কুমিল্লায় ব্র্যাকের কর্মশালা অনুষ্ঠিত-প্রবাসে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে’ জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা।
- আপডেট সময় : ০৭:৫৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৪ বার পঠিত

আলমগীর হোসেন আলম, কুমিল্লা ব্যাুরো চিপ :
বিদেশ গমনের আগে নারীদের প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা ও নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বিদেশেও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে তাঁরা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা। ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকালে নগরীর একটি কনফারেন্স হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে ‘ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নি মাইগ্রেন্টস (প্রত্যাশা-২)’ প্রকল্পের অধীনে বিদেশফেরত নারী অভিবাসী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনের দক্ষতা উন্নয়ন উপলক্ষে জেলা পর্যায়ে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রোজী আকতার বলেন, ‘বিদেশে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে তাঁরা আমাদের অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। নারীদের উপার্জিত টাকায় যেন তাঁদের অধিকার থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।’ নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাক দেশে বিদেশফেরতদের পুনরেকত্রীকরণে যে কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করছে, তার বিস্তৃতি বিদেশেও নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. জাকিয়া বেগম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে যেসব নারী অভিবাসী শ্রমিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন, তাঁরা অনেক সময় পুরুষের তুলনায় বেশি নির্যাতন ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার হন। এই বৈষম্য দূর করতে সরকারের পাশাপাশি দাতা সংস্থা ও ব্র্যাকের মতো উন্নয়ন সংস্থাসহ সবাইকে পাশে থাকার আহ্বান জানান । একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি জোর দেন। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের ডিস্ট্রক্ট কো অর্ডিনেটর জিয়া উদ্দিন আহম্মদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ডেপুটি ম্যানেজার তানজিনা সুলতানা সেঁজুতি এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এমআরএসসি কুমিল্লার কো-অর্ডিনেটর মো. তানভীর হাসান। তানজিনা সুলতানা প্রত্যাশা-২ প্রকল্পের লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, বিদেশফেরত বাংলাদেশিরা যেন দেশে আসার পর সামাজিক, মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, সে লক্ষ্যে ব্র্যাক দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছে। বিশেষ করে এই কার্যক্রমে শুরু থেকেই নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সভায় অন্যান্য বক্তারা অভিবাসন পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কিত বিষয়গুলো পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) প্রতিনিধি কমল চন্দ্র দাস পরামর্শ দিয়ে বলেন, বিদেশফেরত মানুষ যেন প্রয়োজনে সহজেই সহায়তা পেতে পারেন, সে জন্য দেশের জরুরি নম্বরগুলো পাসপোর্টের শেষ পৃষ্ঠায় যুক্ত করা উচিত। এ ছাড়া বিসিকের প্রতিনিধি বিদেশগামী ও ফেরত নারীদের জন্য আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানোর ওপর জোর দেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার রাফিদ খান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সামসুল আলম, অতিরিক্ত উপপরিচালক জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস শেখ আজিজুর রহমান, ব্র্যাক ব্যাংক ক্লাস্টার ম্যানেজার মোঃ জহিরুল হক খান, সহকারী পরিচালক সমাজসেবা অধিদপ্তর তারিক সালমান, জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী,ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার গ্রাম আদালত মোঃ ইকবাল হোসেন,ব্লাস্ট কো অর্ডনেটর এডভোকেট মোঃ ছানাউল্লাহসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, উইমেন ফোরামের সদস্য এবং বিদেশফেরত নারী অভিবাসীরা। সভায় বক্তারা অভিবাসন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং অভিবাসীদের কল্যাণে ব্র্যাকের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। উল্লেখ্য, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ২০০৬ সাল থেকে দেশের অভিবাসনপ্রবণ জেলাগুলোতে নিরাপদ অভিবাসন, বিদেশফেরতদের পুনরেকত্রীকরণ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অভিবাসন খাতে অ্যাডভোকেসিসহ নানাবিধ সহযোগিতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।












