ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ৯ম ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ডে স্বীকৃতি পেল ৮৯টি ক্যাম্পেইন Logo মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী Logo ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, চাপে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা Logo হেলিও স্মার্টফোনের নতুন সেনসেশন, হেলিও ৪৬ Logo গাজীপুরে জিয়াউর রহমান গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন Logo গাজীপুরে বহুতল ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধায় বিদায় নিলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশিদ Logo সাবেক এমপি হারুন আল রশিদের মৃত্যুতে সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শোক  Logo বেনজীরকে ফেরাতে সব নথি পাঠানো হয়েছে, দ্রুত প্রত্যর্পণের আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর Logo একটি কোম্পানির মাধ্যমে সকল রুটে গণপরিবহন পরিচালনা করা হবে : সড়ক পরিবহন মন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর ৭৭-এ পদার্পণ

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:৫০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৮৪ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ৭৭ বছরে পদার্পণ করছেন। স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতি নদীর তীরে টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দেশের দীর্ঘ সময়ের প্রধানমন্ত্রী। টানা তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরবও রয়েছে তার। দেশের অন্যতম প্রাচীন দল আওয়ামী লীগ ১৯৮১ সাল থেকে নেতৃত্বে রয়েছে। ৭৬ বছরের জীবনে তিনি বহু সংকট ও উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছেন। দেখেছেন সাফল্যের চূড়া। তার রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং দেশ পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তার শৈশব কেটেছে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ পরিবেশে, দাদা-দাদির কোলে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের পর শেখ হাসিনা তার বাবা-মায়ের সাথে ঢাকায় চলে আসেন। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আজ শুধু একজন জাতীয় নেতা নন, তিনি আজ তৃতীয় বিশ্বের একজন বিজ্ঞ বিশ্বনেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তার সংগ্রামী জীবনে ১৯ বার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তাকে ১০ বার জেল-গৃহবন্দি থাকতে হয়েছে। মৃত্যুভয়কে পাত্তা না দিয়ে দেশের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনেক বড় অর্জন করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর, ভাষণের পদাঙ্ক অনুসরণ করে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২ সেপ্টেম্বর ইউএনজিএ অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশন এবং অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব ও দ্বিপক্ষীয় অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে শনিবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছান। এবারও তার জন্মদিন কাটছে ওয়াশিংটনে। তবে তার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশে দিনটিতে উৎসবমুখর পরিবেশে নানা কর্মসূচি উদযাপন করবে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

শেখ হাসিনার জন্য রাজনীতি নতুন কিছু নয়, এটা জন্মগত অধিকার। ছোটবেলা থেকেই তিনি তার পিতা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক-সংগ্রামী জীবন দেখেছেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন এবং কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভানেত্রীও নির্বাচিত হয়েছেন। এই ছিয়াত্তরের অর্ধেকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নৌকা প্রতীকের নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি চার মেয়াদে সরকার প্রধান হিসেবে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি, একাত্তরের খুনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধার, ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সাগরে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মিয়ানমার ও ব্লু ইকোনমির নতুন দিগন্ত উন্মোচন, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ও ছিটমহল বিনিময়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ বিজয়,সাবমেরিন যুগে বাংলাদেশের প্রবেশ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন নতুন উড়াল সেতু, মহাসড়কগুলো ফোর লেনে উন্নীত করা, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, ভূমি-গৃহহীনদের বিনা মূল্যে ঘর প্রদান, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর হাতে বিনা মূল্যে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া, মাদ্রাসাশিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা ও স্বীকৃতিদান, মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, নারীনীতি প্রণয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণসহ অসংখ্য ক্ষেত্রে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এর ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বসভায় নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে সক্ষম রাষ্ট্রের মূর্ত প্রতীক হিসেবে। শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক উন্নত দেশে পরিণত করার প্রত্যয় নিয়ে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ‘রূপকল্প-২০৪১’ ঘোষণা করেছেন এবং তার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আওয়ামী লীগ বলেছে, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নবপর্যায়ের বাংলাদেশের ইতিহাসের নির্মাতা। হিমাদ্রী শিখর সফলতার মূর্ত স্মারক, উন্নয়নের কান্ডারি। উন্নত সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার। বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার একান্ত বিশ্বস্ত ঠিকানা, বাঙালির বিশ্বজয়ের স্বপ্ন-সারথি। বিশ্বরাজনীতির উজ্জ্বলতম প্রভা, বিশ্ব পরিমণ্ডলে অনগ্রসর জাতি-দেশ-জনগোষ্ঠীর মুখপাত্র, বিশ্বনন্দিত নেতা। বারবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা ‘নীলকণ্ঠ পাখি’, মৃত্যুঞ্জয়ী মুক্তমানবী। তিমির হননের অভিযাত্রী, মাদার অব হিউম্যানিটি। আত্মশক্তিসমৃদ্ধ সত্য সাধক। প্রগতি, উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির সুনির্মল মোহনা। এক কথায় বলতে গেলে, সমুদ্র সমান অর্জনে সমৃদ্ধ শেখ হাসিনার কর্মময় জীবন। নিখাদ দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা, দৃঢ় মানসিকতা ও মানবিক গুণাবলি তাকে আসীন করেছে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে। তিনিই বাঙালির জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং বাঙালি জাতির সব আশা-ভরসার নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

