বাংলাদেশ কি দেশের বাইরে জিততে ভুলে যাচ্ছে?
- আপডেট সময় : ০২:৩৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৭ বার পঠিত

ওয়ানডে ফরম্যাটটাই বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে পছন্দের। এই ফরম্যাটে বাংলাদেশকে প্রায় ভালো দলে পরিণত হয়েছে বা হতে যাচ্ছে এমন কথাও বলা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সে ধারণাটা বদলাতে শুরু করেছে। এখন অনেকেরই প্রশ্ন বাংলাদেশ কি ওয়ানডেতে আগের জায়গায় আছে নাকি অবনমন ঘটেছে টাইগারদের?
এটা কথার কথা নয়, পরিসংখ্যান জানিয়ে দিচ্ছে বিশেষ করে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ওয়ানডে পরিসংখ্যানকে মানদণ্ড ধরলেই একটা কঠিন সত্য বেরিয়ে আসবে। কি সেই সত্য? যে বাংলাদেশ ওয়ানডেতে দেশের বাইরে ভালো খেলে না। তার একটি উদাহরণ হলো এ বছর বাংলাদেশ ১৩টি ওয়ানডেতে অংশ নিয়ে ৭টিতে জিতেছে তার ৬টিই দেশের মাটিতে। হয় ঢাকার শেরে বাংলায় না হয় চট্টগ্রামে। কিন্তু দেশের বাইরে বাংলাদেশ ওয়ানডেতে ভালোর চেয়ে খারাপ খেলছে। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে জিম্বাবুয়ের কাছে তিন ম্যাচের সিরিজ হেরেছে ২-১ এ। যথাক্রমে ২৫ ও ১৩ রানে। একটি ম্যাচ অবশ্য টাইগাররা জিতেছে ৭ উইকেটে। এবং পরিসংখ্যান জানাচ্ছে এই বছর একটি মাত্র ওয়ানডেতে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত দেশের বাইরে জিতেছে সেটা ওই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে। গতকাল সেই জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে আবুধাবিতে হারলো তানজিদ তামিম, তাওহিদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাসকিনরা।
এই পরাজয় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ভাগ্যকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। তিন জাতি ওয়ানডে আসরে বাংলাদেশের অন্য প্রতিপক্ষের নাম আফগানিস্তান। জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারে এখন বাংলাদেশের ফাইনাল খেলার পথ অনেক কঠিন হয়ে গেলো। আফগানিস্তানের সঙ্গে জেতা ছাড়া উপায় নেই এবং শুধু জিতলেই চলবে না আফগানিস্তান আর জিম্বাবুয়ের ম্যাচের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে। যদি আফগানিস্তান আবার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে দেয় তাহলে দেখা যাবে তিন দলেরও পয়েন্ট সমান হয়ে যেতে পারে। যেহেতু ৯৯ রানে হেরে বসে আছে প্রথম ম্যাচে টাইগাররা, সেক্ষেত্রে নেট রান রেটে ফাইনালের পথ রুদ্ধ হয়ে যেতে পারে বা বন্ধও হয়ে যেতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো বাংলাদেশ দেশের বাইরে গিয়ে কি জিততে ভুলে গেলো? নিজেদের সেরাটা দিতে বারবার কেন ব্যর্থ হচ্ছে টিম বাংলাদেশ? শুধু কি কন্ডিশনের কারণেই পারছে না বাংলাদেশ? জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হারের পর সবাই বলাবলি করেছেন জিম্বাবুয়ের যে দুই বোলার ফাস্ট বোলার সেই সিভাঙ্গা, ব্রেন্ট বেনেট, মাদুহারি এইসব বোলারদের বোলিংয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ সুবিধা করতে পারেনি তাই হেরেছে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠের উইকেট ছিল তুলনামূলক ফাস্ট ও বাউন্সি। সেই উইকেটে জিম্বাবুইয়ান ফাস্ট বোলাররা বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন। তাদের উচ্চতা বেশি। এনগারাভা, মুজারাবানি এই বোলারদের উচ্চতা ৬ ফুট ৪ ইঞ্চির উপরে। তাদের বলে বাড়তি বাউন্স ছিল সেটা তাদের নিজেদের উচ্চতার কারণেও এবং উইকেটের কারণেও। কিন্তু আবুধাবিতে তো বাউন্স ছিল না। পিচে ততটা প্রাণও ছিল না। কিন্তু সেই ম্যাচে ২৭১ করতে গিয়ে বাংলাদেশ যাচ্ছেতাই ব্যাটিং করে কি নাকানি চুবানি তাই না খেলো। এমনকি অফ স্পিনার সিকান্দার রাজার বল খেলতে গিয়েও বাংলাদেশের তাওহিদ হৃদয়দেরকে ভুল পথে হাঁটতে দেখা গেলো।
শুধু ব্যাটারদের দোষ দেয়া কেন? ২৪ রানে জিম্বাবুয়ের ৩ উইকেট ফেলার পরও বাংলাদেশের বোলাররা জিম্বাবুয়েকে ২০০ এর নিচে বহু দূরে সোয়া ২০০ ২৩০ এও আটকে রাখতে পারেনি। জিম্বাবুয়ে ২৭০ এর ঘরে পৌঁছে গেছে। তার মানে পরিষ্কার বাংলাদেশের বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা নেই। ব্যাটাররা ২৭১ তাড়া করতে গিয়ে লেজেগোবরে করে ফেলেছেন। দায়বদ্ধতা ছিল না, লক্ষ্য নিয়ে, দায়িত্ব নিয়ে, পরিকল্পনা অনুযায়ী একটু চমৎকার ব্যাটিং করবেন, গাণিতিক ব্যাটিং করবেন সোয়া ৫ রানের কিছু বেশি ওভার পিছু লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে গেলে যে একটু গুনে খেলতে হয় সেই গুনে ব্যাটিং করবেন তা না করে তানজিদ তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, নুরুল হাসান সোহানরা এলোমেলো ব্যাট চালালেন। সেই এলোমেলো ব্যাট চালানোরই করুণ পরিণতি ঘটলো গতকালকে আবুধাবির মাটিতে। সেটাই এখন চিন্তার কারণ। আবারও প্রশ্ন বাংলাদেশ কি তবে দেশের বাইরে ওয়ানডেতে জিততে ভুলে যাচ্ছে? হয়তো বলবেন হারারেতে তো তাও একটি জয়ের রেকর্ড আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান কিন্তু ভাবিয়ে তুলেছে। হারারের ওই একটি মাত্র জয় ছাড়া এই টুর্নামেন্টেই আবুধাবির মাটিতে কি আদৌ জয় ধরা দিবে সেটাই এখন দেখার।






















