ঢাকা ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রীর বাড়িতে হামলা-ভাংচুর আহত ১০ Logo টঙ্গীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য মিছিল ও সমাবেশ Logo কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের কাছে ‘মানবিক ডাক্তার হিসেবে পরিচিত ’ ডা. মালেকুল আফতাব ভূইয়া। Logo নজরুল বর্ষ উদযাপনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা Logo গাজীপুরে ১৬ বোতল বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার ১ Logo দিলজিতের কনসার্টে বোমা হামলার হুমকি Logo টি-২০ তে একাই ২৭৮! টানা আট ছক্কা! অবিশ্বাস্য রেকর্ড ১৭ বছরের তরুণের Logo কক্সবাজারে সাড়ে ২৭ লাখ টাকার নকল সিগারেট জব্দ Logo দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ফের আলোচনায় Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জেটরোর প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ফের আলোচনায়

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৪৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩০ বার পঠিত

জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যু ও দাফনকে কেন্দ্র করে আলোচনা চলছেই। সাঈদীর নিজ জেলা পিরোজপুরে মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান নিয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরোধিতার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী গত ২৪ অক্টোবর মারা যান। মৃত্যুর পর তার মরদেহ পিরোজপুরে নিয়ে আসা হলে দাফন ও রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।জামায়াতের কেউ জড়িত কি না, তদন্তে কমিটিমানিক পশারীর দাফন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানা খবর প্রকাশিত হয়েছে। দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে এ ধরনের অভিযোগের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন, সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও নূরুল ইসলাম বুলবুল। তিন দিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।সাঈদীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগে মামলা২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুর থানায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন মানিক পশারী। পরবর্তী সময়ে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে চলা বিচারিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়।সাঈদীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুরে হত্যা, হত্যায় সহযোগিতা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো অভিযোগ আনা হয়েছিল। এসব অভিযোগের বিচার হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিসা বালি হত্যাসহ একাধিক অভিযোগে সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের পর ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর ২০২৩ সালের আগস্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাঈদীর মৃত্যু হয়। তবে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বিচারপ্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা এখনও রয়েছে।যেভাবে রাজনীতিতে পরিচিতি পান সাঈদীদেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ১৯৪০ সালে তৎকালীন পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার সাঈদখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিকভাবে জানায় যায়, তিনি গ্রামের মক্তবে পড়াশোনা করেছিলেন। পরে শর্ষিনার পীর পরিচালিত আলিয়া মাদরাসা, বারুইপাড়া সিদ্দীকিয়া মাদরাসা ও খুলনা আলিয়া মাদরাসায় পড়াশোনা করেন।আশির দশকের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় সমাবেশ ও ওয়াজ মাহফিলে বক্তা হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করেন সাঈদী। সময়ের সঙ্গে তার মাহফিলে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। ধর্মীয় বক্তা হিসেবে পরিচিতি অর্জনের পাশাপাশি তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে সক্রিয় হন।১৯৯৬ ও ২০০১ সালে পরপর দুইবার সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলে জামায়াতের অন্য নেতাদের সঙ্গে সাঈদীর বিরুদ্ধেও বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়। ২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে করা একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আমলে নেন।এরপর ২০১৩ সালে ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং ২০১৪ সালে আপিল বিভাগের আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়। ২০২৩ সালে কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাঈদী মারা যান।মানিক পশারীর মৃত্যুর পর দাফন ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের মধ্য দিয়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ফের আলোচনায় এসেছেন।

ট্যাগস :

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ফের আলোচনায়

আপডেট সময় : ০২:৪৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যু ও দাফনকে কেন্দ্র করে আলোচনা চলছেই। সাঈদীর নিজ জেলা পিরোজপুরে মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান নিয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরোধিতার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী গত ২৪ অক্টোবর মারা যান। মৃত্যুর পর তার মরদেহ পিরোজপুরে নিয়ে আসা হলে দাফন ও রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।জামায়াতের কেউ জড়িত কি না, তদন্তে কমিটিমানিক পশারীর দাফন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানা খবর প্রকাশিত হয়েছে। দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে এ ধরনের অভিযোগের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন, সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও নূরুল ইসলাম বুলবুল। তিন দিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।সাঈদীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগে মামলা২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুর থানায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন মানিক পশারী। পরবর্তী সময়ে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে চলা বিচারিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়।সাঈদীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুরে হত্যা, হত্যায় সহযোগিতা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার মতো অভিযোগ আনা হয়েছিল। এসব অভিযোগের বিচার হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিসা বালি হত্যাসহ একাধিক অভিযোগে সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের পর ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর ২০২৩ সালের আগস্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাঈদীর মৃত্যু হয়। তবে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বিচারপ্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা এখনও রয়েছে।যেভাবে রাজনীতিতে পরিচিতি পান সাঈদীদেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ১৯৪০ সালে তৎকালীন পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার সাঈদখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিকভাবে জানায় যায়, তিনি গ্রামের মক্তবে পড়াশোনা করেছিলেন। পরে শর্ষিনার পীর পরিচালিত আলিয়া মাদরাসা, বারুইপাড়া সিদ্দীকিয়া মাদরাসা ও খুলনা আলিয়া মাদরাসায় পড়াশোনা করেন।আশির দশকের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় সমাবেশ ও ওয়াজ মাহফিলে বক্তা হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করেন সাঈদী। সময়ের সঙ্গে তার মাহফিলে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। ধর্মীয় বক্তা হিসেবে পরিচিতি অর্জনের পাশাপাশি তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে সক্রিয় হন।১৯৯৬ ও ২০০১ সালে পরপর দুইবার সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলে জামায়াতের অন্য নেতাদের সঙ্গে সাঈদীর বিরুদ্ধেও বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়। ২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে করা একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আমলে নেন।এরপর ২০১৩ সালে ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং ২০১৪ সালে আপিল বিভাগের আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়। ২০২৩ সালে কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাঈদী মারা যান।মানিক পশারীর মৃত্যুর পর দাফন ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের মধ্য দিয়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ফের আলোচনায় এসেছেন।