ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ পরী Logo নেই উৎসবের আমেজ, ভোগান্তি নিয়ে শুরু হচ্ছে সাফ Logo মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে Logo এআই যেন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি Logo গাজীপুরে সকালে মহাসড়কে সংঘর্ষ-বিক্ষোভ, বিকেলে স্বাভাবিক; ৩৫ কারখানায় ছুটি Logo গাজীপুরে একজনকে আটকের পর আরেক অভিযান, ২৪৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ Logo দেশে অনার ৬০০এসের বিক্রি শুরু, পাওয়া যাবে ড্যাজলে Logo নওগাঁয় জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ, রাজস্ব হারানোর শঙ্কা ১০ কোটি টাকা Logo নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে: বিসিবির আইনজীবী Logo মিশিগানে ইতিহাস গড়ে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল আল–সাইদ

ব্যাংক সিস্টেমের বাইরে ৩ লাখ কোটি টাকা, বললেন মাসরুর আরেফিন

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:১৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৪৫ বার পঠিত

বাংলাদেশ কণ্ঠ।। বুধবার।। ২১.০১.২০২৬

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) এর চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন মঙ্গলবার এক সেমিনারে উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা নগদ অর্থ বা ‘ম্যাট্রেস মানি’ বর্তমানে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা।

এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, “বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে যে খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি বিদ্যমান, তা শুধু একটি সাধারণ এনপিএল সংকট নয়। এটি অনেক দিনের আড়াল করা বাস্তবতার ফলাফল।” মাসরুর আরেফিন আরও জানান, দেশে খেলাপি ঋণের প্রকৃত হার আগে ৩৫ শতাংশ ছিল, যদিও সরকারি তথ্য বলেছিল ৯ শতাংশ। তবে এখন এই বাস্তবতা সামনে আসার পর, সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, “যে ঋণগুলি পুরোপুরি পচে গেছে, সেগুলো অবলোপন করা উচিত। নতুন করে একটি সৎ এবং স্বচ্ছভাবে যাত্রা শুরু করলে নতুন আয় সৃষ্টি এবং রাজস্ব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।”

মাসরুর আরেফিন আরও বলেন, “আমি আশাবাদী, কারণ আমরা এখন বাস্তব অবস্থাটি জানি। কয়েকটি ব্যাংকের খারাপ পরিস্থিতি সত্ত্বেও, কিছু ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমিয়ে আসছে এবং তারা ভালো মানের ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ১৫-২০টি ভালো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪ শতাংশের নিচে, যা আশার দিক।”

তিনি মনে করেন, এটি একটি ব্যবস্থাপনার সমস্যা এবং এর সমাধান ‘হ্যান্ডহোল্ডিং’-এর মাধ্যমে, অর্থাৎ ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা করার মধ্যে নিহিত।

এবিবি চেয়ারম্যান বিশ্বাস করেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের তদারকি আরও শক্তিশালী করেছে। “কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি ও নজরদারি সঠিকভাবে কাজ করছে, যার ফলে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ এখন আরো সতর্ক,” বলেন তিনি।

ব্যাংকিং খাতে তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বর্তমানে আমাদের তারল্য ১৫৭.৫২ শতাংশ, যা একটি অস্বাভাবিক উচ্চতা। কিন্তু ঋণের চাহিদা নেই, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি এই সমস্যার মূল কারণ।”

মাসরুর আরেফিন আরও জানান, সরকার ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করছে এবং সেগুলোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো মুনাফা প্রদান করতে পারছে। তবে, তিনি বিশ্বাস করেন যে নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলাবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন গতি পাবে।

তিনি আরও বলেন, “ব্যাংকিং খাতে যে ধরনের অপচয়, অর্থপাচার এবং ভুয়া ঋণ বিতরণ হয়েছে, তা খুবই বিপজ্জনক। কিন্তু কিছু শক্তিশালী ব্যাংক ইতিমধ্যে আঞ্চলিক মানে উন্নীত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত।”

