সংবাদ শিরোনাম :
সৎ মায়ের নির্মম নির্যাতনে অতিষ্ঠ প্রতিবন্ধী সুমি, অসহায় ছেলেও মায়ের রোষানলে।প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর।
বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
- আপডেট সময় : ০৪:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ ৭১ বার পঠিত

বাংলাদেশ কন্ঠ ।। রোববার ।। ১৭ মে ২০২৬ ।।
আলমগীর হোসেন আলম, কুমিল্লা ব্যুরো চিফ :
কুমিল্লা কোটবাড়ি বার্ড এর প্রয়াত সাবেক ইমাম মো: মুসলেহ উদ্দিন পিতা মৃত আলী আহমদ সরকার
সাং চাঁংগিনি।সদর দক্ষিণ থানা জেলা কুমিল্লা মুসলেহ উদ্দিনের স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সরজমিনে প্রকাশ :
কুমিল্লা কোটবাড়ি বার্ড মসজিদের প্রয়াত সাবেক ইমাম মোঃ মুসলেহ উদ্দিন সরকারের পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে চলমান পারিবারিক নির্যাতন, সম্পত্তি দখল ও মানবিক অবহেলার ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দ্বিতীয় স্ত্রী #ফরিদা আক্তার। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীর প্রতিবন্ধী কন্যা উম্মুল খায়ের মরিয়ম সুমি ( ৪৬), দীর্ঘদিন ধরে সৎ মায়ের নির্যাতন, অবহেলা ও অমানবিক আচরণের শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোসলেহ উদ্দিন সরকারের মৃত্যুর পর দ্বিতীয় সংসারের সন্তানদের নিয়ে বসবাসরত ফরিদা আক্তার প্রথম স্ত্রীর সন্তান সুমিকে কখনোই স্বাভাবিকভাবে মেনে নেননি। অভিযোগ রয়েছে, সুমির প্রতি নিয়মিত মানসিক নির্যাতন, গালিগালাজ, শারীরিকভাবে হেনস্তা, ঠিকমতো খাবার না দেওয়া এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো। প্রতিবন্ধী হওয়ায় সুমি প্রতিনিয়ত অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দ্বিতীয় স্ত্রী ফরিদা আক্তার, ২য় সংসারের ৩য় এবং ৪র্থ মেয়ে যথাক্রমে ফাতেমা এবং আমেনা।
সৎ মা এবং সৎ বোন ফাতেমা আমেনেরা অত্যাচার করেছে এবং মেনেও নেয়নি। জানালা বিহীন আবদ্ধ রুমে আটকে রেখেছে যেন বাহিরে কারো সাথে যোগাযোগ করতে না পারে। রোদ পোহানোর জন্য উঠানেও যেতেও দেওয়া হয় না যদি মানুষের সাথে অত্যাচারের কথা প্রকাশ করে দেয়। একই ভয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেও নেয়া হয়না। পরিবার সূত্রে জানা গেছে প্রয়াত মোসলেহ উদ্দিন সরকার জীবদ্দশায় সন্তানদেরকে সম্পদ ভাগ বন্টন করে যান। বর্তমানে এই বন্টন ফরিদা আক্তার না মেনে নিজের ইচ্ছা মত দুই মেয়েকে নিয়ে পুরো সম্পদ ভোগ দখল করছে আর বাকি চার সন্তানকে মাহরুম করছেন। এছাড়াও বাড়ি ভাড়া, দোকানঘর ভাড়া এবং মৃত মোসলেহ উদ্দিন সরকারের পেনশনের অর্থও বর্তমানে ফরিদা আক্তার এককভাবে ভোগদখল করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবন্ধী সৎ মেয়ে সুমির মামা খালারা তাকে দেখতে আসলে তাদেরকেও ঘরে ঢুকতে দেয়া হতো না। গেইটে তালা দিয়ে রাখতো।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো—নিজ মায়ের এমন অমানবিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় রোষানলে পড়েন তারই ছেলে মোঃ মইনুদ্দিন ফয়েজ। মাস্টার্স পাস করা শিক্ষিত এই যুবক দীর্ঘদিন পারিবারিক সম্মানের কথা চিন্তা করে নীরব থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিও শুরু হয় মানসিক চাপ, অপমান ও নানা ধরনের নির্যাতন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রয়াত মুসলেহ উদ্দিন জীবদ্দশায় বিজয়পুর ভূমি অফিস, মৌজা চাঙ্গিনীতে সম্পত্তির অংশীদারিত্ব নির্ধারণ করে যান। রেকর্ড অনুযায়ী, ফরিদা আক্তারের নামে ০.৫৬৬ অংশ এবং মুসলেহ উদ্দিনের নামে ০.৪৩৪ অংশ সম্পত্তি রয়েছে। এছাড়া বাড়ি ভাড়া, দোকানঘর ভাড়া এবং মৃত মুসলেহ উদ্দিনের পেনশনের অর্থও বর্তমানে ফরিদা আক্তার এককভাবে ভোগদখল করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ফয়েজ বর্তমানে বেকার অবস্থায় জান্নাতুল ফেরদৌস স্ত্রী ও এক বছরের সন্তান নিয়ে চরম কষ্টে জীবনযাপন করলেও মা তার প্রতি কোনো আর্থিক সহায়তা করছেন না। বরং সৎ বোন সুমির পক্ষ নেওয়ায় ছেলেকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সামাজিকভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ফরিদা আক্তার তা উপেক্ষা করেন। পরবর্তীতে তিনি সদর দক্ষিণ থানায় ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ থানার এএসআই তোহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “যেহেতু এটি পারিবারিক বিষয়, তাই উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আইনগত ও মানবিক দিক বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” স্থানীয় এক গণ্যমান্য ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিবন্ধী মেয়ের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই মানবিক হতে পারে না। সমাজের সিদ্ধান্ত না মেনে বিষয়টি আইনের দিকে নেওয়া হয়েছে। এখন প্রশাসনকেই কঠোরভাবে এগিয়ে আসতে হবে।” প্রতিবন্ধী উম্মুল খায়ের মরিয়ম সুমির তার মায়ের অত্যাচারিত মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন মারদরের সার্বিক ভিডিও ফুটেজ প্রতিবেদকের কাছে পৌঁছেছে এতই নির্মম নির্যাতন হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ এবং পরিবারটির কথা চিন্তা করে প্রতিবেদক ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ থেকে বিরত আছেন তাছাড়া পারিবারিক সমস্যার কারণে ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করা গেল না। এদিকে, নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে প্রতিবন্ধী সুমি ও ফয়েজ সদর দক্ষিণ থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। তারা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এই বিষয়ে ফরিদা আক্তার সহিত যোগাযোগ করেও ব্যর্থ হয় প্রতিবেদক। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, পারিবারিক আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই নির্যাতনের ঘটনা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।


















