ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

তথ্য পেয়েও ছুটতে পারে না ডিএনসি

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:২০:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ২২ বার পঠিত

জাহিদ হাসান ভূঁইয়া, গাজীপুর প্রতিনিধি :

গাজীপুরের শ্রীপুরের মাধখলা এলাকায় একটি বাড়িতে মাদক কেনাবেচার তথ্য পেয়েছিল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। কিন্তু তথ্য পেয়েও তাৎক্ষণিক অভিযান চালাতে পারেনি সংস্থাটি। কারণ, তখন টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অন্য একটি অভিযানে ব্যস্ত ছিল ডিএনসির দল। ওই অভিযানে মাদকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, গাড়ি ও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে শ্রীপুরের মাধখলায় দ্রুত পৌঁছে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। গত ৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে।

এমন ঘটনা গাজীপুর ডিএনসির জন্য নতুন নয়, এমন সংকট নিয়মিতই তৈরি হচ্ছে বলে জানা গেছে। জেলার ১৩ থানার প্রায় এক কোটি মানুষের মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে মাত্র ৩৬ জনের জনবল। এর মধ্যে মাঠপর্যায়ের এনফোর্সমেন্ট সদস্য ২৫ জন। আর পুরো জেলার জন্য যানবাহন রয়েছে মাত্র একটি। ফলে এক এলাকায় অভিযান চলার সময় অন্য কোথাও মাদকের তথ্য এলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। কখনো ভাড়া গাড়ি, এমনকি ইজিবাইকেও যেতে হয় কর্মকর্তাদের। এতে সময়ক্ষেপণের সুযোগে মাদক কারবারিরা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ডিএনসি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে গাজীপুরে ১ হাজার ১১৬টি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩০৯টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় আসামি করা হয় ৩৬২ জনকে। ওই বছর জব্দ করা হয় ২১ হাজার ৫৩২ পিস ইয়াবা, ২৩৮ দশমিক ৮৭১ কেজি গাঁজা, ৩৮৫ বোতল ফেনসিডিল, ৫ হাজার ১০০ অ্যাম্পুল ইনজেকশন, ৩১৫ লিটার চোলাই মদ, ৩ হাজার ৭০০ লিটার ওয়াশ/জাওয়া ও ৫৪২ পিস টাপেন্টাডল। জব্দ করা হয় একটি প্রাইভেটকার, একটি সিএনজি ও নগদ ১২ লাখ টাকা।

২০২৫ সালে অভিযান বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৫১টিতে। এসব অভিযানে ৫০২টি মামলা হয় এবং আসামি করা হয় ৫২৩ জনকে। জব্দ করা হয় ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪৫ পিস ইয়াবা, ৩০৫ কেজি গাঁজা, ১৬৫ লিটার চোলাই মদ, ৩৪৪ পিস টাপেন্টাডল, ৬০০ লিটার ওয়াশ, এক লিটার বিলাতি মদ ও একটি ট্রাক।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯০১টি অভিযানে ৪৬১টি মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৭৭ জনকে। এসময় ইয়াবা, গাঁজা, রেক্টিফাইড স্পিরিট, ইনজেকশন, টাপেন্টাডল, বিয়ার, বিদেশি মদ, এমডিএমএ/এক্সটাসি, কুশ, এলএসডি, ক্যানবিস চকলেট, চোলাই মদ ও ওয়াশসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক জব্দ করেছে ডিএনসি। পাশাপাশি একটি পিকআপ, একটি মোটরসাইকেল, একটি সিএনজি ও নগদ ২ লাখ ১২ হাজার ২০০ টাকা জব্দ করা হয়।

ডিএনসির কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে সময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারলে আসামি ও মাদক দুটিই হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু একটি গাড়ি দিয়ে ১৩ থানার বিস্তীর্ণ এলাকায় অভিযান, নজরদারি ও আসামি পরিবহনের কাজ করতে গিয়ে নিয়মিতই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।

গাজীপুর ডিএনসির উপপরিচালক মো. এমদাদুল ইসলাম মিঠুন বলেন, ‘মাদক-সংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়া মাত্রই অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু অনেক সময় গাড়ি সংকটে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। গাড়ি বা ইজিবাইক ভাড়া করে যেতে হয়। দূরের এলাকায় যেতে সময় বেশি লাগলে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। আবার আসামি আটকের পর দূরের পথ হলে তাকে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা হয়।’ তিনি বলেন, জনবল সংকট থাকলেও মাদক অপরাধ দমনে গাজীপুর ডিএনসি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। যানবাহন সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

জনবল ও যানবাহনের পাশাপাশি নিজস্ব কার্যালয়ও নেই গাজীপুর ডিএনসির। মহানগরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের শ্মশান মোড়ে ভাড়া ভবনে চলছে জেলা কার্যালয়ের কার্যক্রম। কর্মকর্তাদের মতে, আটক আসামি, জব্দ করা যানবাহন ও আলামত সংরক্ষণ এবং সদ্য অনুমোদিত অস্ত্রনীতিমালা অনুযায়ী অস্ত্রাগার নির্মাণের জন্য নিজস্ব কার্যালয় প্রয়োজন।

ডিএনসি কর্মকর্তারা আরও জানান, সংঘবদ্ধ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ঝুঁকি নিতে হয়। কয়েকটি অভিযানে তারা হামলারও শিকার হয়েছেন। এ কারণে ঝুঁকি ভাতা চালু হলে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে মাঠকর্মীদের উৎসাহ ও গতি বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।

তবে এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেড অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :

