মৌলভীবাজারে পলিথিন প্লাস্টিক ও বর্জ্য কিনবে পৌরসভা
- আপডেট সময় : ০৮:০৭:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জুন ২০২৩ ১৩৪ বার পঠিত

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
বর্তমান সময়ে পরিবেশ বিনষ্টকারী পলিথিন ও প্লাস্টিক সহজে পঁচে না এবং মাটির গুণাগুণ নষ্ট করে। আগুনে পোড়ালে কার্বন তৈরি হয় যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পরিত্যক্ত পলিথিন অপরিচ্ছন্ন করে রাস্তাঘাটসহ বাসাবাড়ির আঙিনাকে। আর এই পরিত্যক্ত পলিথিন ও প্লাস্টিক কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে মৌলভীবাজার পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, শহরকে দূষণমুক্ত করে পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে ও পানি নিষ্কাশনে ড্রেনেজ ব্যবস্থায় বাঁধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য পৌর নাগরিকরা উন্মুক্ত স্থানে ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক-পিলিথিন ফেলতে পারবেনা। পৌরসভা প্লাস্টিক ও পলিথিন কিনে নিয়ে সেটা ডাম্পিং স্টেশনে পুনপ্রক্রিয়া করবে। এছাড়া পচনশীল বর্জ্য দিয়ে জৈবসার তৈরি করা হবে। বায়োগ্যাস তৈরি করা হবে। এজন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।
জানা গেছে, আগামী মাসের প্রতি সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার এই দু’দিন বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পরিত্যক্ত পলিথিন ও প্লাস্টিক কিনবে পৌর কর্তৃপক্ষ।
পৌর মেয়র মো. ফজলুর রহমান বলেন, মৌলভীবাজার পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করতে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য বাসা বাড়িতেই পৃথকীকরণ করা হবে। অর্থাৎ পচনশীল বর্জ্য থাকবে একটা বিনে। অপচনশীল বর্জ্য থাকবে অপর বিনে। পৌরসভা থেকে ইতোমধ্যে ময়লা রাখার বিন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপচনশীল বর্জ্য রাখার জন্য আরেকটি বিন দেওয়ার কার্যক্রম রীতিমত চলছে।
মেয়র আরও জানান, পৌর নাগরিকেরা যেন পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য বাসা বাড়িতেই পৃথকীকরণ করেন। সেজন্য আমরা সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করেছি। লিফলেট বিতরণসহ পৌর নাগরিকদের নিয়ে বেশ কয়েকটি উঠান বৈঠক করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জাতীয় পরিষদ সদস্য আসম সালেহ সোহেল বলেন, মৌলভীবাজার পৌরসভার পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক পলিথিন কিনে নেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা খুবই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। আমরা পরিবেশ কর্মীরা পৌর মেয়রের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। পলিথিন ও প্লাস্টিক পঁচে না। ফলে মাটির উর্বরতা কমায়, ড্রেনেজ ব্যবস্থায় বাধাগ্রস্ত করে। ফলে শহরের পানি নিষ্কাশনসহ পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়। আমরা চাই দেশের প্রতিটা পৌরসভায় এই উদ্যোগ গ্রহন করা হোক। এতে করে পরিবেশ খানিকটা হলেও স্বস্তিতে ফিরবে।




















