ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন স্থাপনায় ইরাকি মিলিশিয়াদের বড় হামলার শঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের Logo সিলেটে সব পেট্রোল পাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের সিদ্ধান্ত Logo বাড়ছে আমদানি: সৌদি আরব থেকে আরও ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল Logo পহেলা বৈশাখ উদযাপনে ‘স্মুথনেস উইদাউট লিমিট’ প্রতিশ্রুতি নিয়ে উন্মোচিত হলো অপো এ৬কে Logo ৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানবযাত্রা, আজই উড়াল দিচ্ছে আর্টেমিস-২ Logo পারমাণবিক হামলার হুমকিতে ইরান দমতে রাজি নয় Logo সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন দিনের ধারাবাহিক ছুটি Logo আমিরাতে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে প্রাণ গেল বাংলাদেশির Logo আজ দায়িত্ব গ্রহণ করছে হাবিবুল বাশারের প্যানেল Logo ‘প্রিন্স’ ইস্যুতে নিজের ত্রুটি মেনে অকপট শাকিব খান

পারমাণবিক হামলার হুমকিতে ইরান দমতে রাজি নয়

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ ৩৩ বার পঠিত

ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। বুধবার ।। ০১ এপ্রিল ২০২৬ ।।


ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পারমাণবিক হামলার হুমকি থাকা সত্ত্বেও ইরান এতে একটুও ভীত নয়।

বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য রক্ষার ক্ষেত্রে ইরান দৃঢ়। রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদী মনে করেন, এই সংঘাত কেবল ইরানের বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি সমগ্র মুসলিম উম্মাহ ও ইসলামের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত আগ্রাসন। তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের উসকানিতে পা দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু করেছিলেন এবং এখন পরাজয়ের মুখে পালানোর পথ খুঁজছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওমানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক আলোচনা এগোচ্ছিল, ঠিক তখন যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাত চাপিয়ে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল করেছে। সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত জানান, হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশের ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজকে পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিল। তিনি যোগ করেন, ইরান কখনো যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চায় না, তবে হামলার মুখে নিজেদের রক্ষা করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। জাহানাবাদী বলেন, যুদ্ধের নামে আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের স্কুল, কলেজ, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ বাসভবনে হামলা চালিয়ে মানবাধিকারের লঙ্ঘন করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নিরীহ শিশু ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি পরাশক্তিদের জন্য সামরিক হুমকি হতে পারে? রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, প্রতিবেশি দেশগুলোতে থাকা ১৪টি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়ে ইরান সেগুলো ধ্বংস করেছে এবং ইউরেনিয়াম উদ্ধারের নামে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বর্তমানে ইরান ও বাংলাদেশ আটকে থাকা জাহাজ ও নাবিকদের মুক্তির জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেও যুদ্ধের বিষয়ে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কিছুটা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়েছে। জাহানাবাদী বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের ভাইপ্রতিম দেশ, তাই সংকটের সময়ে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ নয়, বরং এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট নিন্দা জানানো প্রয়োজন।’ তিনি সতর্ক করে দেন, যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘনকারী এই হামলার নিন্দা না জানায়, ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশও এমন আগ্রাসনের শিকার হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে স্বাগত জানাচ্ছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফার প্রস্তাবের কোনো উত্তর দেয়নি। পরিশেষে রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘের অকার্যকারিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদ এখন শক্তিশালী দেশগুলোর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, যারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রস্তাব পাস করতে পারেনি। অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, বিপদে জাতিসংঘের দিকে ভরসা না করে নিজেদের সাহায্য নিজেদেরই করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইরান কোনো প্রতিবেশি দেশকে আক্রমণ করছে না, বরং যারা মার্কিন ঘাঁটিতে অনুমতি দিয়ে ইরানের ওপর হামলার সুযোগ দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। বন্ধুত্বের খাতিরে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ইরানের এই অবস্থান জানানো হবে।

ট্যাগস :

পারমাণবিক হামলার হুমকিতে ইরান দমতে রাজি নয়

আপডেট সময় : ০৩:৫৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। বুধবার ।। ০১ এপ্রিল ২০২৬ ।।


ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পারমাণবিক হামলার হুমকি থাকা সত্ত্বেও ইরান এতে একটুও ভীত নয়।

বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য রক্ষার ক্ষেত্রে ইরান দৃঢ়। রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদী মনে করেন, এই সংঘাত কেবল ইরানের বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি সমগ্র মুসলিম উম্মাহ ও ইসলামের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত আগ্রাসন। তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের উসকানিতে পা দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু করেছিলেন এবং এখন পরাজয়ের মুখে পালানোর পথ খুঁজছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওমানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক আলোচনা এগোচ্ছিল, ঠিক তখন যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাত চাপিয়ে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল করেছে। সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত জানান, হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশের ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজকে পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরানের নিরাপত্তা কাউন্সিল। তিনি যোগ করেন, ইরান কখনো যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চায় না, তবে হামলার মুখে নিজেদের রক্ষা করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে। জাহানাবাদী বলেন, যুদ্ধের নামে আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের স্কুল, কলেজ, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ বাসভবনে হামলা চালিয়ে মানবাধিকারের লঙ্ঘন করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নিরীহ শিশু ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি পরাশক্তিদের জন্য সামরিক হুমকি হতে পারে? রাষ্ট্রদূত দাবি করেন, প্রতিবেশি দেশগুলোতে থাকা ১৪টি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়ে ইরান সেগুলো ধ্বংস করেছে এবং ইউরেনিয়াম উদ্ধারের নামে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বর্তমানে ইরান ও বাংলাদেশ আটকে থাকা জাহাজ ও নাবিকদের মুক্তির জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেও যুদ্ধের বিষয়ে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কিছুটা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়েছে। জাহানাবাদী বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের ভাইপ্রতিম দেশ, তাই সংকটের সময়ে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ নয়, বরং এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট নিন্দা জানানো প্রয়োজন।’ তিনি সতর্ক করে দেন, যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘনকারী এই হামলার নিন্দা না জানায়, ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশও এমন আগ্রাসনের শিকার হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে স্বাগত জানাচ্ছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফার প্রস্তাবের কোনো উত্তর দেয়নি। পরিশেষে রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘের অকার্যকারিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদ এখন শক্তিশালী দেশগুলোর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, যারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রস্তাব পাস করতে পারেনি। অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, বিপদে জাতিসংঘের দিকে ভরসা না করে নিজেদের সাহায্য নিজেদেরই করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইরান কোনো প্রতিবেশি দেশকে আক্রমণ করছে না, বরং যারা মার্কিন ঘাঁটিতে অনুমতি দিয়ে ইরানের ওপর হামলার সুযোগ দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। বন্ধুত্বের খাতিরে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ইরানের এই অবস্থান জানানো হবে।