ঢাকা ০৯:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশ, বিশ্বকে প্রধানমন্ত্রীর ৫ বার্তা Logo ডিজিটাল ব্যাংক চালুর সম্মতি পেল বিকাশ, রবি ও বাংলালিংকসহ ৪ প্রতিষ্ঠান Logo বেহেশতের টিকিট বিক্রিকারীরা আবার ফ্যাসিস্টদের সাথে হাত মিলিয়েছে Logo ​কুমিল্লায় ব্র্যাকের কর্মশালা অনুষ্ঠিত-প্রবাসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে’ জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা। Logo ভ্যান ছিনতাই করতে চালককে হত্যা, মরদেহে ইট বেঁধে ফেলা হয় নদীতে Logo কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল ব্র্যাকের নারী কর্মীর Logo ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ১৩০ রোগী, মেঝে-বারান্দায় চিকিৎসা Logo নতুন প্রজন্মের জন্য নতুন Flagship: helio110 Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগুনে পুড়ে ছাই ১০ ঘর, নিঃস্ব ১৪ পরিবার Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার

ডিজিটাল ব্যাংক চালুর সম্মতি পেল বিকাশ, রবি ও বাংলালিংকসহ ৪ প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পঠিত

দেশে নতুন ধারার ব্যাংকিং সেবা চালু করতে বিকাশ, রবি ও বাংলালিংকসহ ৪টি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রাথমিক সম্মতি হিসেবে খুব শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠানকে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। পরবর্তী আইনি ও প্রযুক্তিগত ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই ব্যাংকগুলো পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নামতে পারবে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া ৪টি প্রতিষ্ঠান হলো— ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান, বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক ও বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক। প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটানের উদ্যোক্তা ভুটানের ডিকে ব্যাংক। বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংকের পেছনে রয়েছেন এমএফএস প্রতিষ্ঠান বিকাশের মূল শেয়ারধারীরা। যৌথ উদ্যোগ হিসেবে নোভা ডিজিটাল ব্যাংকের পেছনে রয়েছে বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ‘ভিওন’ ও দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী ‘স্কয়ার গ্রুপ’। আর বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছে মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটার মূল প্রতিষ্ঠান ‘আজিয়াটা লিমিটেড’। এর পাশাপাশি, আগে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া এসিআইয়ের ‘কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক’-কেও শর্ত পূরণ করতে নতুন করে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্ষদ। নতুন শর্ত অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংককে ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করতে হবে। অর্থাৎ উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের পুরো ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন হিসেবে জমা দিতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য পরিশোধিত মূলধনের শর্ত ছিল ১২৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া ডিজিটাল ব্যাংককে সরাসরি চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হবে না। প্রথমে ছয় মাস পরীক্ষামূলকভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এই সময়ে ব্যাংকের কার্যক্রম সন্তোষজনক ও সফল হলে পরবর্তী ধাপে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হবে। তবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে চূড়ান্ত লাইসেন্স নাও দেওয়া হতে পারে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করা হলে দেশের বিভিন্ন শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান, মোবাইল অপারেটর ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে মোট ১৩টি আবেদন জমা পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত এসব আবেদন গ্রহণ করে। তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন আহসান এইচ মনসুর। তবে নানা প্রশাসনিক জটিলতায় তখন আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে আর কোনো আবেদন না নিয়ে, আগের জমা পড়া আবেদনগুলো থেকেই যাচাই-বাছাই শেষে এই ৪টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

ট্যাগস :

ডিজিটাল ব্যাংক চালুর সম্মতি পেল বিকাশ, রবি ও বাংলালিংকসহ ৪ প্রতিষ্ঠান

আপডেট সময় : ০৭:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে নতুন ধারার ব্যাংকিং সেবা চালু করতে বিকাশ, রবি ও বাংলালিংকসহ ৪টি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রাথমিক সম্মতি হিসেবে খুব শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠানকে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। পরবর্তী আইনি ও প্রযুক্তিগত ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই ব্যাংকগুলো পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নামতে পারবে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া ৪টি প্রতিষ্ঠান হলো— ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান, বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক ও বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক। প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটানের উদ্যোক্তা ভুটানের ডিকে ব্যাংক। বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংকের পেছনে রয়েছেন এমএফএস প্রতিষ্ঠান বিকাশের মূল শেয়ারধারীরা। যৌথ উদ্যোগ হিসেবে নোভা ডিজিটাল ব্যাংকের পেছনে রয়েছে বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ‘ভিওন’ ও দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী ‘স্কয়ার গ্রুপ’। আর বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছে মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটার মূল প্রতিষ্ঠান ‘আজিয়াটা লিমিটেড’। এর পাশাপাশি, আগে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া এসিআইয়ের ‘কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক’-কেও শর্ত পূরণ করতে নতুন করে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্ষদ। নতুন শর্ত অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংককে ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করতে হবে। অর্থাৎ উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের পুরো ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন হিসেবে জমা দিতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য পরিশোধিত মূলধনের শর্ত ছিল ১২৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া ডিজিটাল ব্যাংককে সরাসরি চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হবে না। প্রথমে ছয় মাস পরীক্ষামূলকভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এই সময়ে ব্যাংকের কার্যক্রম সন্তোষজনক ও সফল হলে পরবর্তী ধাপে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হবে। তবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে চূড়ান্ত লাইসেন্স নাও দেওয়া হতে পারে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করা হলে দেশের বিভিন্ন শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান, মোবাইল অপারেটর ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে মোট ১৩টি আবেদন জমা পড়ে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত এসব আবেদন গ্রহণ করে। তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন আহসান এইচ মনসুর। তবে নানা প্রশাসনিক জটিলতায় তখন আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে আর কোনো আবেদন না নিয়ে, আগের জমা পড়া আবেদনগুলো থেকেই যাচাই-বাছাই শেষে এই ৪টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।