ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরী Logo নেই উৎসবের আমেজ, ভোগান্তি নিয়ে শুরু হচ্ছে সাফ Logo মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে Logo এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি Logo গাজীপুরে সকালে মহাসড়কে সংঘর্ষ-বিক্ষোভ, বিকেলে স্বাভাবিক; ৩৫ কারখানায় ছুটি Logo গাজীপুরে একজনকে আটকের পর আরেক অভিযান, ২৪৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ Logo বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের DFO আমিনুলের বিরুদ্ধে ১৬ দফা অনিয়মের অভিযোগ, অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবি Logo দেশে অনার ৬০০এসের বিক্রি শুরু, পাওয়া যাবে ড্যাজলে Logo নওগাঁয় জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ, রাজস্ব হারানোর শঙ্কা ১০ কোটি টাকা Logo নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে: বিসিবির আইনজীবী

বিশ্বে বাড়ছে চীনের গ্রহণযোগ্যতা, কমছে যুক্তরাষ্ট্রের : প্রভাব পিউ জরিপ

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ১৩৮ বার পঠিত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রতি ইতিবাচক জনমত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক বৈশ্বিক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ২০০২ সালে এই জরিপ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম এত বেশি দেশে চীনের প্রতি জনসমর্থন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত বিবিসির এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ৩৬টি দেশের ৪২ হাজারেরও বেশি মানুষের মতামতের ভিত্তিতে জরিপটি পরিচালিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের কাছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে তাদের ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক ধারণা জানতে চাওয়া হয়।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ৩৬টি দেশের মধ্যে ২৫টিতেই চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি দেখা গেছে। স্পেন, ইতালি, গ্রিস, কানাডা ও ইন্দোনেশিয়ায় চীনের ভাবমূর্তি সবচেয়ে বেশি উন্নত হয়েছে। অন্যদিকে পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান এবং ইসরায়েলে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষক জোনাথন শুলম্যান বলেন, অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তায় ওঠানামা হয়েছে। তবে আগে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কমলেও চীন সাধারণত সমান বা কিছুটা নিচে অবস্থান করত। এবার প্রথমবারের মতো এত বিস্তৃত পরিসরে চীনের পক্ষে জনমত এগিয়ে রয়েছে।

জরিপে আরও দেখা যায়, ইতালি, স্পেন, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্কে চীনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে চীনের প্রতি সমর্থন তুলনামূলক বেশি হলেও উচ্চ আয়ের অনেক দেশে দেশটির ভাবমূর্তি এখনো ততটা শক্তিশালী নয়। তবে উচ্চ আয়ের দেশ হওয়া সত্ত্বেও সিঙ্গাপুর এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হিসেবে উঠে এসেছে।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেশভেদে মতামতের পার্থক্য সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। পাকিস্তানে প্রায় ৯০ শতাংশ উত্তরদাতা চীনের প্রতি ইতিবাচক মত দিয়েছেন। বিপরীতে জাপানে এই হার মাত্র ১১ শতাংশ।

বিশ্বনেতাদের প্রতি আস্থার বিষয়েও জরিপে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি মানুষের আস্থা পরিমাপ করা হয়। সামগ্রিকভাবে উভয় নেতার প্রতিই আস্থার হার খুব বেশি নয়। তবে অধিকাংশ দেশে শি জিনপিং ট্রাম্পের তুলনায় বেশি সমর্থন পেয়েছেন।

শি জিনপিংয়ের প্রতি সর্বোচ্চ ৮৩ শতাংশ আস্থা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের উত্তরদাতারা। বিপরীতে জাপানে তার প্রতি আস্থা মাত্র ৭ শতাংশ। অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রতি সর্বোচ্চ ৬৮ শতাংশ আস্থা দেখা গেছে ফিলিপাইনে, আর সর্বনিম্ন ৪ শতাংশ পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এখনো অনেক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের তুলনায় এগিয়ে মনে করেন। তবে আগের তুলনায় এই ব্যবধান কমে এসেছে। পাশাপাশি মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ৭৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করে। চীনের ক্ষেত্রে একই মত প্রকাশ করেছেন ৪৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির অনিশ্চয়তা, সামরিক সম্পৃক্ততা এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক দেশ বিকল্প বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে চীনের দিকে বেশি ঝুঁকছে। তবে একই সঙ্গে মানবাধিকার পরিস্থিতি, সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণ এবং শি জিনপিংয়ের নেতৃত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগও বিদ্যমান। ফলে চীনের প্রতি ইতিবাচক জনমত বাড়লেও দেশটির নেতৃত্বের প্রতি আস্থা এখনো তুলনামূলকভাবে সীমিত।

