এলসিভিয়ার জার্নালে বিশ্বসেরা গবেষকের তালিকায় জাবির ৭ শিক্ষক-শিক্ষার্থী
- আপডেট সময় : ০৩:১০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ অক্টোবর ২০২৩ ২০৭ বার পঠিত

জাবি প্রতিনিধি:
কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বিশ্বসেরা ২% গবেষকের তালিকায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৬ জন শিক্ষক ও ১জন শিক্ষার্থী স্থান পেয়েছেন।
গত ১ অক্টোবর আমেরিকার বিখ্যাত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির মেডিসিন বিভাগ, স্বাস্থ্য গবেষণা ও নীতি, বায়োমেডিকাল ডেটা সায়েন্স এবং পরিসংখ্যান, স্ট্যানফোর্ডের মেটা-রিসার্চ ইনোভেশন সেন্টার (এমইটিআরআইসিএস)-এর রিসার্চার জন পি.এ. ইয়োনিডিস গবেষণা প্রকাশনার উপর ভিত্তি করে এ তালিকা এলসিভিয়ার জার্নালে প্রকাশ করেন। এতে সারাবিশ্বের মোট ২ লাখ ১০ হাজার ১৯৯ জন গবেষক স্থান পেয়েছেন, যার মধ্যে ১৭৭ জন গবেষক বাংলাদেশি। এই র্যাংকিংয়ের স্কোপাস ইন্ডেক্সড আর্টিকেলকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে।
তালিকায় স্থান পাওয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হলেন: জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাঈদ আল-জামান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ. এ. মামুন, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান, বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক মো. ইব্রাহিম খলিল, ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলোজির অধ্যাপক এম শামীম কায়সার, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এনামুল হক এবং পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইমফোরমেটিক্স বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ এ. মামুন।
গবেষকদের প্রকাশনা, এইচ-ইনডেক্স, সাইটেশন ও অন্যান্য সূচকগুলো বিশ্লেষণ করে তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়। ওই প্রতিবেদনটি বিজ্ঞানীদের ২২টি বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্র এবং ১৭৪টি উপ-ক্ষেত্রে শ্রেণিবদ্ধ করে এ তালিকায় দুটি ধাপে সেরা গবেষক নির্ধারণ করা হয়। এর একটি হল পুরো পেশাগত জীবনের ওপর, আরেকটি শুধু এক বছরের গবেষণা কর্মের ওপর।
গবেষকদের মধ্যে থেকে অধ্যাপক এ এ মামুন, অধ্যাপক ইব্রাহিম খলিল ও মোহাম্মদ এ মামুন পুরো পেশাগত জীবনের গবেষণা উভয় ক্যাটাগরির তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
বার্ষিক মূল্যায়নে গবেষকদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সবার শীর্ষে রয়েছেন শিক্ষার্থী মোহাম্মদ এ মামুন, সার্বিক বৈশ্বিক তালিকায় তার অবস্থান ৮ হাজার ৫১০তম ও উপ-ক্ষেত্র সাইকিয়াট্রিতে অবস্থান ২১১তম। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ এ মামুন সার্বিক তালিকায় ১৯ হাজার ৬৩৫ তম ও তার উপ-ক্ষেত্র ফ্লুইড অ্যান্ড প্লাজমা ফিজিক্স এ অবস্থান ১২২তম।
সহযোগী অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান সার্বিকভাবে ৮৪ হাজার ১৬১তম ও উপ-ক্ষেত্র পরিবেশ বিজ্ঞানে ১ হাজার ৪১৫তম, সহকারী অধ্যাপক সাঈদ আল জামান সার্বিকভাবে ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৮৭৪তম ও উপ-ক্ষেত্র ইনফরমেশন অ্যান্ড লাইব্রেরি সায়েন্সে ৮৫তম, অধ্যাপক ইব্রাহিম খলিল সার্বিকভাবে ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ৬৫৪তম ও উপ-ক্ষেত্র কম্প্লিমেন্টারি অ্যান্ড অল্টারনেটিভ মেডিসিন এ ৪৯তম, অধ্যাপক এম কায়সার সার্বিকভাবে ১ লক্ষ ৫১ হাজার ৩৯৬তম ও উপ-ক্ষেত্র এআই অ্যান্ড ইমেজ প্রসেসিং এ ৪ হাজার ও অধ্যাপক এনামুল হক সার্বিকভাবে ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৭৩৫ তম ও উপ-ক্ষেত্র ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রিতে ১ হাজার ৬৬৪তম হয়েছেন।এছাড়া আজীবন গবেষণা মূল্যায়নে অধ্যাপক এ এ মামুন তার উপক্ষেত্রে ১০৯তম, অধ্যাপক ইব্রাহিম খলিল ৭৬তম ও মোহাম্মদ এ মামুন ১১৮তম হয়েছেন।
জাবির পাশাপাশি সেরা গবেষকদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ(আইসিডিডিআরবি) এর ১৪ জন। পাশাপাশি এই তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ জন,বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ১০ জন, নর্থ সাউথ ও ব্রাক ইউনিভার্সিটির ৫ এবং ৩ জন করে শিক্ষক রয়েছেন।
সেরা গবেষকদের তালিকায় নাম আসায় অনুভূতি ব্যক্ত করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ডিজিটাল মিডিয়া গবেষক সাঈদ আল-জামান বলেন, “যেকোনো ভালো অর্জনের অনুভূতিই দারুণ। তবে এটিকে আমি আমার একার অর্জন বলতে চাই না। বরং, এটিকে একটি দলগত কাজের অর্জন বলা যায়। আমার সেই দলটি হলো আমার বিভাগ। আশপাশ থেকে প্রতিনিয়ত নানাবিধ সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়া তো এসব করা আমার পক্ষে সম্ভব হতো বলে মনে হয় না।”
গবেষণার ধারা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলোজির অধ্যাপক শামীম কায়সার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গবেষণা ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। এ বছর আমরা প্রথমবারের মতো টাইমস হায়ার এডুকেশন র্যাঙ্কিংয়ে প্রবেশ করেছি। যেখানে গবেষণার অনেক অবদান রয়েছে। এটা আমাদের জন্য অনেক গর্বের। গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটা নির্দিষ্টসংখ্যক ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া আমরা নিজ উদ্যোগেও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি ভবিষ্যতে এ ধারা আরও অব্যাহত থাকবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ জন গবেষকের তালিকায় একমাত্র শিক্ষার্থী মোহাম্মদ এ মামুন। তরুণ এ গবেষক নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন,’আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম বছরেই থেকেই গবেষণার সাথে যুক্ত। দিন-রাত কাজ করেছি, প্যাশন হয়ে গেছে। প্রাতিষ্ঠানিক সাপোর্ট এবং ফান্ডিং ছাড়া কাজ করতে গিয়ে অনেক ক্লান্তি এসে যায়, কিন্তু কাজের স্বীকৃতি সেগুলো ভুলিয়ে দেয়, উদ্যম বাড়িয়ে দেয়। আরও ভালো লাগে, আমার কাজের মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরুল আলম তালিকায় স্থান পাওয়া সেরা গবেষকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্বসেরা ২% বিজ্ঞান গবেষকের তালিকায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষক এবং ১ জন শিক্ষার্থী স্থান লাভ করায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনন্দিত। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি ও সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি মনে করেন, এ স্বীকৃতি অর্জনে শিক্ষক ও গবেষকগণ অনুপ্রাণিত হবেন।






















