অস্ত্র বানানোর অর্থ বিশ্বের উন্নয়নে ব্যয় করতে বিশ্বনেতাদের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
- আপডেট সময় : ০১:৫৪:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৩ ১৭২ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধ ও অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করে বিশ্বের উন্নয়নে অস্ত্র বানানোর অর্থ ব্যয় করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার (১৮ অক্টোবর) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘শেখ রাসেল ও স্মার্ট বাংলাদেশ পদক প্রদান এবং শেখ রাসেল দিবস ২০২৩’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ বিশ্বে একের পর এক যুদ্ধ চলছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এখন আবার ফিলিস্তিনে হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। উভয় পক্ষেরই শিশু নিহত হয়েছে। গতকাল দেখলাম হাসপাতালে হামলা হয়েছে। সেখানে শিশুরাও মারা গেছে। বিশ্বনেতাদের বলব, এই যুদ্ধ বন্ধ করুন। অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করুন। যুদ্ধ মানুষের কল্যাণ বয়ে আনে না। এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নারী ও শিশুরা।আমরা সেটা জানি। যুদ্ধের ফলে শিশু হারায় বাবা-মা, বাবা-মা হারায় সন্তানদের। ১৯৭১ ও ১৯৭৫ এ আমরা এই ভয়াবহতা দেখেছি। আজ আমাদের কাছে তাপস আছে, যে শিশু বয়সেই তার বাবা-মাকে হারিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা চাই অস্ত্র তৈরির অর্থ বিশ্বের উন্নয়নে ব্যবহার করা হোক। যুদ্ধ চাই না, কারণ যুদ্ধ ধ্বংস করে। আমরা শান্তি চাই।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি চাই আমার ছোট্ট রাসেলের মতো জীবন যেন কাউকে দিতে না হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রী কবি সুকান্তের কবিতাও আবৃত্তি করেন।
তিনি বলেন, শিশুদের একটি স্বাধীন দেশের উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিশু-কিশোরদের নিয়ে এই সংগঠন। এই সংগঠনের উদ্দেশ্য হল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সব মানুষকে মানুষের দৃষ্টিতে দেখা এবং অটিস্টিক বা পিছিয়েপড়াদের আরও এগিয়ে নেওয়া।
১৯৭১ সালে তার কারাবাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যখন বন্দি ছিলাম, একবার চেষ্টা করেছে ভেতরে এসে আমাদের ওপর হামলা করতে। একটা ছোট্ট তার আমাদের বাঁচিয়ে দেয়। একটা কাপড় ঝোলানো তারের সঙ্গে লেগে সে অফিসার পড়ে যায়, পরে সে ফিরে যায়। পরে কর্নেল অশোক আসে। সেদিনটি ছিল ১৮ তারিখ।
তিনি বলেন, ছোট শিশুরা দ্রুত শেখে। আমাদের বুড়োদের হয়তো দেরি হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রী নিজের নাতির স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমাদের এই শিশুরাই আগামী স্মার্ট বাংলাদেশের দক্ষ সৈনিক হবে।
শিশুদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন,আজ তোমরা যারা শিশু এখানে আছো, বাবা-মার কথা শুনবে। ঠিকমতো লেখাপড়া করবে। লেখাপড়া ছাড়া মানুষ বড় হতে পারে না। আমাদের ছেলেদেয়েদের মধ্যে এই আকাঙ্ক্ষা থাকবে, আমরা লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হবো। বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো।
তিনি বলেন, আমরা শান্তি চাই। দেশের উন্নয়ন চাই। এজন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। আগামীতে আমাদের লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানে ‘স্মরণের আবরণে শেখ রাসেল’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্নেল (অব.) অশোক কুমার তারার একটি ভিডিও বার্তা রাসেলের স্মৃতিতেও প্রদর্শিত হয়।
জাতির পিতার কনিষ্ঠ পুত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট ভাই শেখ রাসেল ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ধানমন্ডিতে জন্মগ্রহণ করেন। শেখ রাসেল ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের ছাত্র ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের নির্মম বুলেট থেকে রেহাই পায়নি শিশু শেখ রাসেল। বঙ্গবন্ধুর সাথে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
শিশু-কিশোরদের কাছে শিশু রাসেলের জীবনকে তুলে ধরতে তার জন্মদিনকে ‘শেখ রাসেল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যে তৃতীয়বারের মতো পালিত হচ্ছে ‘শেখ রাসেল দিবস’। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘শেখ রাসেল দীপ্তিময়, নির্ভীক নির্মল দুর্জয়’।






