ট্যাগস :

বিশ্বে বাড়ছে চীনের গ্রহণযোগ্যতা, কমছে যুক্তরাষ্ট্রের : প্রভাব পিউ জরিপ

আপডেট সময় : ০৪:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের প্রতি ইতিবাচক জনমত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক বৈশ্বিক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ২০০২ সালে এই জরিপ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম এত বেশি দেশে চীনের প্রতি জনসমর্থন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত বিবিসির এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ৩৬টি দেশের ৪২ হাজারেরও বেশি মানুষের মতামতের ভিত্তিতে জরিপটি পরিচালিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের কাছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে তাদের ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক ধারণা জানতে চাওয়া হয়।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ৩৬টি দেশের মধ্যে ২৫টিতেই চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি দেখা গেছে। স্পেন, ইতালি, গ্রিস, কানাডা ও ইন্দোনেশিয়ায় চীনের ভাবমূর্তি সবচেয়ে বেশি উন্নত হয়েছে। অন্যদিকে পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান এবং ইসরায়েলে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষক জোনাথন শুলম্যান বলেন, অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তায় ওঠানামা হয়েছে। তবে আগে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কমলেও চীন সাধারণত সমান বা কিছুটা নিচে অবস্থান করত। এবার প্রথমবারের মতো এত বিস্তৃত পরিসরে চীনের পক্ষে জনমত এগিয়ে রয়েছে।

জরিপে আরও দেখা যায়, ইতালি, স্পেন, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্কে চীনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে চীনের প্রতি সমর্থন তুলনামূলক বেশি হলেও উচ্চ আয়ের অনেক দেশে দেশটির ভাবমূর্তি এখনো ততটা শক্তিশালী নয়। তবে উচ্চ আয়ের দেশ হওয়া সত্ত্বেও সিঙ্গাপুর এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হিসেবে উঠে এসেছে।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেশভেদে মতামতের পার্থক্য সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। পাকিস্তানে প্রায় ৯০ শতাংশ উত্তরদাতা চীনের প্রতি ইতিবাচক মত দিয়েছেন। বিপরীতে জাপানে এই হার মাত্র ১১ শতাংশ।

বিশ্বনেতাদের প্রতি আস্থার বিষয়েও জরিপে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি মানুষের আস্থা পরিমাপ করা হয়। সামগ্রিকভাবে উভয় নেতার প্রতিই আস্থার হার খুব বেশি নয়। তবে অধিকাংশ দেশে শি জিনপিং ট্রাম্পের তুলনায় বেশি সমর্থন পেয়েছেন।

শি জিনপিংয়ের প্রতি সর্বোচ্চ ৮৩ শতাংশ আস্থা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের উত্তরদাতারা। বিপরীতে জাপানে তার প্রতি আস্থা মাত্র ৭ শতাংশ। অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রতি সর্বোচ্চ ৬৮ শতাংশ আস্থা দেখা গেছে ফিলিপাইনে, আর সর্বনিম্ন ৪ শতাংশ পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে।

জরিপে আরও উঠে এসেছে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এখনো অনেক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের তুলনায় এগিয়ে মনে করেন। তবে আগের তুলনায় এই ব্যবধান কমে এসেছে। পাশাপাশি মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ৭৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করে। চীনের ক্ষেত্রে একই মত প্রকাশ করেছেন ৪৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির অনিশ্চয়তা, সামরিক সম্পৃক্ততা এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক দেশ বিকল্প বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে চীনের দিকে বেশি ঝুঁকছে। তবে একই সঙ্গে মানবাধিকার পরিস্থিতি, সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণ এবং শি জিনপিংয়ের নেতৃত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগও বিদ্যমান। ফলে চীনের প্রতি ইতিবাচক জনমত বাড়লেও দেশটির নেতৃত্বের প্রতি আস্থা এখনো তুলনামূলকভাবে সীমিত।