খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা, ট্রাম্প কি এতে সফল হতে পারবেন
- আপডেট সময় : ১২:৪৭:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ ৮২ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। মঙ্গলবার ।। ৩১ মার্চ ২০২৬ ।।
পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে অবস্থিত ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে প্রশ্ন উঠেছে—কেন এই পরিকল্পনা, কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হতে পারে এবং এতে কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে খারগ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির মূল কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। উপকূল থেকে কিছুটা দূরে গভীর পানিতে অবস্থিত হওয়ায় এখানে সহজেই ভিড়তে পারে ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) নামের বিশাল তেলবাহী জাহাজ, যেগুলো প্রতিটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন সম্ভব। ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে হয়ে থাকে। ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালে ইরাকি বিমান বাহিনী বারবার এই দ্বীপে হামলা চালায়। সম্প্রতি, চলতি বছরের ১৩ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রও খারগ দ্বীপে প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে, যদিও তেলের অবকাঠামোকে তখন লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র এই দ্বীপে সামরিক অভিযান চালায়, তবে সেটি সম্ভবত সাময়িক হবে। এর উদ্দেশ্য হতে পারে ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাহত করা এবং তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে এবং ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে নেয়। তবে ইরানের কঠোর অবস্থান এবং অতীতে আপস না করার নজির বিবেচনায় এই পরিকল্পনা সফল হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, কোনো মার্কিন বাহিনী সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। খারগ দ্বীপে ইরান ইতোমধ্যে তাদের প্রতিরক্ষা জোরদার করেছে, যার মধ্যে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দ্বৈত নীতির অভিযোগ তুলে ইরান বলেছে, একদিকে আলোচনা চালানোর কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে অঞ্চলে বিপুল সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার মার্কিন নৌসেনা এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় দুই হাজার প্যারাট্রুপার এই অঞ্চলে রয়েছে বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য অভিযানে এদের ব্যবহার করা হতে পারে। সামরিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, আকাশপথে আকস্মিক হামলার মাধ্যমে তুলনামূলক ছোট এই দ্বীপের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো দ্রুত দখল করা সম্ভব হতে পারে। তবে তার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হবে, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং মাইনসহ নানা প্রতিরোধের মুখে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। যদিও মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা শক্তিশালী, তবুও এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থেকে যায়। আর দখলের পর দ্বীপটি দীর্ঘসময় নিয়ন্ত্রণে রাখা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে, কারণ ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে অব্যাহত হামলার আশঙ্কা থাকবে।এই পরিস্থিতির সঙ্গে ইউক্রেনের স্নেক আইল্যান্ডের উদাহরণ টানা হচ্ছে, যেখানে রাশিয়া দখল নেওয়ার পরও ক্রমাগত হামলার মুখে শেষ পর্যন্ত সরে যেতে বাধ্য হয়। এছাড়া, ইরানের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন সামরিক উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও সমর্থন পাবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ট্রাম্পের অনেক সমর্থকই এমন যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধিতা করেন। এদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, খারগ দ্বীপ নিয়ে এত আলোচনা হয়তো একটি কৌশলগত বিভ্রান্তিও হতে পারে। কারণ পারস্য উপসাগরে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ রয়েছে, যেগুলোও সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে—যেমন লারাক, কেশম, আবু মুসা এবং গ্রেটার ও লেসার টাবস দ্বীপ। এই দ্বীপগুলো ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলোর মাধ্যমে তারা জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ সামরিক সুবিধা পেতে পারে। সবশেষে বলা হচ্ছে, পরিস্থিতি যেকোনো দিকে যেতে পারে। সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হলে সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসা সম্ভব হতে পারে। যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকলেও ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকের মতে, সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর দিকেও জোর দিচ্ছেন তিনি।














