক ও পড়শি’র সভাপতি মোঃ হানিফ, হুমায়ুন আহম্মদ ডাবলু প্রমূখ।

এসময় বক্তারা বলেন, ট্রেনের জন্মলগ্ন থেকে জয়রামপুর রেল স্টেশনে গোয়ালন্দ মেল ট্রেনটি থামতো, কিন্তু এ মাসের প্রথম দিন থেকে ট্রেনটি অদৃশ্য কারণে আর জয়রামপুর স্টেশনে থামছেনা। জয়রামপুরে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা, জয়রামপুর হাঁট, কেরু এন্ড কোম্পানির আখ সেন্টার ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসসহ হাজার হাজার শিক্ষার্থী সহ পথচারীরা এই রেল স্টেশনের উপর দিয়ে চলাফেরা করেন। অথচ এই স্টেশনটি রয়েছেন প্রায় অরক্ষিত অবস্থায়, এখানে নেই কোন গেটম্যান। যার ফলশ্রুতিতে স্টেশনটিতে প্রায় ট্রেনে কেটে পথচারীসহ শিক্ষার্থীদের নিহতের ঘটনা ঘটেছে।

বক্তারা আরও বলেন, এ এলাকার সিংহভাগ মানুষ যেহেতু কৃষি কাজের সাথে জড়িত, সেজন্য এ স্টেশনটির যাত্রাবিরতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রা বিরতি ঘটলে, এ অঞ্চলের কৃষক ভাইরা তাদের উৎপাদিত ধনিয়া পাতা, খেজুরের গুড়, আলু, পেঁয়াজ, কপি, পেঁপে, টমেটো, সিম প্রভৃতি কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, যশোরসহ বিভিন্ন স্থানের পাইকারী বাজারে স্বপ্ন খরচে কম সময়ে পরিবহন করতে পারবে। ফলে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন ঘটবে। সেজন্য, রেলওয়ে
কর্তৃপক্ষের পুনরায় নকশীকাঁথা (গোয়ালন্দ মেল) ট্রেনটি জয়রামপুর স্টেশনে যাত্রা বিরতির ব্যবস্থা করতে হবে, যদি তা না হয় তাহলে আগামীতে স্থানীয় ও এলাকার জনগণ নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

জেলার দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষসহ স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জয়রামপুর রেলওয়ে ট্রেনের নকশীকাঁথা গোয়ালন্দ মেইলটির যাত্রা বিরতির দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধননে একত্রিত হয়েছেন। এটি তাদের যৌক্তিক দাবি। কারণ উল্লেখিত স্টেশনট এলাকাটি একটি কৃষি অধ্যূষিত এলাকা। এখানে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের সবজি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদন করেন কৃষকেরা। পাশাপাশি রেললাইন সংলগ্ন স্থানে রয়েছে খেজুরের গুড়ের জমজমাট হাট। ফলে ট্রেনের যাত্রা বিরতি ঘটলে ট্রেনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে খুব সহজে এ অঞ্চলের সর্বসাধারণ তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য খুব সহজে পরিবহন করতে পারবে। এতে করে কৃষকের সময়, শ্রম ও অর্থ সবই বাঁচবে। সর্বস্তরের জনসাধারণের উন্নয়ন তথা কৃষি ও কৃষির উন্নয়নে কর্তৃপক্ষ সুদৃষ্টি দেবেন বলে আশাবাদী স্থানীয়রা।