ঢাকা ১০:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গাজীপুরে সকালে মহাসড়কে সংঘর্ষ-বিক্ষোভ, বিকেলে স্বাভাবিক; ৩৫ কারখানায় ছুটি Logo গাজীপুরে একজনকে আটকের পর আরেক অভিযান, ২৪৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ Logo বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের DFO আমিনুলের বিরুদ্ধে ১৬ দফা অনিয়মের অভিযোগ, অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবি Logo দেশে অনার ৬০০এসের বিক্রি শুরু, পাওয়া যাবে ড্যাজলে Logo নওগাঁয় জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ, রাজস্ব হারানোর শঙ্কা ১০ কোটি টাকা Logo নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে: বিসিবির আইনজীবী Logo মিশিগানে ইতিহাস গড়ে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল আল–সাইদ Logo মজুরি বোর্ড – ডিসেম্বরে চূড়ান্ত হবে পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামো Logo ভিভো ভি৮০-এর রং, ডিজাইন ও ক্যামেরায় মুগ্ধ হবে সবাই! Logo স্ন্যাপড্রাগন ফাইভজি প্রসেসরসহ রেডমি ১৭ ফাইভজি উন্মোচন করল শাওমি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার গৃহবন্দী, ৩ দিন অনাহারে শিশুসহ পরিবারের ৬ সদস্য 

বাংলাদেশ কণ্ঠ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৫:২৫:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ১৯৮ বার পঠিত
মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ায় এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে গৃহবন্দী রেখে, তাদের ছোট ছোট শিশুদের ৩ দিন ধরে অনাহারে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, রূপসদী দক্ষিণপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহের আলীর পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধে জড়িত। সম্প্রতি প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাড়ির প্রধান ফটক বাইরে থেকে আটকে দেয়। ফলে পরিবারের ৬ সদস্য, যার মধ্যে ৩ জন শিশু রয়েছে, তারা ঘর থেকে বের হতে পারছে না।   গৃহবন্দী থাকার কারণে ঘরে থাকা শুকনো খাবারও শেষ হয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ খাবার দিতে গেলেও তাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে শিশুরাহ পরিবারের সবাই ৩ দিন ধরে প্রায় অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহের আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আর আজ নিজের বাড়িতেই বন্দী। বাচ্চারা খাবারের জন্য কান্নাকাটি  করছে। প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।   মুক্তিযোদ্ধা জাহের মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমাদের রান্নাঘরেও আমরা যেতে পারি না। তিন দিন ধরে আমরা অনাহারে আছি। সাথে তিনটা বাচ্চাও আছে ঘরে।  ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে বাঞ্ছারামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজখবর নেন। বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, রান্নাঘরটা অন্য বাড়িতে পড়েছে। গ্রামের মেম্বারের সাথে কথা হয়েছে, চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে। খুলে দিবে বলেছে। অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টা আমরা দেখতেছি। তাদের ঠিকানাটা একটু দিয়েন আমাকে। আমি ব্যবস্থা নিবো। সমাজসেবা অফিসকে বিষয়টি জানালে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন জানান,  আমরা জানি না তবে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নিবো।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি জানার পর এলাকায চরম ক্ষোভও উত্তেজনা  বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রতিপক্ষ সাহিদা বেগম জানান, এই জায়গা আমাদের, আমাদের জায়গা আমরা বেড়া দিয়েছি। জায়গা আমি কিনে রেখেছি। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে বেড়া খুলে দিবো।
ট্যাগস :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার গৃহবন্দী, ৩ দিন অনাহারে শিশুসহ পরিবারের ৬ সদস্য 

আপডেট সময় : ০৫:২৫:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
মনিরুজ্জামান মনির, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ায় এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে গৃহবন্দী রেখে, তাদের ছোট ছোট শিশুদের ৩ দিন ধরে অনাহারে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, রূপসদী দক্ষিণপাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহের আলীর পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধে জড়িত। সম্প্রতি প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাড়ির প্রধান ফটক বাইরে থেকে আটকে দেয়। ফলে পরিবারের ৬ সদস্য, যার মধ্যে ৩ জন শিশু রয়েছে, তারা ঘর থেকে বের হতে পারছে না।   গৃহবন্দী থাকার কারণে ঘরে থাকা শুকনো খাবারও শেষ হয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ খাবার দিতে গেলেও তাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে শিশুরাহ পরিবারের সবাই ৩ দিন ধরে প্রায় অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহের আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আর আজ নিজের বাড়িতেই বন্দী। বাচ্চারা খাবারের জন্য কান্নাকাটি  করছে। প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।   মুক্তিযোদ্ধা জাহের মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমাদের রান্নাঘরেও আমরা যেতে পারি না। তিন দিন ধরে আমরা অনাহারে আছি। সাথে তিনটা বাচ্চাও আছে ঘরে।  ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে বাঞ্ছারামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজখবর নেন। বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, রান্নাঘরটা অন্য বাড়িতে পড়েছে। গ্রামের মেম্বারের সাথে কথা হয়েছে, চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে। খুলে দিবে বলেছে। অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টা আমরা দেখতেছি। তাদের ঠিকানাটা একটু দিয়েন আমাকে। আমি ব্যবস্থা নিবো। সমাজসেবা অফিসকে বিষয়টি জানালে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন জানান,  আমরা জানি না তবে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নিবো।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি জানার পর এলাকায চরম ক্ষোভও উত্তেজনা  বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রতিপক্ষ সাহিদা বেগম জানান, এই জায়গা আমাদের, আমাদের জায়গা আমরা বেড়া দিয়েছি। জায়গা আমি কিনে রেখেছি। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে বেড়া খুলে দিবো।