এক বর্ণিল সংগ্রামের জীবন শেখ হাসিনার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেটে সপরিবারে নিহত হন বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে থাকায় আল্লাহর রহমতে বেঁচে যান। ১৯৮১ সালের ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জাতির সংকটময় মুহূর্তে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তিনি দলীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। ডাক আসে দেশমাতৃকার হাল ধরার। সামরিক শাসকদের রক্তপাত ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন। কারাবাস, অত্যাচার, কোনো কিছুই তাকে তার পথ থেকে এক বিন্দুও টলাতে পারেনি।

প্রধানমন্ত্রীর ৭৭-এ পদার্পণ

আপডেট সময় : ০১:৫০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিনিধি:

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ৭৭ বছরে পদার্পণ করছেন। স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতি নদীর তীরে টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দেশের দীর্ঘ সময়ের প্রধানমন্ত্রী। টানা তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরবও রয়েছে তার। দেশের অন্যতম প্রাচীন দল আওয়ামী লীগ ১৯৮১ সাল থেকে নেতৃত্বে রয়েছে। ৭৬ বছরের জীবনে তিনি বহু সংকট ও উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছেন। দেখেছেন সাফল্যের চূড়া। তার রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং দেশ পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তার শৈশব কেটেছে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ পরিবেশে, দাদা-দাদির কোলে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের পর শেখ হাসিনা তার বাবা-মায়ের সাথে ঢাকায় চলে আসেন। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আজ শুধু একজন জাতীয় নেতা নন, তিনি আজ তৃতীয় বিশ্বের একজন বিজ্ঞ বিশ্বনেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তার সংগ্রামী জীবনে ১৯ বার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তাকে ১০ বার জেল-গৃহবন্দি থাকতে হয়েছে। মৃত্যুভয়কে পাত্তা না দিয়ে দেশের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনেক বড় অর্জন করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর, ভাষণের পদাঙ্ক অনুসরণ করে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২ সেপ্টেম্বর ইউএনজিএ অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশন এবং অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব ও দ্বিপক্ষীয় অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে শনিবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছান। এবারও তার জন্মদিন কাটছে ওয়াশিংটনে। তবে তার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশে দিনটিতে উৎসবমুখর পরিবেশে নানা কর্মসূচি উদযাপন করবে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

শেখ হাসিনার জন্য রাজনীতি নতুন কিছু নয়, এটা জন্মগত অধিকার। ছোটবেলা থেকেই তিনি তার পিতা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক-সংগ্রামী জীবন দেখেছেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন এবং কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভানেত্রীও নির্বাচিত হয়েছেন। এই ছিয়াত্তরের অর্ধেকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নৌকা প্রতীকের নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি চার মেয়াদে সরকার প্রধান হিসেবে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি, একাত্তরের খুনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধার, ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সাগরে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মিয়ানমার ও ব্লু ইকোনমির নতুন দিগন্ত উন্মোচন, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ও ছিটমহল বিনিময়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ বিজয়,সাবমেরিন যুগে বাংলাদেশের প্রবেশ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন নতুন উড়াল সেতু, মহাসড়কগুলো ফোর লেনে উন্নীত করা, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, ভূমি-গৃহহীনদের বিনা মূল্যে ঘর প্রদান, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর হাতে বিনা মূল্যে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া, মাদ্রাসাশিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা ও স্বীকৃতিদান, মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, নারীনীতি প্রণয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণসহ অসংখ্য ক্ষেত্রে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এর ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বসভায় নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে সক্ষম রাষ্ট্রের মূর্ত প্রতীক হিসেবে। শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক উন্নত দেশে পরিণত করার প্রত্যয় নিয়ে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ‘রূপকল্প-২০৪১’ ঘোষণা করেছেন এবং তার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আওয়ামী লীগ বলেছে, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নবপর্যায়ের বাংলাদেশের ইতিহাসের নির্মাতা। হিমাদ্রী শিখর সফলতার মূর্ত স্মারক, উন্নয়নের কান্ডারি। উন্নত সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার। বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার একান্ত বিশ্বস্ত ঠিকানা, বাঙালির বিশ্বজয়ের স্বপ্ন-সারথি। বিশ্বরাজনীতির উজ্জ্বলতম প্রভা, বিশ্ব পরিমণ্ডলে অনগ্রসর জাতি-দেশ-জনগোষ্ঠীর মুখপাত্র, বিশ্বনন্দিত নেতা। বারবার মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা ‘নীলকণ্ঠ পাখি’, মৃত্যুঞ্জয়ী মুক্তমানবী। তিমির হননের অভিযাত্রী, মাদার অব হিউম্যানিটি। আত্মশক্তিসমৃদ্ধ সত্য সাধক। প্রগতি, উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির সুনির্মল মোহনা। এক কথায় বলতে গেলে, সমুদ্র সমান অর্জনে সমৃদ্ধ শেখ হাসিনার কর্মময় জীবন। নিখাদ দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা, দৃঢ় মানসিকতা ও মানবিক গুণাবলি তাকে আসীন করেছে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে। তিনিই বাঙালির জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং বাঙালি জাতির সব আশা-ভরসার নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

এক বর্ণিল সংগ্রামের জীবন শেখ হাসিনার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেটে সপরিবারে নিহত হন বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে থাকায় আল্লাহর রহমতে বেঁচে যান। ১৯৮১ সালের ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জাতির সংকটময় মুহূর্তে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তিনি দলীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। ডাক আসে দেশমাতৃকার হাল ধরার। সামরিক শাসকদের রক্তপাত ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন। কারাবাস, অত্যাচার, কোনো কিছুই তাকে তার পথ থেকে এক বিন্দুও টলাতে পারেনি।