বন্যার পর তিব্বতে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, নেপালেও অনুভূত কম্পন
- আপডেট সময় : ১১:৪৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯ বার পঠিত

ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি সামলে ওঠার আগেই নতুন করে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে কেঁপে উঠেছে তিব্বত ও নেপালের বিভিন্ন এলাকা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তিব্বতে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কম্পন নেপালের কয়েকটি এলাকাতেও অনুভূত হয়েছে।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। তবে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) এর মাত্রা ৫ দশমিক ০ বলে জানিয়েছে। ভূমিকম্পের পরপরই বড় ধরনের হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্পের আগে গত বৃহস্পতিবারও তিব্বতে ৫ দশমিক ১ মাত্রার একটি কম্পন অনুভূত হয়েছিল। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছিল, ওই ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।
এর মধ্যেই নেপাল ও তিব্বত ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ আগস্টের বন্যায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৫৭ জনে পৌঁছেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫ হাজার ৩২৬ জন।
অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে এখনো ৫১৯ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। দুই অঞ্চলের হিসাব একত্র করলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৪০০ জন এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৪৫ জন।
নেপালের কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণের চেষ্টা করছে। চীন-নেপাল সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় হিমবাহ ও পাহাড়ধসে রাস্তা, সেতু এবং বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে উদ্ধার অভিযান ১৪তম দিনে গড়িয়েছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মী রয়েছেন। উদ্ধারকারীরা শুক্রবার একটি গভীর টানেলের ভেতর আটকে থাকা দুই নেপালি নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করেন। পরদিন শনিবার আরও এক চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় দুর্গম এলাকায় আটকে থাকা অন্যদেরও জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে হিমবাহ ধসের পেছনে ঠিক কী কারণ কাজ করেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় পাহাড়ি অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস এবং হিমবাহ বা হ্রদের পানি হঠাৎ নেমে আসার মতো দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
হিমালয় অঞ্চলেও এই ঝুঁকি ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিব্বত ও নেপালে বন্যা, পাহাড়ধস এবং একাধিক ভূমিকম্পের ঘটনা ওই অঞ্চলের দুর্যোগ মোকাবিলা ও উদ্ধার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
