তথ্য পেয়েও ছুটতে পারে না ডিএনসি

আপডেট সময় : ০৭:২০:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

জাহিদ হাসান ভূঁইয়া, গাজীপুর প্রতিনিধি :

গাজীপুরের শ্রীপুরের মাধখলা এলাকায় একটি বাড়িতে মাদক কেনাবেচার তথ্য পেয়েছিল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। কিন্তু তথ্য পেয়েও তাৎক্ষণিক অভিযান চালাতে পারেনি সংস্থাটি। কারণ, তখন টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অন্য একটি অভিযানে ব্যস্ত ছিল ডিএনসির দল। ওই অভিযানে মাদকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, গাড়ি ও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে শ্রীপুরের মাধখলায় দ্রুত পৌঁছে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। গত ৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে।

এমন ঘটনা গাজীপুর ডিএনসির জন্য নতুন নয়, এমন সংকট নিয়মিতই তৈরি হচ্ছে বলে জানা গেছে। জেলার ১৩ থানার প্রায় এক কোটি মানুষের মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে মাত্র ৩৬ জনের জনবল। এর মধ্যে মাঠপর্যায়ের এনফোর্সমেন্ট সদস্য ২৫ জন। আর পুরো জেলার জন্য যানবাহন রয়েছে মাত্র একটি। ফলে এক এলাকায় অভিযান চলার সময় অন্য কোথাও মাদকের তথ্য এলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। কখনো ভাড়া গাড়ি, এমনকি ইজিবাইকেও যেতে হয় কর্মকর্তাদের। এতে সময়ক্ষেপণের সুযোগে মাদক কারবারিরা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ডিএনসি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে গাজীপুরে ১ হাজার ১১৬টি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩০৯টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় আসামি করা হয় ৩৬২ জনকে। ওই বছর জব্দ করা হয় ২১ হাজার ৫৩২ পিস ইয়াবা, ২৩৮ দশমিক ৮৭১ কেজি গাঁজা, ৩৮৫ বোতল ফেনসিডিল, ৫ হাজার ১০০ অ্যাম্পুল ইনজেকশন, ৩১৫ লিটার চোলাই মদ, ৩ হাজার ৭০০ লিটার ওয়াশ/জাওয়া ও ৫৪২ পিস টাপেন্টাডল। জব্দ করা হয় একটি প্রাইভেটকার, একটি সিএনজি ও নগদ ১২ লাখ টাকা।

২০২৫ সালে অভিযান বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৫১টিতে। এসব অভিযানে ৫০২টি মামলা হয় এবং আসামি করা হয় ৫২৩ জনকে। জব্দ করা হয় ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪৫ পিস ইয়াবা, ৩০৫ কেজি গাঁজা, ১৬৫ লিটার চোলাই মদ, ৩৪৪ পিস টাপেন্টাডল, ৬০০ লিটার ওয়াশ, এক লিটার বিলাতি মদ ও একটি ট্রাক।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯০১টি অভিযানে ৪৬১টি মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৭৭ জনকে। এসময় ইয়াবা, গাঁজা, রেক্টিফাইড স্পিরিট, ইনজেকশন, টাপেন্টাডল, বিয়ার, বিদেশি মদ, এমডিএমএ/এক্সটাসি, কুশ, এলএসডি, ক্যানবিস চকলেট, চোলাই মদ ও ওয়াশসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক জব্দ করেছে ডিএনসি। পাশাপাশি একটি পিকআপ, একটি মোটরসাইকেল, একটি সিএনজি ও নগদ ২ লাখ ১২ হাজার ২০০ টাকা জব্দ করা হয়।

ডিএনসির কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে সময়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারলে আসামি ও মাদক দুটিই হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু একটি গাড়ি দিয়ে ১৩ থানার বিস্তীর্ণ এলাকায় অভিযান, নজরদারি ও আসামি পরিবহনের কাজ করতে গিয়ে নিয়মিতই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।

গাজীপুর ডিএনসির উপপরিচালক মো. এমদাদুল ইসলাম মিঠুন বলেন, ‘মাদক-সংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়া মাত্রই অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু অনেক সময় গাড়ি সংকটে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। গাড়ি বা ইজিবাইক ভাড়া করে যেতে হয়। দূরের এলাকায় যেতে সময় বেশি লাগলে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। আবার আসামি আটকের পর দূরের পথ হলে তাকে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা হয়।’ তিনি বলেন, জনবল সংকট থাকলেও মাদক অপরাধ দমনে গাজীপুর ডিএনসি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। যানবাহন সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

জনবল ও যানবাহনের পাশাপাশি নিজস্ব কার্যালয়ও নেই গাজীপুর ডিএনসির। মহানগরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের শ্মশান মোড়ে ভাড়া ভবনে চলছে জেলা কার্যালয়ের কার্যক্রম। কর্মকর্তাদের মতে, আটক আসামি, জব্দ করা যানবাহন ও আলামত সংরক্ষণ এবং সদ্য অনুমোদিত অস্ত্রনীতিমালা অনুযায়ী অস্ত্রাগার নির্মাণের জন্য নিজস্ব কার্যালয় প্রয়োজন।

ডিএনসি কর্মকর্তারা আরও জানান, সংঘবদ্ধ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ঝুঁকি নিতে হয়। কয়েকটি অভিযানে তারা হামলারও শিকার হয়েছেন। এ কারণে ঝুঁকি ভাতা চালু হলে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে মাঠকর্মীদের উৎসাহ ও গতি বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।

তবে এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেড অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।