ঢাকা ০২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জবিতে ২০ শিক্ষার্থীর চলচ্চিত্র প্রদর্শন, অনুষ্ঠিত হলো ‘৩৫ মিলিমিটার-২০২৬’ উৎসব Logo ঢাকাতেও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব থাকবে, জানাল সরকার Logo বিগ ব্যাশে খেলতে নিউজিল্যান্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি ছাড়লেন মার্ক চ্যাপম্যান Logo রাশিয়ায় ভয়াবহ তুষারধস, প্রাণ গেল ১১ পর্বতারোহীর Logo ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী বদলাচ্ছে এনসিপি, উত্তরে আসিফ ও দক্ষিণে পাটওয়ারী Logo পাঠশালার সাথে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেনো১৫ সিরিজ প্রেজেন্টস ফটোগ্রাফি কনটেস্টের বিজয়ী ঘোষণা করলো অপো Logo জিডিপির ৩ শতাংশে সৃজনশীল অর্থনীতি নিতে চায় সরকার Logo নতুন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব খুলনা-বরিশালে Logo শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে আবারও ‘রান কম’ অজুহাত সোবহানার Logo ভেনিস থেকে বাঁধনের বার্তা—‘ছবির মতো সুন্দর নয় জীবন’

ঢাকাতেও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব থাকবে, জানাল সরকার

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:০৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১ বার পঠিত

রাজধানী ঢাকাকে পুরোপুরি লোডশেডিংয়ের বাইরে রাখার নীতি থেকে সরকার ধীরে ধীরে সরে আসছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তার মতে, দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজধানীতেও সীমিত পরিসরে লোডশেডিং মেনে নিতে হবে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। গ্যাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়বে এবং তখন বর্তমানের মতো লোডশেডিংয়ের চাপ থাকবে না বলে আশা করছে সরকার।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে লোডশেডিং হতো। তবে রাজধানী ঢাকাকে প্রায় পুরোপুরি এর বাইরে রাখা হয়েছিল। এর পেছনে ঢাকার মানুষের তুলনামূলক বেশি প্রভাব ও সামাজিক পুঁজির বিষয়টি কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ফলে রাজধানীর বাসিন্দাদের মধ্যে লোডশেডিং নিয়ে এক ধরনের ভিন্ন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির তুলনা করতে গিয়ে ২০২৩ ও ২০২৬ সালের জুন, জুলাই ও আগস্টের গড় লোডশেডিংয়ের তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি জানান, শেখ হাসিনার সরকারের শেষ পূর্ণ বছর হিসেবে ২০২৩ সালকে বিবেচনা করে ওই সময়ের সঙ্গে চলতি বছরের তথ্য তুলনা করা হয়েছে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুনে দেশে দৈনিক গড়ে ৯৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল। চলতি বছরের একই মাসে সেই গড় কমে ৭৪১ মেগাওয়াটে নেমেছে। জুলাইয়েও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে গড়ে ৬১৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং হলেও ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তা ছিল ৪৬০ মেগাওয়াট।

তবে আগস্টে পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি হয়েছে বলে জানান তিনি। ২০২৩ সালের আগস্টে দৈনিক গড় লোডশেডিং ছিল ৩৬০ মেগাওয়াট। বিপরীতে ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে ১ হাজার ৫৬৫ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।

আগস্টে লোডশেডিং হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পেছনে যে বিশেষ সংকট তৈরি হয়েছিল, সেটির কথা উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ওই মাসের পরিস্থিতি অন্য দুই মাসের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। তবে জুন ও জুলাইয়ের হিসাব বিবেচনায় নিলে চলতি বছরে গড় লোডশেডিং ২০২৩ সালের তুলনায় কম ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে। তখন বর্তমানে যে মাত্রায় সংকট দেখা যাচ্ছে, সেটি আর থাকবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে।

রাজধানীতে লোডশেডিং প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, দেশের অন্যান্য এলাকার মতো ঢাকাকেও কিছুটা বিদ্যুৎ সংকটের বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। তবে ঢাকা দেশের সবচেয়ে বড় নগরী এবং এখানে শিল্প-বাণিজ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহে রাজধানী কিছুটা অগ্রাধিকার পেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকাকে একেবারে লোডশেডিংমুক্ত রাখব’—এমন নীতি থেকে সরকার সরে আসছে। আর সেই পরিবর্তিত অবস্থানের কারণেই বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিছুটা লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে।

ট্যাগস :

ঢাকাতেও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব থাকবে, জানাল সরকার

আপডেট সময় : ০১:০৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানী ঢাকাকে পুরোপুরি লোডশেডিংয়ের বাইরে রাখার নীতি থেকে সরকার ধীরে ধীরে সরে আসছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তার মতে, দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজধানীতেও সীমিত পরিসরে লোডশেডিং মেনে নিতে হবে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। গ্যাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়বে এবং তখন বর্তমানের মতো লোডশেডিংয়ের চাপ থাকবে না বলে আশা করছে সরকার।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে লোডশেডিং হতো। তবে রাজধানী ঢাকাকে প্রায় পুরোপুরি এর বাইরে রাখা হয়েছিল। এর পেছনে ঢাকার মানুষের তুলনামূলক বেশি প্রভাব ও সামাজিক পুঁজির বিষয়টি কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ফলে রাজধানীর বাসিন্দাদের মধ্যে লোডশেডিং নিয়ে এক ধরনের ভিন্ন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির তুলনা করতে গিয়ে ২০২৩ ও ২০২৬ সালের জুন, জুলাই ও আগস্টের গড় লোডশেডিংয়ের তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি জানান, শেখ হাসিনার সরকারের শেষ পূর্ণ বছর হিসেবে ২০২৩ সালকে বিবেচনা করে ওই সময়ের সঙ্গে চলতি বছরের তথ্য তুলনা করা হয়েছে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুনে দেশে দৈনিক গড়ে ৯৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল। চলতি বছরের একই মাসে সেই গড় কমে ৭৪১ মেগাওয়াটে নেমেছে। জুলাইয়েও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে গড়ে ৬১৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং হলেও ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তা ছিল ৪৬০ মেগাওয়াট।

তবে আগস্টে পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি হয়েছে বলে জানান তিনি। ২০২৩ সালের আগস্টে দৈনিক গড় লোডশেডিং ছিল ৩৬০ মেগাওয়াট। বিপরীতে ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে ১ হাজার ৫৬৫ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।

আগস্টে লোডশেডিং হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পেছনে যে বিশেষ সংকট তৈরি হয়েছিল, সেটির কথা উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ওই মাসের পরিস্থিতি অন্য দুই মাসের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। তবে জুন ও জুলাইয়ের হিসাব বিবেচনায় নিলে চলতি বছরে গড় লোডশেডিং ২০২৩ সালের তুলনায় কম ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে। তখন বর্তমানে যে মাত্রায় সংকট দেখা যাচ্ছে, সেটি আর থাকবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে।

রাজধানীতে লোডশেডিং প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, দেশের অন্যান্য এলাকার মতো ঢাকাকেও কিছুটা বিদ্যুৎ সংকটের বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। তবে ঢাকা দেশের সবচেয়ে বড় নগরী এবং এখানে শিল্প-বাণিজ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহে রাজধানী কিছুটা অগ্রাধিকার পেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকাকে একেবারে লোডশেডিংমুক্ত রাখব’—এমন নীতি থেকে সরকার সরে আসছে। আর সেই পরিবর্তিত অবস্থানের কারণেই বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিছুটা লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে।