বেনজীরকে ফেরাতে দুদকের ৬ মামলার নথি যাচ্ছে দুবাই
- আপডেট সময় : ০৬:১৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ ৫১ বার পঠিত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আটক সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক Benazir Ahmed-কে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া জোরদার করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে সহজ ও কার্যকর রাখতে প্রাথমিকভাবে শুধু দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা পাসপোর্ট জালিয়াতি ও দুর্নীতিসংক্রান্ত ছয়টি মামলার নথি সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব নথি পাওয়ার পর বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আমিরাতের আদালত।
সূত্র জানায়, নথিপত্র প্রস্তুত হলে তা প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখায় পাঠানো হবে। সেখান থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাওয়ার পর আমিরাতের কর্তৃপক্ষ নথিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। তারা দেখবে, বাংলাদেশে যে অভিযোগে বেনজীরকে ফেরত চাওয়া হচ্ছে, সেগুলো আমিরাতের আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় কি না। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট ১৭টি মামলা, দুদকের ৬টি মামলা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) ৩টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তবে প্রত্যর্পণ আবেদনে শুধু দুদকের মামলাগুলোর তথ্যই অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মধ্যে একটি মামলায় জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার অনুবাদ ইতোমধ্যে আরবি ভাষায় সম্পন্ন হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসংক্রান্ত মামলাগুলোতে অনেক ক্ষেত্রে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক আসামির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এসব মামলা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হিসেবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ থাকতে পারে। একইভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিষয়েও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার কিছু আপত্তি রয়েছে। তাই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা এড়াতে এসব নথি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না।
সরকারের লক্ষ্য, বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার পথে যেন কোনো আইনি বা তথ্যগত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়। এ কারণে পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) দুদকের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুতের কাজে সহায়তা করছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব Monjur Morshed Chowdhury জানান, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাতে হবে এবং তা দ্রুতই করা হবে। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও পারস্পরিক আইনি সহায়তা (এমএলএআর) ব্যবস্থার মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হবে।
অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) Khondkar Rafiqul Islam জানান, রেড নোটিশ জারির পর পুলিশের মূল দায়িত্ব শেষ হয়েছে। এখন নথিপত্র প্রস্তুত ও কূটনৈতিক কার্যক্রমের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দুদকের ওপর।
দুদকও বেনজীরের বিরুদ্ধে থাকা অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং, পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ ছয়টি মামলার নথি চূড়ান্ত করছে। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিগগিরই কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি Mohammad Aminul Islam জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে প্রায় ১০টি মামলার তদন্ত চলছে। তার দাবি, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং অন্যান্য গুরুতর অভিযোগে বেনজীরের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা গেলে চলমান বিচার ও তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




