এবিবি চেয়ারম্যান শেষ করেন, “ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ থাকতে পারে, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত নিরীক্ষা করছে, এবং ব্যাংক খাতের সামগ্রিক চিত্র সবার কাছে স্পষ্ট। ১২.৫ শতাংশ ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি রেশিও থাকলেও, বর্তমানে তা ৪ শতাংশে নেমে গেছে, যা উদ্বেগজনক। তবে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।”

ট্যাগস :

ব্যাংক সিস্টেমের বাইরে ৩ লাখ কোটি টাকা, বললেন মাসরুর আরেফিন

আপডেট সময় : ০৫:১৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ কণ্ঠ।। বুধবার।। ২১.০১.২০২৬

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) এর চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন মঙ্গলবার এক সেমিনারে উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা নগদ অর্থ বা ‘ম্যাট্রেস মানি’ বর্তমানে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা।

এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, “বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে যে খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি বিদ্যমান, তা শুধু একটি সাধারণ এনপিএল সংকট নয়। এটি অনেক দিনের আড়াল করা বাস্তবতার ফলাফল।” মাসরুর আরেফিন আরও জানান, দেশে খেলাপি ঋণের প্রকৃত হার আগে ৩৫ শতাংশ ছিল, যদিও সরকারি তথ্য বলেছিল ৯ শতাংশ। তবে এখন এই বাস্তবতা সামনে আসার পর, সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, “যে ঋণগুলি পুরোপুরি পচে গেছে, সেগুলো অবলোপন করা উচিত। নতুন করে একটি সৎ এবং স্বচ্ছভাবে যাত্রা শুরু করলে নতুন আয় সৃষ্টি এবং রাজস্ব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।”

মাসরুর আরেফিন আরও বলেন, “আমি আশাবাদী, কারণ আমরা এখন বাস্তব অবস্থাটি জানি। কয়েকটি ব্যাংকের খারাপ পরিস্থিতি সত্ত্বেও, কিছু ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমিয়ে আসছে এবং তারা ভালো মানের ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ১৫-২০টি ভালো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪ শতাংশের নিচে, যা আশার দিক।”

তিনি মনে করেন, এটি একটি ব্যবস্থাপনার সমস্যা এবং এর সমাধান ‘হ্যান্ডহোল্ডিং’-এর মাধ্যমে, অর্থাৎ ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা করার মধ্যে নিহিত।

এবিবি চেয়ারম্যান বিশ্বাস করেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের তদারকি আরও শক্তিশালী করেছে। “কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি ও নজরদারি সঠিকভাবে কাজ করছে, যার ফলে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ এখন আরো সতর্ক,” বলেন তিনি।

ব্যাংকিং খাতে তারল্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বর্তমানে আমাদের তারল্য ১৫৭.৫২ শতাংশ, যা একটি অস্বাভাবিক উচ্চতা। কিন্তু ঋণের চাহিদা নেই, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি এই সমস্যার মূল কারণ।”

মাসরুর আরেফিন আরও জানান, সরকার ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করছে এবং সেগুলোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো মুনাফা প্রদান করতে পারছে। তবে, তিনি বিশ্বাস করেন যে নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলাবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন গতি পাবে।

তিনি আরও বলেন, “ব্যাংকিং খাতে যে ধরনের অপচয়, অর্থপাচার এবং ভুয়া ঋণ বিতরণ হয়েছে, তা খুবই বিপজ্জনক। কিন্তু কিছু শক্তিশালী ব্যাংক ইতিমধ্যে আঞ্চলিক মানে উন্নীত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত।”

এবিবি চেয়ারম্যান শেষ করেন, “ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ থাকতে পারে, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত নিরীক্ষা করছে, এবং ব্যাংক খাতের সামগ্রিক চিত্র সবার কাছে স্পষ্ট। ১২.৫ শতাংশ ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়েসি রেশিও থাকলেও, বর্তমানে তা ৪ শতাংশে নেমে গেছে, যা উদ্বেগজনক। তবে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।”