দুই বিমানবন্দর থেকে সোয়া ৩ কোটি টাকার সোনা, মদ ও নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ
- আপডেট সময় : ১১:৩২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পঠিত

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই দিনে চারটি পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা মূল্যের সোনা, মদ, ডার্মাল ফিলার, স্কিন হোয়াইটেনিং ক্রিম ও ব্যবহৃত ল্যাপটপ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।
শনিবার (১৭ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটি জানায়, বৃহস্পতি ও শুক্রবার (১৫-১৬ অক্টোবর) পরিচালিত এসব অভিযানে ১১৭ গ্রাম সোনার বার, ৩০ লিটার মদ, ১৫৫টি ডার্মাল ফিলার ও স্কিন বুস্টার ইনজেকশন, ১ হাজার ১০৪ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম এবং ২৩টি ব্যবহৃত ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের মূল্য প্রায় ৩ কোটি ২২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, অবৈধ পণ্য আমদানি প্রতিরোধ এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি রোধে এসব অভিযান চালানো হয়। বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটের এক যাত্রীর কাছ থেকে ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ওই যাত্রীকে গ্রিন চ্যানেলে নজরদারিতে নেওয়া হয়।
যাত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান প্রথমে ১০০ গ্রাম সোনার ঘোষণা দেন। জিজ্ঞাসাবাদে সোনার বার বহনের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে অন্যান্য সংস্থার উপস্থিতিতে কাস্টমস হলরুমে দেহ তল্লাশি করে সোনার বারটি উদ্ধার করা হয়। আটক সোনার শুল্ক-করসহ আনুমানিক মূল্য ২১ লাখ ৬ হাজার টাকা।
একই দিন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক তৎপরতায় ৩০ লিটার মদ আটক করেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। মুম্বাই থেকে আসা এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২১৮৩ ফ্লাইটের এক যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে ১৬ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বিমানবন্দরের টয়লেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৭.৫ লিটার এবং অন্য দুই যাত্রীর কাছ থেকে আরও ৬.৫ লিটার মদ জব্দ করা হয়। আটক মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ টাকা। এছাড়া গত ১৬ অক্টোবর কলম্বো থেকে আসা শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের ইউএল-১৮৯ ফ্লাইটের এক যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে ৫৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা মূল্যের ১৫৫টি ডার্মাল ফিলার ও স্কিন বুস্টার ইনজেকশন আটক করা হয়। বেলা ১১টা ১৩ মিনিটে সন্দেহজনক ব্যাগেজ স্ক্যান ও পরীক্ষা করে এসব পণ্য উদ্ধার করা হয়। যাত্রী মো. রাকিব হোসেনের ব্যাগেজে চার ধরনের এসব ইনজেকশন ছিল।
জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে রেস্টিলেন লিডোকেইন ৫৫টি, রেস্টিলেন লিফট লিডোকেইন ৫৪টি, জুভেডার্ম ভলিউমা উইথ লিডোকেইন ৪০টি এবং প্রোফাইলো ৬টি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মুখের বলিরেখা কমানো, ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করতে এসব পণ্য ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া এগুলো ব্যবহার করলে সংক্রমণ, রক্তনালিতে বাধা, ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। আটক পণ্যগুলোর নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও আমদানির বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে ঢাকার বিমানবন্দরের ফরেন পোস্ট অফিসে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ১০৪ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ গৌরি স্কিন হোয়াইটেনিং ক্রিম এবং ২৩টি ব্যবহৃত কোর আই-৫ ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। জব্দ করা এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা।
কাস্টমস গোয়েন্দা জানায়, অননুমোদিত স্কিন হোয়াইটেনিং ক্রিমে ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকার আশঙ্কা রয়েছে। কিছু ত্বক ফর্সাকারী পণ্যে পারদ, অননুমোদিত স্টেরয়েডসহ ক্ষতিকর উপাদান থাকলে তা ত্বক, কিডনি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে জব্দ করা গৌরি ক্রিমে এসব উপাদান রয়েছে কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। অন্যদিকে আমদানি নিষিদ্ধ ব্যবহৃত ল্যাপটপের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ভোক্তাদের পণ্যের মান, কার্যক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। যথাযথ মান যাচাই ছাড়া এসব পণ্য বাজারজাত হলে ক্রেতারা আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে পারেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, বৈধ ব্যবসার স্বার্থ রক্ষা এবং রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও অন্যান্য শুল্ক স্টেশনে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।


















